kalerkantho


হৃৎপিণ্ডে ঢুকে গেল তারকাঁটা, তারপর...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:৪০



হৃৎপিণ্ডে ঢুকে গেল তারকাঁটা, তারপর...

এ অবস্থাতেও মোটেও ঘাবড়াননি বার্জসন!

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন আমেরিকার উইসকনসিনের এই ভদ্রলোক। পাঁজর ফুঁড়ে একটি পেরেক ঢুকে গেছে তার হৃদযন্ত্রে।

ওই অবস্থায় কোনোমতে আসতে পেরেছিলেন হাসপাতালে। বাড়িতে টুকটাক কাজ করতে গিয়েই এই দুর্দশা। তার মনের শক্তিটা দানবীয়। নইলে কি আর হৃদযন্ত্রে তারকাঁটা নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে আসেন! শুধু তাই নয়, গাড়িটিকে সুন্দরমতো পার্কিং করে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত হেঁটে এসেছেন তিনি! 

ডোগ বার্জসন চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আবারও কাজে নামতে প্রস্তুত। কিন্তু যে ধকল হজম করেছেন, তা অন্য কেউ হলে পারতেন না বলেই মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা। পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, উইসকনসিনের উত্তর-পূর্বের প্রেসটিগোতে নিজ বাড়িতে একটি ফায়ারপ্লেস বানাতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পেরেক মারতে 'নেইল গান' ব্যবহার করছিলেন। ওটা থেকেই অসাবধানতাবশত একটি পেরেক ফায়ার হয়।

ওটা কাঠে না ঢুকে পিছলে যায় এবং প্রবল বেগে তার বুক ফুঁড়ে একেবারে হৃদযন্ত্রে ঢুকে যায়।

অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই দুঃস্বপ্নের মতো? বললেন, আমার গোটা দেহ জমে গেল। প্রথমে কিছুই দেখলাম না চোখে। তবে একটু পর মনে হলো ঠিক আছি। ওই ক্ষতটা নিয়ে খুব চিন্তিত হলাম না। মনে হলো না যে হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে রক্তচাপ এলোমেলো হয়ে গেছে। পরনের জামাটা টান দিতে গিয়ে ৫২ বছর বয়সী বার্জসন দেখলেন, সাড়ে ৩ ইঞ্চির পেরেকটার ১ ইঞ্চির মতো বাইরে বেরিয়ে রয়েছে। বাকিটুকু তার ভেতরে। অনুভব করছিলাম যে, প্রতিটা হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে পেরেকটা যেন নড়ছে।  

পুরো সাড়ে তিন ইঞ্চির সাইজের পেরেকটি

তবে ইস্পাতের মন তার। দুশ্চিন্তার চেয়ে বিরক্তই হলেন বেশি। এখনই হাসপাতালে যেতে হবে বুঝতে পারলেন। কারণ ওই মুহূর্তে তার এও মনে হয়েছিল যে, বাড়ির এ কাজটার কিছুই করতে পারলেন না তিনি। তবে সহজাত সাধারণ জ্ঞান তাকে জানান দিল, পেরেকটা টান দিয়ে বের করা যাবে না।  

সোজা ট্রাকের দিকে এগোলেন। গন্তব্য ম্যারিনেটের বে এরিয়া মেডিক্যাল সেন্টার। টানা ১০ মিনিট গাড়ি চালিয়ে হাসপালের পার্কিং এরিয়ায় গাড়িটি রাখলেন। সোজা ইমার্জেন্সি কক্ষে দিকে গেলেন। কিন্তু ব্যথাটা প্রচণ্ড হয়ে গেছে। একজন সিকিউরিটি গার্ডকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করলেন।  

চিকিৎসা নিতে নিতেই তিনি ভাবছিলেন কত দ্রুত বাড়ি ফিরে বাকি কাজটুকু শেষ করা যায়। একটু ধাতস্থ হয়ে স্ত্রী ডোনাকে আসার সময় একটা নতুন শার্ট নিয়ে আসতে বললেন। কারণ পরনেরটা কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকরা।  

সেখানেই প্রথমেই এক্স-রে করা হয় তার। ফলাফল দেখে দ্রুত গ্রিন বে'র অরোরা বেকেয়ার মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হয়। ওখানেও তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু তার অনুমতি মেলেনি।  

ড. আলেকজান্ডার রোটস্টেইন নিশ্চিত করেছেন যে, পেরেকটি তার হৃদযন্ত্রকে আঘাত করেছে। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ধমনী থেকে পেরেকের চোখা অংশটা চুল পরিমাণ দূরে ছিল। বুকে নিখুঁত ছিদ্র করে প্রবেশ করেছে ওটা। অবশেষে শঙ্কা মুক্ত হয়েছেন বার্জসন।  

মাত্র দুই দিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছেন। ক্ষতটাকে শুকাতে দিতে হবে। এ সপ্তাহেই হয়তো তার ভিলেজ অব লিনা'র ওয়াটার প্লান্টের কাজে হাত লাগাবেন।  

জানালেন, এখন ভালো বোধ করছি। এখন থেকে আরো সাবধানে কাজ করতে হবে।
সূত্র : এমিরেটস 


মন্তব্য