kalerkantho


'যা গরম পড়েছে না বৌদি...'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মে, ২০১৭ ১৭:১৪



'যা গরম পড়েছে না বৌদি...'

গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দুপুরে এক নারী কোনো এক রেল স্টেশনের ওভারব্রিজ পার হচ্ছেন। এমন সময়ে তার বিপরীত দিক থেকে উঠে এল এক ব্যক্তি।

সম্পূর্ণ উলঙ্গ, মাথায় একটা ডাবের খোলা, গলায় একটা ছেঁড়া গামছা কাউবয়দের রুমালের কেতায় বাঁধা। ধীরে ধীরে সে এগিয়ে আসছে আর নারী প্রমাদ গুণছেন। কী হয় কী হয়! কী জানি কী হয়! এমন সময়ে সেই উলঙ্গ উন্মদ নারীর সামনে। নারী স্থির, আসন্ন পরিস্থিতির অপেক্ষায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু কিছুই ঘটল না। উন্মাদ তার গলায় বাঁধা গামছায় মুখের ঘাম মুছে মিষ্টি হেসে মধুর স্বরে জানাল— 'যা গরম পড়েছে না বৌদি! একেবারে পাগল করে দেবে। '

এটা প্রখ্যাত রম্য সাহিত্যিক তারপদ রায়ের 'কাণ্ডজ্ঞান' গ্রন্থের 'পাগলের কাণ্ডজ্ঞান' নামক একটি লেখা থেকে নেওয়া। লেখার উপলক্ষ গরম। ঢাকার গরমে মানুষের এখন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা! এক লেখক একবার মজা করে বলেছিলেন, এখানে বেশিরভাগ পাবলিকই 'পার্মানেন্ট পাগল'। কেবল গরমে তাদের তৎপরতা সাংঘাতিকভাবে বেড়ে যায়।

সবাই উত্তপ্ত থাকে; সবার মাথাও উত্তপ্ত থাকে। পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা দম্পতি সকাল থেকেই তুমুল ঝগড়ায় মেতে ওঠেন। সবই হয়তো গরমের জন্য।

রাস্তায় বের হলেও সেই চিরচরিত জ্যাম। সুতরাং মাথা গরম। বাসের সহযাত্রী থেকে শুরু করে কন্ডাক্টর পর্যন্ত এই গরমের শিকার হয়ে উত্তেজিত হয়ে থাকেন। কারও দেহে একটু ঘষা লাগলে, কিংবা কারও পায়ে একটু পা লাগলেই পরিস্থিতি তুমুল পর্যায়ে চলে যায়! গরম সবই গরম! গাড়ি সিগন্যালে পড়লে রাস্তায় ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য লাইন লেগে যায়। পুলিশও সে লাইন সামলাতে পারে না। লাইনে দাঁড়ানো পাবলিকের দাবি, তারা সকলেই ট্রাফিক সামলাবেন। পুলিশের একার পক্ষে এই জ্যাম তাড়ানো সম্ভব না।  

এর মাঝে একসময় আকাশ কালো হয়ে আসে। রাজধানীবাসী প্রতীক্ষায় থাকে বৃষ্টির। প্রকৃতির আশীর্বাদে যদি একটু স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু দিন পার হয়ে যায়, বৃষ্টির দেখা নেই। আবার হঠাৎ ধেয়ে আসে কালবৈশাখী। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স ভেঙে যায়। প্রবল বৃষ্টিতে কিছুটা শীতলতা, কিছুটা স্বস্তি। তারপর বেলা বাড়তে থাকে আর বাড়তে থাকে গরম। বাসায় গেলে নেই বিদ্যুৎ। বাথরুমে যাবেন নেই পানি। তার ওপর ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার বীজ ছড়িয়ে দিতে সদা প্রস্তুত মশক বাহিনী। এই নিয়ে আছে ঢাকাবাসী; বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক, সবচেয়ে বড় শহরের বাসিন্দারা!


মন্তব্য