kalerkantho


উন্নত দেশের অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীরাই সেক্সটিংয়ে আসক্ত!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:৪৩



উন্নত দেশের অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীরাই সেক্সটিংয়ে আসক্ত!

ইন্টারনেটের বদৌলতে সোশাল নেটওয়ার্কিং সকলেরই বেশ স্ট্রং। আর এর ফলেই বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়েছে সেক্সটিং।

বেশির ভাগ উন্নত দেশের অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীই সেক্সটিংয়ে আসক্ত। আর এর ফলে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছাও প্রবল পরিমাণে বেড়ে চলেছে। সেক্সটিং বর্তমানে ভাবিয়ে তুলেছে আমেরিকা-ইউরোপের নানা দেশকে। ভয় গড়ে উঠছে অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজবিদদের মনে। ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে সেক্সটিংয়ের দায়ে এক নারী কর্মীকে বরখাস্ত করেছে সুইজারল্যান্ড সরকার।

সেক্সটিং মূলত যৌনতা-নির্ভর চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশন। সেক্স আর টেক্সটিং মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই নতুন শব্দ। এতে যৌন ম্যাসেজের পাশাপাশি নিজেদের অর্ধ বা সম্পূর্ণ নগ্ন ছবিও বিনিময় হয়। ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমেই মূলত চলে এই যৌনতা বিনিময়।

যদিও কয়েকবছর আগেই সেক্সটিংয়ের উৎপত্তি, কিন্তু এটি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীরাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। এতে বিভিন্ন ঝুঁকির পাশাপাশি কিছু অসাধু লোকের হাতেও চলে যাচ্ছে অনেকেরই নগ্ন ছবি। এগুলো পর্ন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন পর্ন ওয়েবসাইটেও।

যুক্তরাজ্যের অল্পবয়স্কদের মধ্যে সেক্সটিংয়ের প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দেশের প্রধান গবেষণা সংস্থা দ্য ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের এক গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী সেক্সটিংয়ে আসক্ত। এই গবেষণায় ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ওপর গবেষণা চালিয়েছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ জানিয়েছে কোনো না-কোনো ভাবে তারা ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে এসেছেন। তারা মনে করেন, তাদের বয়সী প্রায় ৫০ শতাংশই সেক্সটিংয়ে আসক্ত।

সেক্সটিং নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছে সুইজারল্যান্ড পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টে এক নারী কর্মী সম্প্রতি অফিসকক্ষে দাঁড়িয়ে একটি নগ্ন সেলফি টুইটারে পোস্ট করেছেন। এতে সকলের মাথায় চিন্তার ভাঁজ। ওই নারীকে অবিলম্বে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক হাসপাতালের নার্স এক রোগীর সঙ্গে সেক্সটিং করেন। ঘটনা প্রকাশ্যে এলে সরব হয় দেশের নার্স কাউন্সিল। যদিও অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করেন। তাকে পাঁচ বছরের জন্য সতর্ক করে দেয় কাউন্সিল। তাকে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ফের উঠলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।

সেক্সটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও বেশ চিন্তিত। গত সপ্তাহে দেশটির ডারবান শহরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও সাংবাদিকরা সেক্সটিংয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। এক গবেষণা প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বলা হয়, দেশটির অনেক কিশোর-কিশোরী শুধু নিজ দেশের বন্ধুদের মধ্যেই খোলামেলা সেলফি বিনিময় করছে না, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের বন্ধুদের কাছে তা পাঠাচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়ে এটি করছে তারা। এসব বন্ধু বিশ্বস্ততার বিষয়টি যথেষ্ট প্রশ্ন তুলেছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিও চাইল্ডলাইন এসএ শিশুদের নিয়ে কাজ করে।  

দক্ষিণ আফ্রিকার এই এনজিওর কর্মকর্তা জোয়ান ভ্যান নিকার্ক জানিয়েছেন, ১৮ বছরের কম বয়সের অনেক শিশু সেক্সটিংয়ে জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ১০ বছর বয়সী শিশুও আছে এ তালিকায়।  শিশু হলেও এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ দেশটিতে শিশু পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ। সেক্সটিংয়ে যে ছবি বিনিময় হয় তা বাস্তবে শিশু পর্নোগ্রাফি।  এমনকি নিজের খোলামেলা সেলফি হলেও তা শিশু পর্নোগ্রাফির আওতাতেই পড়ে।

মার্কিন মুলুকের ভার্জিনিয়ায় সেক্সটিংয়ের অপরাধে নিজের মেয়েকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক বাবা। মেয়েটির বাবা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনে তাদের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে কী করছে তা দেখতে তিনি ফোনটি চেক করেন। আর তা করতে গিয়েই দেখতে পান সে তার নগ্ন ছবি ছেলে বন্ধুদের কাছে পাঠিয়েছে। বিনিময়ে তার মোবাইল ফোনেও এসেছে অনেকে ছেলের নগ্ন ছবি। মেয়েটিকে বোঝানোর পরও সেখান থেকে সরে না আসায় তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

সেক্সটিং নিয়ে সকলেই সতর্ক হওয়া একান্ত প্রয়োজন। আপনার সন্তান কিংবা পরিবারের কোনো সদস্য এই ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে কিনা সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। সম্ভব হলে তাদের গোপনীয় তথ্য ঘেঁটে দেখুন। কমবয়সী ছেলে-মেয়েদের হাতে নাগালে ইন্টারনেট যত কম আসে ততই মঙ্গল। ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ ব্যবহার করলে কিছু ওয়েবসাইট ব্লক করে রাখুন। এ ছাড়াও অভিভাবকদেরই তার সন্তানদের ওপর নজর রাখতে হবে।
সূত্র : ডেইলি মেইল


মন্তব্য