kalerkantho


আমাদের সৌরজগতে নতুন আগন্তুক, এলিয়েনের ঘোরাঘুরি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ২০:৫২



আমাদের সৌরজগতে নতুন আগন্তুক, এলিয়েনের ঘোরাঘুরি!

আমাদের সৌরজগতে এর আগে অচেনা কারো আগমন ঘটেনি। কিন্তু এক আগন্তুকের খবর পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

খুব বেশি দিন হয়নি। একমাস আগে দ্রুতগতির কিছু একটা শনাক্ত করে মহাকাশচারীরা। পরে জানা গেছে, ওটা একটা গ্রহাণু। এই পাথুরে গ্রহাণুই আমাদের সৌর জগতের একমাত্র এলিয়েন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যে নাম পেয়েছে এই আগন্তুক- 'এ/২০১৭ইউ১' বা 'ওউমুয়ামুয়া (আসলে উচ্চারণটা হবে ওহ-মু-আহ-মু-আহ)'। এ শব্দের অর্থ হলো 'অতীত থেকে আসা এক দূত'।  

আমাদের সৌরজগতে যা কিছু আছে তাদের অধিকাংশই উপকৃত্তাকার বা সূর্যকে কেন্দ্র করে গোলাকার পথে ঘোরে। কিন্তু ওউমুয়ামুয়া'র বিষয়টি ভিন্ন। এটা হাইপারবোলিক-এ বা অনেকটা ইংরেজি 'ইউ' অক্ষরের আকৃতিতে ঘুরছে।

আমাদের সৌরজগতের আর কোনো গ্রহাণু নেই যা এত দ্রুত ছুটছে।  

ওউমুয়ামুয়া'র বিষয়টি সত্যিই বিদঘুটে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই এর একদল বিজ্ঞানী টেলিস্কোপের মাধ্যমে প্যান-স্টারআরএস১ অঞ্চলে এটাকে দেখতে পায়। এটা অন্যগুলোর মতো নয়। এটা প্রায় সিকি মাইল লম্বা। আর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩০ ফুটের মতো। এর আকৃতি অনেকটা সম্প্রসারিত বলে মনে হয়। প্রতি ৭ ঘণ্টা ৩ মিনিট পর এটি নিজেই ঘুরে যায়। তখন এর ঔজ্জ্বলতা পাল্টে যায়। এর চোখা অংশটি পৃথিবীর দিকে ঘুরে রয়েছে। তবে উপরিতলের অধিকাংশ অঞ্চলে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়। ফলে পৃথিবী থেকে অনেক স্পষ্ট দেখা সম্ভব।  

আবিষ্কারক দলের প্রধান কারেন মিচ বলেন, আমরা এলোমেলোভাবে ঘূর্ণায়মান একটি বস্তুর সন্ধান পাই। প্রায় একটা ফুটবল মাঠের সমান ওটার আকার। এর ঔজ্জ্বলতা নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। এতে বোঝা যায়, ওউমুয়ামুয়া'র দৈর্ঘ্য এর প্রস্থের চেয়ে ১০ গুণ বেশি হবে।  

এর দেহে লালচে আভা রয়েছে। এটি আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহাণু এবং ধূমকেতুর প্রতিনিধিত্ব করে। রং দেখে মনে হয়েছে ওটার দেহে ধাতব এবং কার্বনপূর্ণ উপদান রয়েছে। এসব উপাদান কিন্তু জীবন সৃষ্টির মৌলিক উপাদান।  

এখন পর্যন্ত কেউ বলতে পারেন না এটা কোথা থেকে এসেছে। তবে অনেকের বিশ্বাস, লিরা নক্ষত্রপুঞ্জের ভেগা অঞ্চল থেকে এর আগমন ঘটেছে। তবে এটাকে নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।  

অবশ্য একটা বিষয়ে নতুনভাবে ধারণা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তা হলো- গ্রহাণু প্রায় সব ধরনের আকার ও আকৃতিতে আসতে পারে। এর অর্থ, আগামীবার খুব দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে আসবেন না বিজ্ঞানীরা। কারণ, এদের সম্পর্কে যা ভাবা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এরা।  
সূত্র : পিবিএস নিউজ আওয়ার 


মন্তব্য