kalerkantho


লস অ্যাঞ্জেলসের ব্যস্ত সড়কের নিচে ম্যামথের ফসিল!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:২০



লস অ্যাঞ্জেলসের ব্যস্ত সড়কের নিচে ম্যামথের ফসিল!

ম্যামথের খুলিটি দেখছেন লেগার

প্রাণীটির দেহাবশেষ জীবাশ্ম হয়ে গেছে। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাংশ দাপড়িয়ে বেড়াতো। সেই প্রাণীর জীবাশ্ম মিলল লস অ্যাঞ্জেলসের এক ব্যস্ত রাস্তার নিচে! পাতালরেল বৃদ্ধির জন্যে কাজ চলছে ওখানে। এক কর্মী মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো এই ফসিল। 

এ ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলস ট্রান্সপোর্টেশন কর্মকর্তারা জীবাশ্মবিদ অ্যাশলে লেগারকে ওই অঞ্চলে বাকি কাজের সময় কর্মীদের সঙ্গে থাকার পরামর্শ দেন। সেখানে পাতালরেলের পরিধি বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে ২০১৪ সালে। ফোনে নির্দেশনা আসার পর পরই গায়ে নিওন ভেস্ট আর চোখে শক্ত নিরাপত্তা চশমা লাগিয়ে মাটির গভীরে নেমে যান তিনি। নিজের কাজ করতে থাকেন। তখন থেকেই এখানে খরগোশের চোয়াল, প্রস্তর হয়ে যাওয়া হাতির দাঁত, উটের সামনের পা, বাইসনের মেরুদণ্ড আর ঘোড়ার পায়ের হাড় পাওয়া যায়। এগুলো এই ব্যস্ত আধুনিক শহরটির সেই সময়কার অবস্থা স্পষ্ট করে। তখন এখানে বনাঞ্চল আর ঘাসের বিস্তর ভূমি ছিল। লস অ্যাঞ্জেলসের ১০ হাজার বছর আগেকার চেহারা দেখাচ্ছে এই প্রাণীরা। 

কিন্তু লেগারের মাথা ঘুরে যায় বছরখানেক আগের এক আবিষ্কারে। সাইটের এক জায়গায় বড় কিছু চোখে পড়ে তার। জীবাশ্মবিদদের দলটি খননকার্য চালিয়ে ওটাকে বের করে আনেন। টানা ১৫ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসে এক কিশোর ম্যামথের খুলি! 

বিলুপ্ত প্রাণীদের মধ্যে ম্যামথ অন্যতম আকর্ষণ ছড়ায় সবার মাঝে। দক্ষিণ ডাকোটায় ম্যামথদের এলাকা চষেও লস অ্যাঞ্জেলসের এই খুলিটার মতো একটাও জীবাশ্ম মেলেনি। সবকিছুই কেমন যেন অদ্ভুত। এমন একটা ফসিল কোনো জীবাশ্মবিদ তার সারাজীবনে একটা পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। 

কাজ চলছে এমন বেশ কিছু সাইটে বিজ্ঞানীদের পাঠিয়ে দিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষ। 

জীবাশ্মবিদ ড. এমিলি লিন্ডসে বলেন, কম বয়সী এই ম্যামথের একটি খুলির ওজনই কয়েক শত পাউন্ড। এটার আকার একটা ইজি চেয়ারের সমান। এমন খুলি মেলে না, কারণ দুটো দাঁতই এর সঙ্গে সেঁটে রয়েছে। এগুলো এখন মানুষের দেখার জন্যে প্রদর্শিত হচ্ছে। 
সূত্র : ফক্স নিউজ 



মন্তব্য