kalerkantho


১৬ শো শতকের ধ্বংসপ্রাপ্ত পর্তুগিজ জাহাজে মিলল গুপ্তধন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৫০



১৬ শো শতকের ধ্বংসপ্রাপ্ত পর্তুগিজ জাহাজে মিলল গুপ্তধন!

এমনই স্বর্ণমুদ্রার সন্ধান মিলেছে জাহাজে

যুগে যুগে মানুষ গুপ্তধনের সন্ধানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছুটেছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে রোমাঞ্চকর কত সিনেমা।

সেই জলদস্যুদের যুগে জাহাজ ভরে ধন-সম্পদ লুট করে নেওয়া বা এ জাতীয় কাহিনীতে আমরা দারুণভাবে আসক্ত। তবে এবার কিন্তু সেই গল্পগুলো সত্য হয়ে গেলো। সেই ১৫৩৩ সালে সাগরে ডুবে যাওয়া একটি পর্তুগিজ জাহাজ থেকে গুপ্তধন মিলল।  

নামিবিয়ার এক দল হীরা সন্ধানী সাগরেই অবস্থান করছিলেন। সেখানে একটি হীরার খনির অবস্থান ছিল। তাও এক যুগ আগের কথা। তাদের জাহাজটির তলা কিছু একটার সঙ্গে আটকে যায়। ওটা ছিল সেই পর্তুগিজ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ। ওটা নাকি ভারতের দিকেই আসছিল।

কিন্তু প্রচণ্ড ঝড়ে সলিল সমাধি রচিত হয় তার। তার সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ২ হাজারের বেশি স্বর্ণমুদ্রা। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, এটা যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সেরা আবিষ্কার বলে বিচেচিত হতে পারে। ষোলোশ শতকের ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে স্বর্ণমুদ্রা মেলা সোজা কথা নয়।  

নামিবিয়ার আটলান্টিকের উপকূলে একটি হীরার খনির ওয়্যারহাউজে গুপ্তধনগুলো রাখা হয়েছে। সেখানে আরো আছে ব্রোঞ্জের কামান, তামারের পাত্র, ক্ষয় হয়ে যাওয়া গাদা বন্দুক আর ভেঙে যাওয়া আইভরির জিনিসপত্র। মরচে পড়া তলোয়ারও মিলেছে। এগুলো এখন পর্যন্ত খুব অল্প মানুষই দেখেছেন। এগুলো ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে।  

খুঁজে পাওয়া ২০০০ স্বর্ণমুদ্রাগুলো স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ। এগুলো ওখানকার কেন্দ্রিয় ব্যাংকের ভোল্টে রাখা হয়েছে।  

জাহাজটি পর্তুগিজ রাজা জোয়াও তৃতীয় এর মালিকানায় ছিল। এ খবর বের করেছেন পুরাতত্ত্ববিদরা।  

এখন নামিবিয়া তাদের দেশের অংশে প্রাপ্ত এই ঐতিহাসিক অমূল্য সম্পদ রক্ষা এবং তার প্রদর্শনের চিন্তা-ভাবনা করছে। অনেক পুরাতত্ত্ববিদ মনে করছেন, এগুলো প্রদর্শন বা পর্যটক আকর্ষণের কাজে ব্যবহার শুরু হয়ে গেলে বড় পরিসরে গবেষণার কাজটি এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।  

যে স্থানে খননকাজ চলছে তার নাম বম জেসাস। ওখানকার এক কর্মকর্তা ডিয়েটের নোলি বলেন, নামিবিয়া সরকারের জন্য এ এক অবিশ্বাস্য প্রাপ্তি। এই জাহাজটি সেই সময়কার অজানা ইতিহাস তুলে ধরবে। এ ছাড়া জাহাটি লুটেরাদের কবলে পড়েনি। কাজেই পুরোটুকুই মিলবে।  

ইতিমধ্যে ওখানকার আশপাশে একটি জাদুঘর খোলার চিন্তা-ভাবনাও এগিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য অবশ্য নামিবিয়া সরকারের স্পন্সর দরকার। সূত্র : ডেকান ক্রনিক্যাল 


মন্তব্য