kalerkantho


প্রাচীন রোমে লেবু ছিল সামাজিক মর্যাদার প্রতীক!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৬:৪৪



প্রাচীন রোমে লেবু ছিল সামাজিক মর্যাদার প্রতীক!

এখন যা অতি সাধারণ একটি সাইট্রাস ফল সেই লেবুই একটা সময়ে, সেই সুদূর অতীতে, প্রাচীন রোমান সভ্যতায় সামাজিক মর্যাদার প্রতীক ও বিলাসী খাদ্য দ্রব্য হিসেবে গণ্য হত! যা শুধু অভিজাতরাই ব্যবহার করতে পারতেন। এক গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, লেবু সর্বপ্রথম রোমে যায় বর্তমান ইসরায়েল থেকে। সেসময় রোমে শুধু উস্কেখুস্কো-ত্বকের সাইট্রাস ফলই পাওয়া যেত। যা ইট্রোজিম নামে পরিচিত ছিল। যার খোসা ছিল শুষ্ক, শুকনো এবং বিস্বাদ।

এখন ভুমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে লেবু পাওয়া গেলেও এই ফলটি মূলত এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। সেখানেই এই ফলটি প্রথম জন্ম নেয়।

ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাগান করে লেবুর প্রথম চাষ হয়েছিল জেরুজালেমে। পারস্যের রাজপরিবারের সদস্যরা ওই বাগান তৈরি করে লেবুর চাষ করেছিলেন সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৫-৪ শতকে। জেরুজালেমে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্মিক নিদর্শণ থেকে এমনটাই ধারণা করা হয়।

আর রোমান সভ্যতায় লেবুর প্রথম নিদর্শণ পাওয়া যায় যিশু খিস্টের কাছাকাছি সময়কালে। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের শেষদিকে এবং প্রথম খ্রিস্টিয় শতকের শুরুতে। এমনটাই মত ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্মিক ডাফনা ল্যাঙ্গুটের।

তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আসা সাইট্রাসফলগুলোর মধ্যে লেবুই প্রথম এসেছিল। যা অভিজাতদের জন্য সামাজিক মর্যাদার একটি প্রতীক ছিল। বাকী সব সাইট্রাস ফল আরো প্রায় এক হাজার বছর পরে গিয়ে ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তাও আবার অর্থনৈতিক কারণে।

এই সাইট্রাস ফলটি এর রোগ দূর করার ক্ষমতা, প্রতীকি ব্যবহার, সুগন্ধ এবং দুষ্প্রাপ্যতার জন্য অতি মূল্যবান দ্রব্য হিসেবে বিবেচিত হত। ধনীরাই শুধু এটির ব্যয়ভার বহন করতে পারত। উচ্চ সামাজিক মর্যাদার প্রতীক, ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে লেবু পরে পুরো ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ, লেবু এর খাদ্যগত গুনাগুনের জন্য ছড়ায়নি।

ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মিষ্টি কমলা লেবুর প্রচলন হয় আরও পরে মাত্র ১৫ শতকে। জেনোয়ার বণিক ও পর্তুগীজ বণিকরা কমলা লেবুর প্রচলন করেন সেখানে। সেটিও ইসরায়েল থেকে ছড়ায়। যা আসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে। আর ছোট্ট চটচটে মিষ্টি চৈনিক কমলা লেবু ভুমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে যায় মাত্র ১৯ শতকে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে হর্ট সায়েন্স নামের জার্নালে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


মন্তব্য