kalerkantho


যে বাজারে প্রায় সব উদ্যোক্তাই নারী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫১



যে বাজারে প্রায় সব উদ্যোক্তাই নারী

বাজারটি বেশ ছিমছাম। আয়তনেও বড়। প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায় এ বাজারে। সকাল বিকাল ভিড় লেগেই থাকে। বাজারে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ক্রেতা। বিক্রেতার বেশিরভাগই নারী। মাংস, শাকসবজি তরকরি, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানি নারী। উদ্যোমী নানা বয়সী নারীরা এ বাজারে ব্যবসা করছেন। তবে কিছু সংখ্যক দোকানে নারী ব্যবসায়ীদের সহযোগী হিসেবে পুরুষদের দেখা মেলে। নারী ব্যবসায়ি ও নারী ক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই বাজার বৌবাজার নামেই অধিক পরিচিত।  

রাজধানীর দক্ষিণ পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে এবং দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর ডান পাশে গড়ে উঠেছে এই বাজার।

স্থানীয়রা এ বাজারকে কাঠুরিয়া বউ বাজার বলেও ডাকে।

এই বাজারে প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান রয়েছে। বাজারের অধিকাংশ দোকানদার নারী। তাদের স্বামী ও সন্তানরা পুরান ঢাকার পাইকারি শ্যামবাজার থেকে কাঁচা তরকারি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে এই বাজারে নিয়ে আসেন। নারীরা সারাটি দিন দোকানে বসে এ সকল পণ্য বিক্রি করেন। বাজারের একজন নারী বিক্রেতা জানান, এ বাজারের ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী। দোকানদারও নারী।

১৯৮৮ সালের গোড়ার দিকে এ বাজারটির যাত্রা শুরু হয় কেরাণীগঞ্জের আগানগরের ইমামবাড়ীতে। ২০০১ সালে বুড়িগঙ্গা সেতরু নির্মাণ কাজ শেষ হলে তখন পাশের সরকারি অধিগ্রহণ করা খোলা জায়গায় বাজারটি বসে। মুন্সিগঞ্জের নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারীরা এ বাজারে প্রথমে বিভিন্ন তরিতরকারির বেচাকেনা শুরু করে। আর তাদের স্বামীরা করেন বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের কাজ। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ক্রেতার সমাগম ঘটে এ বাজারে। মিটফোর্ড বাবুবাজার হয়ে বুড়িগঙ্গা সেতু পার হলেই হাতের ডান দিকেই এই বাজার।  

আলেয়া নামের এক দোকানদার বলেন, সকালের দিকে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে, পা ফেলানোর জায়গা পযর্ন্ত থাকে না। বাজারে আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের প্রায় সবাই নারী। স্বামীরা চাকরি করেন, অন্য কোথাও কাজের জন্য বাইরে গেছেন। আর বাজারের টাকা দিয়ে গেছেন বউদের হাতে। তখন তারাই বাধ্য হয়ে কাঁচা বাজার করতে আসেন।  

কেরাণীগঞ্জ ও জিনজিরার অন্যান্য বাজারের তুলনায় এই বাজারের জিনিসপত্রের দাম ১০-১৫ টাকা কম।  

এ সম্পর্কে হালিমা নামের এক ক্রেতা বলেন, এই বাজারের অন্য জায়গার তুলনায় দাম অনেক কম থাকে বলে সবাই এখানে আসেন। এখানে দাম কম এবং বিক্রিও বেশি।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এখানে টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকা। যা অন্যখানে ৮০টাকা। আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা। অন্যখানে ২৬ টাকা। পিয়াজ প্রতি কেজি ৭০ টাকা। অন্যখানে ৮-৯টাকা। বেগুন প্রতিকেজি ৩০ টাকা। অন্যখানে ৪০ টাকা। তুলনামূলক অন্যান্য পণ্যের চেয়ে পিয়াজের বিক্রি থাকে বেশি।  

বাজারটির দোকান ভাড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে লিলি বেগম নামে এক নারী ব্যবসায়ি জানান, ৩-৪ বর্গফুটের দোকানের ভাড়া দিন প্রতি ২০০ টাকা। এর মধ্যে যে পজিশনের মালিক সে পায় ১০০ টাকা। আর বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ বাবদ নেওয়া হয় ১০০ টাকা করে। - বাসস।


মন্তব্য