kalerkantho


মিসর হামলা নিয়ে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর উদ্দেশ্য আসলে কী?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:৩০



মিসর হামলা নিয়ে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর উদ্দেশ্য আসলে কী?

সংবাদমাধ্যমে কীভাবে ভুয়া ছবি ব্যবহার করা হয়, তার প্রমাণ মিলেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১র হামলার পর। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল-কায়েদার বিমান হামলার সময় বিশ্বখ্যাত একটি টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল উচ্ছ্বাসের ভিডিও।

কিছু অল্প-বয়সী ছেলেমেয়ে, তাদের পরনে একই ধরনের পোশাক। প্রত্যেকেই উল্লাস করছে, আর হাতে হাত মেলাচ্ছে।

সেই টেলিভিশন চ্যানেলে বলা হয়েছিল এই ভিডিওটি ফিলিস্তিনের। সেখানকার জঙ্গি মনোভাবাপন্ন এইসব কিশোর-কিশোরীরা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার বিজয়োৎসব পালন করছে। কিন্তু, দিন কয়েকের মধ্যেই জানা যায়, ছবিটা ফিলিস্তিনের হলেও, তাতে দেখতে পাওয়া কিশোর-কিশোরীরা তাদের পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত-এর বিয়ে অনুষ্ঠানকে সেলিব্রেট করছে। আর ভিডিওটি তোলা হয়েছিল ২০০০ সালের আগে। আর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা হয়েছিল ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।

সেই বিখ্যাত মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছিল বিশ্ব। যেখানে কাতারে কাতারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

সন্ত্রাসের ভয়াবহতাকে একদম সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করছে বিশ্ব, সেখানে এমনভাবে একটি পুরনো ছবিকে জুড়ে দেওয়ার মানেটা কী?  ২০০১ সালের সেই 'ভুয়া' ছবি দেখানোর প্রবণতাই যে প্রথম ছিল তা নয়। ওই ঘটনার সূত্রেই সামনে এসেছিল আরো একটি তথ্য। যে ১৯৯০ সালে 'গালফ ওয়ার' বা 'উপসাগরীয় যুদ্ধ'-এও এই মার্কিন টেলিভিশন সংস্থা বহু ফেক ভিডিও তৈরি করে বিশ্বের সামনে হাজির করেছিল।

এই 'ফ্যাব্রিকেটেড জার্নালিজম'-যে এখন চলছে তার জ্বলন্ত প্রমাণ পাওয়া গেল শুক্রবার মিসরের হামলায়। শুক্রবার সিনাই-এর এই মসজিদেই হামলা হয়, আসল ছবি বহু মানুষই এই ঘটনার বিস্তারিত পেতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সোশাল মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানেই দেখা গেল একের পর এক ফেক-ছবি ও ভিডিও-তে মিসরের সিনাই প্রদেশের হামলার বলে দাবি করা হয়েছে।

যেমন, এই ছবিটি। বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত একটি বহুতলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ। এই ছবিটি সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করে আল-আরাবি নামে একটি সংস্থা। কিন্তু, পরে জানা যায় এই ছবিটি ২০১৫ সালে তোলা হয়েছিল। এই ঘটনায় আটজনের মৃত্যুও হয়েছিল। কিন্তু, সেই পুরনো ছবিকেই শুক্রবার সিনাই প্রদেশে আক্রান্ত মসজিদের ছবি বলে চালিয়ে দেয় আল-আরাবি।

ফেক ছবি এখানেই শেষ নয়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বহু সোশাল মিডিয়া ইউজার একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। তারা জানতেন যে এই ভিডিওটি মিসরের সিনাই প্রদেশের হামলার ছবি। কিন্তু, জানা যায় মোহাম্মদ বোলান্দি নামে এক ব্যক্তি ২০১৫ সালে এই ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন। সৌদি আরবের একটি মসজিদে হামলার ভিডিও ছিল এটি। মনে করা হচ্ছে সৌদি আরবের মসজিদে হামলার ভিডিওটির ছবির কোয়ালিটিকে খারাপ করে নতুন করে শুক্রবার সোশাল মিডিয়ায় কেউ আপলোড করেছিল। যাতে ভিডিওটির মূল সূত্রকে ধরা না যায়।

এমনকি, শুক্রবার আরো একটি ছবি বিপুলভাবে শেয়ার হয় সোশাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায় জঙ্গিদের হামলায় মসজিদের মিনারটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু, পরে সিনাই প্রদেশের আক্রান্ত মসজিদের ছবি যখন সামনে আসে তখন দেখা যায় তার মিনার এবং গম্বুজ ঠিকই আছে।

আরো পড়ুন : মসজিদে হামলার বদলা নেবে সশস্ত্র বাহিনী : সিসি


মন্তব্য