kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

দক্ষিণ আফ্রিকায় ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:২০



দক্ষিণ আফ্রিকায় ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ইদানীং সেখানে একটি লেবুর বাগানের ওপর দিয়ে নিয়মিত উড়ে যাচ্ছে একটি ড্রোন।

মনে হয় বড় ধরনের একটি মাছি যেন অনেক শব্দ করে ভন ভন করে উড়ে গেল। ড্রোনটি যেন পুরো বাগানের ওপরে নজরদারি করছে।  

এ বিষয়ে ফার্স্ট ফ্রুট গ্রুপ নামের ওই বাগানটির প্রধান নির্বাহী হাইন গার্বার বলেন, "সাধারণত আপনার যতদূর চোখ যাবে আপনি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে আপনি দিনে আপনার বাগানের নির্দিষ্ট কতটুকুর উপর নজর রাখতে পারবেন। কিন্তু ধরুন বাগানের অন্য কোনো অংশে আপনার যাওয়া হলো না আর সেখানে কোন সমস্যা হয়ে গেলো। সেই সমস্যারই সমাধান করছে ড্রোন। আপনি নিজে উপস্থিত না হতে পারলেও উড়ে উড়ে পুরো বাগানোর ওপর নজর রাখছে দুর থেকে পরিচালিত ছোট এই উড়ন্ত যন্ত্রটি। "

দক্ষিণ আফ্রিকায় এই প্রযুক্তির উদ্যোক্তারা বলছেন, হয়ত খামারের বেড়া কোথাও ভেঙে গেলো, কোথায় পানি কমে গিয়ে ফসল শুষ্ক হয়ে গেছে, খামারের কোন অংশে ফসল কম হয়েছে অথবা কোথায় মাটির চেহারা দেখতে কেমন সবই উঠে আসবে ড্রোনের তোলা ছবি থেকে।

এরপর সে সম্পর্কিত প্রতিদিনের ডাটা আপনি পাবেন কম্পিউটারে। যা আপনি নিয়মিত বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

জাতিসংঘ বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে দশ বিলিয়নে। এত বিপুল মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে এই সময়ের মধ্যে পৃথিবীর কৃষি উৎপাদন অন্তত ৭০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আফ্রিকার দেশগুলোকে, কেননা পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশ অব্যবহৃত চাষযোগ্য জমি রয়েছে আফ্রিকাতে।

এদিকে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলের কৃষি খামারগুলোকে ড্রোন সেবা দিয়ে থাকে অ্যরোবটিকস নামের একটি কোম্পানি। এরপর ড্রোন থেকে তোলা ছবি তারা বিশ্লেষণ করে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জেমস প্যাটারসন বলছেন, "এই মুহূর্তে মাটির আর্দ্রতা রক্ষা করা এই অঞ্চলের জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে এই মুহূর্তে খরা বিরাজ করছে। বাগানগুলো তাই সঠিকভাবে সেচ ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছে। যেমন ধরুন কোন অংশে কম সেচ দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ের উপর নজর রাখা যায়। তারপর ধরুন ফসলের উৎপাদন কোথায় কতটা হলো তা বোঝা যায়। আমরা কোন কিছু সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই ধরতে পারছি। "

ড্রোনের ব্যবহার আফ্রিকার কৃষির চেহারা বদলে দিতে পারে এমন মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে ইন্টারনেটের গতি একটি সমস্যা বলছিলেন জেমস প্যাটারসন।

তিনি আরো বলেন, "আফ্রিকা ভিত্তিক হওয়ার একটি বিষয় হলো সব জায়গায় আমরা ভালো ইন্টারনেট পাই না। আমরা যে তথ্য সংগ্রহ করি সেটি ক্লাউড ভিত্তিক। ইন্টারনেটের অভাবে ক্লায়েন্টকে আমরা সবসময় অনলাইনে সংরক্ষণ করা এসব দ্রুত তথ্য পৌঁছাতে পারি না। এটা একটা সমস্যা বটে কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। "

ড্রোনের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার তরুণ প্রজন্মের কাছে কৃষিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলাই হচ্ছে স্মার্ট ফার্মিং।


মন্তব্য