kalerkantho


যেন ঘুমন্ত ড্রাগন, অদ্ভুতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে ডাইনোসরের জীবাশ্ম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:১৩



যেন ঘুমন্ত ড্রাগন, অদ্ভুতভাবে সংরক্ষিত হয়েছে ডাইনোসরের জীবাশ্ম

এটা বলা কঠিন যে আজ থেকে ১১২ মিলিয়ন বছর আগে এই ডাইনোসরটি কীভাবে মারা গিয়েছিল? শুধু তাই নয়, ডাইনোসরটি এমনভাবে মরেছে যে ওটা একটা ত্রিমাত্রিক ফসিল হয়ে গেছে। দেখেই একটা ঘুমন্ত ড্রাগন বলে মনে হয়।

 

কিন্তু এভাবে টিকে গেল তার ফসিল? বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যায় বলছেন, ওটার হাড়ের গঠন ও কাঠামো দারুণ শক্ত। তা ছাড়া বিশেষ কোনো পরিবেশ ও আবহাওয়া পেয়েছিল দানবটি। আবর্জনা খুঁটে খায় এমন প্রাণীরাও এর ফসিলটাকে খুঁজে পায়নি। এর জীবাশ্ম হওয়ার প্রক্রিয়াটাও ছিল অনন্য। কানাডার আলবার্তার জীবাশ্মবিদ এবং রয়াল টাইরেল মিউজিয়ামের কিউরেটর ডোনাল্ড হেন্ডারসন এমনটাই বললেন।  

লাইভ সায়েন্সকে হেন্ডারসন বলেন, এই জীবাশ্মটাকে পৃথিবীর সেরা বলা যায়। এর চেয়ে সুরক্ষিত জীবাশ্ম আর মেলেনি। ফসিল হওয়ার প্রক্রিয়াটাও ছিল অনন্য। যার কারণে ডাইনোসরটা আএক রোজেটা পাথরে পরিণত হয়েছে।

 

বড় বড় কাঁটার মতো অঙ্গ রয়েছে ওটার দেহে। ওটা নডোসার প্রজাতির প্রাণী। অ্যানকাইলোসরের আত্মীয় বলা চলে। ২০১১ সালে আলবার্তার সানকোর মিলেনিয়াম মাইনে এটা আবিষ্কৃত হয়। লাখ লাখ বছর ধরে পাথর এবং মাটির বিপুল ওজন থাকা সত্ত্বেও ওটার দেহ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এতে অবাক হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  

আরেকটি বিশেষ ঘটনা আছে। এই প্রজাতির ডাইনোসরটিও নতুনভাবে বের হলো। বেশ কয়েকটি বিশেষ  পরিস্থিতি এটার ত্রিমাত্রিক জীবাশ্ম সৃষ্টি করেছে। ডাইনোসরটির বৈজ্ঞানিক নাম বি.  মার্কমিচেলি।  

১৮ ফুট লম্বা প্রাণীটির মৃত্যুর পরই তার দেহ মেক্সিকো উপকূল থেকে আর্কটিক সাগরের দিকে এক প্রাচীন এলাকায় চলে যায়। এ কারণেই ওটার দেহ অন্যান্য প্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়।   

নডোসারের পাতলা কাঁটাপূর্ণ ত্বক জলজ প্রাণীদের আক্রমণেও শিকার হতে পারতো। এর দেটা উল্টো হয়ে পানির নিচে ডুবে রয়েছে। তবুও কিছু হয়নি। কারণ সাগরের ওই অংশটা শীতল এবং অন্ধকার। ১৩৬০ কেজি ওজনের প্রাণীটা একটি সি বেডে শুয়েছিল অদ্ভুতভাবে।  

আর পানি এবং ওই স্থানের খনিজ এবং পরিবেশের অন্যান্য উপাদান দানবটিকে সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ করেছে। পানির ১৫৪ ফুট গভীর প্রাণীটি প্রায় অক্ষত অবস্থা ছিল এতদিন ধরে। সূত্র : ফক্স


মন্তব্য