kalerkantho


ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

'সু চি ক্রমাগত মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:৩৮



'সু চি ক্রমাগত মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন'

সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি দীর্ঘদিন পর তার নিরবতা ভাংলেন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যের মাধ্যমে। সুচির এ বক্তব্য প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর আরও একটি পরিচয় হলো, তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাতিজা। এখন অবশ্য কূটনীতিক হিসেবেই ভারতে অবস্থান করছেন।

সাক্ষাৎকারে মোয়াজ্জেম আলী বলেন, সু চির সাক্ষাৎকারটি অনেক দেরি করে বলা অতি সামান্য কথন। তিনি বলেন, ‘আমি সু চির সেই সাক্ষাৎকারটি পড়েছি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে। কিন্তু তাতে আশাপ্রদ কোনো বিষয় খুঁজে পাইনি। ’

সু চি ক্রমাগত মূল বিষয়কে আড়াল করছেন জানিয়ে মোয়াজ্জেম আলী বলেন, ‘তিনি ক্রমাগত মূল বিষয়টিকে এড়িয়ে যাচ্ছেন, যা হচ্ছে মিয়ানমারকে তাদের নিজস্ব জনসংখ্যাকে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে হবে তাদের নিজের দেশে। ’

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যার মূলত তাদের নিজেদেরই সৃষ্ট সমস্যা আর এর সমাধানও মিয়ানমারের হাতে। এ বিষয়টিকে তুলে ধরে মোয়াজ্জেম আলী বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তাদেরই নেওয়া উচিত যেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তাদের নিজ ভূমিতে সম্মান, নিরাপত্তা ও পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ফিরতে পারে। ’

রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন মিডিয়া রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা সত্য নয়। কারণ বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আশ্রয়ের জন্য এসেছেন, তাদের একটি বড় অংশ হিন্দু। ’

বাংলাদেশ মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমারকে প্রথম দিন থেকেই সব ধরনের সহায়তা করতে চায়। ২৪ আগস্ট রাতে যে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে সেজন্য বাংলাদেশও নিন্দা জানিয়েছে। ’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমনকি সীমান্তে যৌথ টহল দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে, যেন দুর্বৃত্তরা পালাতে না পারে। কিন্তু মিয়ানমার তা গ্রহণ করেনি। অবশ্য প্রস্তাব এখনও দেওয়া আছে। আমরা আরও বলেছি, বাংলাদেশ কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে যৌথভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। ’

তিনি আরও বলে, ‘প্রশ্ন হলো, মিয়ানমার কি কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত কি না? এটি সম্পূর্ণ সমস্যার সমাধান করবে না। তবে কমপক্ষে একটি সাময়ীক সমাধান পাওয়া যাবে সমস্যাটির; যতদিন পর্যন্ত এর সম্পূর্ণ সমাধান না হবে। ’

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়লেও আমাদের একজন আবাসিক রাষ্ট্রদূত রয়েছেন মিয়ানমারে, তাদেরও একজন রয়েছেন ঢাকায়। এ কারণে আমি শুধু অপেক্ষা করেই দেখতে পারি যে, কিভাবে উভয় পক্ষ সমস্যার সমাধান করে এগিয়ে যেতে পারে বা অন্তত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে পারে।

ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের যৌথ ঘোষণায় নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘোষণার পর, আমি এ বিশাল মানবিক সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী হিসেবে ভারতকে ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিকে রোহিঙ্গাদের আবাসনে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করতে চাই। ’

ভারতের সঙ্গে উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত একটি সাম্প্রতিক বিবৃতি দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যা পৌঁছেছে, তা মোটেই সুখপ্রদ নয়। তবে আমি মনে করছি আরও সহায়তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্রপথে গিয়ে পৌঁছাবে। ’

নিউ ইয়র্কে সোমবার শেখ হাসিনা ও সুষমা স্বরাজের মধ্যে আলোচনায় রোহিঙ্গা বিষয়টি এসেছে কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল খুবই ছোট আলোচনা। আগের আলোচনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর এ বৈঠক হয়েছে। আর এ কারণে সম্ভবত তারা গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে পরস্পর আরও যোগাযোগ করার সুযোগ পাবেন। ’

বাংলাদেশের এ কূটনীতিক রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে এ অঞ্চলের প্রধান দুই শক্তি- ভারত ও চীনকে তাগিদ দেন যেন আলোচনার মাধ্যমে তারা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টিতে তাগিদ দেন।

সূত্র : দ্য ট্রিবিউন


মন্তব্য