kalerkantho


কাস্টমার বাড়লে খেতে পায় না বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া যৌনকর্মীরাও

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:০০



কাস্টমার বাড়লে খেতে পায় না বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া যৌনকর্মীরাও

খাওয়া-ঘুম হোক বা না হোক, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ জনকে তুষ্ট করতে বাধ্য করা হয় শহরের নাবালিকা যৌনকর্মীদের। ব্যস্ত দিনগুলিতে সেই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলে তিরিশের কোঠাও। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে তাদের মারধর করা হয় লাঠি এবং রড দিয়ে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন’এর রিপোর্টে মিলেছে এমনই তথ্য!

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবালিকা যৌনকর্মীদের প্রতিদিন সাত থেকে ১৮ জন কাস্টমারকে তুষ্ট করতে হয়। সমীক্ষকদের কাছে একাধিক নাবালিকা জানিয়েছে, ব্যস্ত দিনগুলিতে খদ্দেরের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০-৩৫ জন। খদ্দের কতজন, তার উপরে নির্ভর করে খাওয়া এবং ঘুম। বিশেষত, রাতের খাবারের কোনও ঠিক থাকে না। একজন নাবালিকা যৌনকর্মী সমীক্ষকদের জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একবার খেতে পায় তারা। ভাল ‘কাজ’ না করলে সেই খাবারটুকুও জোটে না।

রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নাবালিকাকেই দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করতে হয়। প্রাথমিকভাবে মারধর করে দালাল এবং ‘ম্যাডামে’র লোকজন। তবে খদ্দেরদের একাংশও মারধর করে নাবালিকা যৌনকর্মীদের। এমনকী, খুন করার হুমকিও দেওয়া হয় তাদের। এক নাবালিকা যৌনকর্মী সমীক্ষকদের জানিয়েছে, সে কাঁদলেই মারধর করা হতো। এছাড়া, ঠিক সময়ে উঠে ক্রেতাদের ‘অ্যাটেন্ড’ না করতে পারলেও চালানো হয় নির্যাতন।

সমীক্ষকরা যতজন নাবালিকা যৌনকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ম্যানেজারেরা কন্ডোম ব্যবহার করতে উৎসাহ দেয় ঠিকই। কিন্তু যে ক্রেতারা কন্ডোম ব্যবহার করতে চায় না, তাদের না বলার অধিকার থাকে না ওই নাবালিকাদের। এছাড়া, নাবালিকা যৌনকর্মীদের একাংশকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। ক্রেতারা যে অর্থ দেয়, তার সামান্য অংশই হাতে পায় নাবালিকারা। বাকিটা চলে যায় ম্যানেজারদের হাতে।

যারা নাবালিকাদের যৌনপেশায় নিয়ে আসে, তাদের মধ্যে বন্ধু, প্রেমিক, পরিবারের সদস্য থেকে অপরিচিত- সকলেই রয়েছে। কখনও ভাল চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কখনও প্রেমের ফাঁদ পেতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি নেপাল বা বাংলাদেশ থেকেও নিয়ে আসা হয় তাদের। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিনদেশ থেকে আসা নাবালিকাদের অধিকাংশই কাঁটাতার পেরনোর কথা জানতে পেরেছে যৌনব্যবসায় নামার পরে।


মন্তব্য