kalerkantho


পালাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার এক সেনা, ভিডিওতে দেখুন সেই শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:৫০



পালাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার এক সেনা, ভিডিওতে দেখুন সেই শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনি

পালাচ্ছেন এক সেনা, দুই কোরিয়ার একেবারে সীমান্তে রয়েছেন তিনি

উত্তর কোরিয়ার এক সেনা সদস্যর সিদ্ধান্তকে পাগলের চিন্তা বলেই ধরে নেওয়া যায়। অন্তত শেষ পর্যন্ত তাই প্রমাণ হয়েছে। স্বৈরাচারী শাসন থেকে পালিয়ে স্বাধীন হতে চেয়েছিল তিনি। একটা জিপ নিয়ে পালানো শুরু করলেন। পরে দৌড়াতেও দেখা গেল তাকে। কিন্তু উত্তাল এই সময়ে শাসক বাহিনীর চোখ এড়িয়ে কী পালানো সম্ভব! তার পেছনে ছুটতে দেখা গেল সেনাবাহিনীর কয়েক সদস্যকে। গোটা দৃশ্য ধারণ হয়েছে ক্যামেরায়। এটি প্রকাশ করেছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড। ফুটেজটি যেন কোনো থ্রিলার সিনেমার শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য। পরিণতি নিজেই দেখে নিন।  

এপি'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভিডিওতে প্রমাণ হয়েছে, যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরিয়া যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে, সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে উত্তর কোরিয়া।

কারণ দেশের সীমান্ত পার হওয়ার সময় ওই সেনাকে গুলি করেছে উত্তর কোরিয়ার সেনারা। তারা নিজ দেশের সীমান্তের বাইরে গুলিবর্ষণ করে। এসব তথ্য জানান ইউএস কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল চ্যাড জি ক্যারল। আরো জানানো হয়, পলায়নরত সেনার দিকে কমপক্ষে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। দুই দফা সার্জারির পর তাকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছে।  

দুই পাশে সারি সারি গাছ। মাঝখান দিয়ে চলে গেছে রাস্তা। মেটে রঙা মাঠও দেখা যাচ্ছে। সেই রাস্তা দিয়ে একটা জিপ ছুটে চলছে। জিপের ছুটে চলা দেখেই চমকে যায় দায়িত্বরত অন্য সেনারা। তারা পিছু নেয়। জিপটি দুই কোরিয়ার সীমান্তরেখায় এসে আটকে যায়। দলত্যাগী সেনা গাড়ি থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করেন, লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে চলে যাওয়া। এরপরই মুক্তি!‍ এই সীমান্তেই দুই কোরিয়ার টহলরত সেনারা প্রায় মুখোমুখি অবস্থান করেন, কয়েক মিটার দূরত্ব থাকে মাঝে। এই সেনা যখন গাড়ি নিয়ে সীমান্তে আসলেন তখন সেখানে কোনো টহলরত গাড়ি দেখা যায়নি।  

এমনিতেই পাহারারত অবস্থায় যারা ছিলেন তারাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। পলায়নরতর দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি করেন। একটা দেয়ালের কাছাকাছি একগাদা ঝরাপাতার মাঝে পড়ে থাকেন আহত সেই সেনা।  

ভিডিওর পরবর্তীতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা বুকে হেঁটে সীমান্ত পেরিয়ে আহত ওই উত্তর কোরিয়ার সেনাকে টেনে আনছেন। এরপর তারা দ্রুত নিজের সীমান্তে ফিরে আসেন।  

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্তের এই এলাকায় বিগত তিন যুগ ধরে কোনো গুলিবিনিময় করেনি।  

ইউএন কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর এ-হেন সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত হয়েছেন কর্মকর্তারা। ঘটনার তদন্তে একটি সভা ডাকা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত প্রতিরোধের উপায় নিয়েও আলোচনা করা হবে।  

এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়া এখনো মুখ খোলেনি। তাদের রাষ্ট্রীয় মিডিয়াতেও কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি।  

১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধ শেষের পর উত্তর কোরিয়া থেকে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পালিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়ায়। অধিকাংশই পালিয়েছেন চীনের মাধ্যমে।  

এদিকে, ওই পলায়নপর সেনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বেরিয়ে এসেছে আরো এক ঘটনা। তার ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি দেহের ওজন মাত্র ৬০ কেজি। তার পেট থেকে বের করা হয়েছে বড় আকারের একাধিক কৃমি। এসবই উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পুষ্টির অভাব নির্দেশ করে।  


সূত্র : এমিরেটস 


মন্তব্য