kalerkantho


শিশুশ্রমের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে যেসব শিল্প

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৩



শিশুশ্রমের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে যেসব শিল্প

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও বলছে, বিশ্বে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি ২১ কোটি ৮০ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে। আজ এমন কয়েকটি শিল্পের কথা তুলে ধরা হবে, যেগুলোর সাথে শিশুশ্রম সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে রয়েছে।

কফি
আইএলও-এর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি দেশে কৃষি ক্ষেত্রে শিশুদের কাজ করাটা সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগক্ষেত্রেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয় তাদের। এই যেমন কলোম্বিয়া, তানজানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, হন্ডুরাস, পানামা, এল সালভাদর, গিনি এবং আইভরি কোস্টে কফির বীজ সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয় শিশুদের।

তুলা
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই তুলা সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয় শিশুদের। তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে সেসব দেশ, যেখানে অর্থনীতি তুলা শিল্পের উপর নির্ভরশীল। যেমন আইভরি কোস্ট, যেখানে ৩০ লাখ মানুষ এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। ‘কটন ক্যাম্পেইন’ নামের একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানেও তুলা শিল্পে শিশুদের জোর করে কাজে লাগানো হয়।

ইটভাটা
মার্কিন শ্রম অধিদপ্তর এমন ১৫টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে, যেখানে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইটের ভাটায় শিশুদের কাজে লাগানো হয়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চীন, ইকুয়েডর, উত্তর কোরিয়া এবং পেরু রয়েছে এই তালিকায়।

পোশাক শিল্প
এই শিল্পে শিশুশ্রমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত দু’টি দেশ হলো কলোম্বিয়া এবং বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বের প্রায় সবদেশেই এ খাতে শিশুদের ব্যবহার করা হয়। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে জুতা কারখানায় সিরিয়ার শিশু শরণার্থীরা কাজ করছে।

চিনি শিল্প
গুয়াতেমালা, ফিলিপাইন্স, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে আখ শিল্পে শিশুদের কাজে লাগানো হয়। আইএলও দেখেছে ফিলিপাইন্সে চিনি তৈরির কারখানায় সাত বছর শিশুদের কাজে লাগানো হচ্ছে।

তামাক
আইএলও বলছে, তামাক শিল্প শিশুদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর কর্মক্ষেত্র। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড গরমে, বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে কাজ করতে হয় শিশুদের। বেশিরভাগ তামাক কারখানায় শিশুরা কমপক্ষে দিনে ১০ ঘণ্টা করে কাজ করে।

সোনার খনি
আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশগুলোতে খনিতে, বিশেষ করে স্বর্ণ খনিতে শিশুদের কাজ করাটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। খনিতে বিস্ফোরণে শিশুদের মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া খনির আশেপাশে বিশুদ্ধ পানি না থাকায় পাতলা পায়খানা, ম্যালেরিয়া, মেনিনজাইটিস এবং যক্ষা রোগের ঝুঁকি রয়েছে এসব শিশুদের।

-ডিডাব্লিউ


মন্তব্য