kalerkantho


অন্ধকার জেলে রংয়ের ছটা, খাবারের রং দিয়ে লিপস্টিক বানাচ্ছে মেয়ে কয়েদিরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ১৯:৩৪



অন্ধকার জেলে রংয়ের ছটা, খাবারের রং দিয়ে লিপস্টিক বানাচ্ছে মেয়ে কয়েদিরা

চলছে জীবনটাকে একটুখানি রঙিন করার আয়োজন

জেলের অন্ধকার জীবনটাকে রঙিন করে তোলা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। কিন্তু নারী কয়েদি প্রনতিপ ম্যানকং আর তার সাথের মেয়েরা সেই প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছেন।

জেলের রান্নাঘরে থাকা খাবারের রং আর ভ্যাসলিন মিলিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন লিপস্টিক।  

থাইল্যান্ডের রাজ-আইন ভঙ্গের দায়ে দুই বছর ধরে জেল খাটছেন এই সাবেক রাজনৈতিক বন্দি। এখন তিনি অবশ্য জেলগেটের বিপরীতেই দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু থাইল্যান্ডের ওই অন্ধকার গহ্বরে যারা এখনও পচে মরছে, তাদের জীবনে কিছুটা রং আনতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এইসব প্রসাধন বানাচ্ছেন প্রনতিপ। এখন এটাই বিশ্বের সবচেয়ে রঙিন জেলে পরিণত হয়েছে। এখানে তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও লাল ঠোঁটে হাসে মেয়েরা।  

প্রনতিপ জানান, এটা এক ধরনের লিপ গ্লস। এটা মেয়েদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। যেখানে স্বাধীনতায় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সেখানে এমন উদ্যোগ মন্দ নয়।

তারা কিছুটা হলেও নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে।  

 

সম্প্রতি এক রবিবার ২৯ বছর বয়সী সদ্য মুক্তি পাওয়া বন্দি এবং তার সঙ্গীরা চকচকে গোলাপী এবং ম্যাজেন্ডার রংয়ের ঘন তরল জ্বাল দিচ্ছিলেন। তারপর ওগুলো ভরছেন ছোট ছোট শিশিতে। শীতল হওয়ার পর বন্দিদের মাঝে বিতরণ করা হবে। মোমের মতো এই টুকরোগুলো ঝুরিতে গোছানোও হয়েছে। ওগুলো থেকে ঝিলিক দিচ্ছে গোলাপী আর ম্যাজেন্ডা আভা।  

জেলের মেয়েরা ওখানেই সামান্য অর্থ উপার্জন করে রান্না-বান্না অথবা হস্তশিল্পের মতো কিছু কাজ করে। এগুলো দিয়ে তারা স্যানেটারি প্যাড কেনেন। আরো কিছু মৌলিক প্রয়োজন কোনমতে মেটান। সেখানে প্রসাধান কেনার সাধ্য কার আছে? কিন্তু এই উদ্যোগ দারুণ সাড়া ফেলেছে। তাদের জীবনে বেশ আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। এই জেলে দিনে ১০ ডলারের বেশি অর্থের কেনাকাটাও নিষিদ্ধ।  

তা ছাড়া জেলের মতো জায়গায় প্রসাধনের মতো জিনিস কেনা বিলাসী বিষয়। সাধ থাকলেও সাধ্য নেই কারো। তারা এই লিপস্টিকগুলো অন্যান্য ক্রেতার কাছেও বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন। এতে কিছু আয়ও হচ্ছে।  
সূত্র : এমিরেটস 


মন্তব্য