kalerkantho


'ছোটকালে একজনকে ছুরি মেরে হত্যা করি...সেই আমি এখন প্রেসিডেন্ট'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:২১



'ছোটকালে একজনকে ছুরি মেরে হত্যা করি...সেই আমি এখন প্রেসিডেন্ট'

ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুয়ের্তে

ভিয়েতনামের দানাং শহরে চলছে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন সামিট। সেখানে ট্রাম্প-পুতিনসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা এক হয়েছেন।

বড় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ এই সামিটে ফিলিপিনো প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুয়ের্তের কিছু কথা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। তিনি ওই সম্মেলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাহসের সঙ্গে বেশ কিছু আপত্তিকর কথা বলে চলেছেন।

ভিয়েতনামে বসবাসরত এক ফিলিপিনো কমিউনিটিতে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। সেখানে জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ে কর্মরত এক দূতকে চড় মারার হুমকি দেন। ফিলিপাইনে মাদকব্যবসায়ীদের দমনে তার গৃহিত কার্যক্রম ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। যারা এ নিয়ে কটুক্তি করেন তাদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি।  

সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট দুয়ের্তে আরো বলেন, যখন আমি কিশোর ছিলাম, তখন বেশ কয়েকবার জেলে গেছি। এখানে সেখানে নানা ঝামেলা ও মারামারি করে বেড়িয়েছি। তখন আমি ছোট।

মাত্র ১৬ বছর বয়স। সেই ছোটকালে একজনকে ছুরি মেরেছিলাম। ওই বয়সে আমি একজনকে খুন করেছি। সেখান থেকে আজ আমি প্রেসিডেন্ট।  

গত বছর দুয়ের্তে অবৈধ মাদকের আগ্রাসন বন্ধের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেছিলেন। তবে ক্ষমতায় বসেই তার শুরু করে দেওয়া মাদক ব্যবসায়ী দমন প্রক্রিয়া অনেকেরই ভালো লাগেনি। এ সংশ্লিষ্ট অভিযানে এক লাখ মানুষের প্রাণ যায় বলে দেশটির বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।  

১৬ মাস আগে ক্ষমতায় বসেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তার পর থেকে মাদক দমন অভিযানে তারা ৩ হাজার ৯৬৭ জনকে হত্যা করেছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরো মারা গেছে ২ হাজার ২৯০ জন। এর বাইরে হাজার হাজার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এখনও রহস্যের চাদরে ঢাকা। তবে অনেক ফিলিপোনে দুয়ের্তের ওপর আস্থা রাখেন। তারা ভাবেন, প্রেসিডেন্ট যেভাবেই হোক সমাজে নিরাপত্তা আনছেন।  

কিন্তু দেশের ভেতরে এবং বাইরে বিভিন্ন মহল একে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ বলে সমালোচনা করছে। দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ এবং ভাড়াটে অপরাধীদের দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।  

প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পূর্বে এস্কয়ার ম্যাগাজিন দুয়ের্তের এক সাক্ষাৎকার নেয়। সেখানেও তিনি বলেছিলেন, ১৭ বছর বয়সে তিনি হয়তো কাউকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এতে ওই ব্যক্তি নিহত হন। এখন দানাংয়ে চলমান সামিটে হয়তো সেই ঘটনার কথাই ফের তুলে ধরলেন দুয়ের্তে।  

নির্বাচনের সময় এক ক্যাম্পেইনে আরেকটি ঘটনার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, কলেজ থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। কারণ, এক শিক্ষার্থী তাকে অপমান করায় তিনি তাকে গুলি করেন। তবে ওই শিক্ষার্থী বেঁচে ছিল।  

চলমান সামিটে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে দুয়ের্তের এ ধরনের বক্তব্য তার জন্যে কী বয়ে আনবে, বা আদৌ কিছু ঘটবে কিনা তা এখন দেখার বিষয়ে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।  
সূত্র : এমিরেটস 


মন্তব্য