kalerkantho


কবিগুরুর ‘কাবুলিওয়ালাদের’ খেদাতে মাঠে নেমেছে হিন্দু জাগরণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ২২:৫৩



কবিগুরুর ‘কাবুলিওয়ালাদের’ খেদাতে মাঠে নেমেছে হিন্দু জাগরণ

এবার কাবুলিওয়ালাদের বিরুদ্ধে খেপেছে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হিন্দু জাগরণ সংঘ । হিন্দু জাগরণ মনে করছে, কাবুলিওয়ালারা ভারতে এসে অবৈধ পন্থায় ব্যবসা করছে এবং কালোটাকা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ব্যবসারত আফগানিস্তান থেকে আসা ‘কাবুলিওয়ালাদের’ বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য তারা একটি অফিসও খুলেছে।

হিন্দু জাগরণ সংঘ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করেছে জনগণকে। এতে বলা হয় কাবুলিওয়ালাদের ধার দেওয়া টাকা যেন ফেরত না দেন ভারতীয়রা।  

তবে ভারতে বিশেষ করে কলকাতায় অবস্থানরত কাবুলিওয়ালাদের দাবি, নিয়ম-রীতি মেনে উপযুক্ত কাগজপত্রসহ তারা ব্যবসা করছেন। তারা আইন মতো ভারত সরকার নির্ধারিত ইনকাম ট্যাক্সও দিয়ে থাকেন। এছাড়া এই আফগানিরা ব্যাংকের চেয়ে কম সুদে ভারতীয়দের টাকা ধার দেয় বলে জানায়। এ প্রসঙ্গে কাবুলিওয়ালাদের আইনজীবীরা জানান, যারা ভ্রমণ ভিসায় আছেন তাদের ব্যবসা করাটা বৈধ নয় কিন্তু যাদের কাছে আইন মোতাবেক সব কাগজপত্র রয়েছে- তারা এই ব্যবসা করতে পারেন।

দক্ষিণ বঙ্গ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ মুখপাত্র মৃণাল কাঞ্জীলাল বলেন, আমরা লোকজনকে সচেতন করে তুলছি যাতে এদের ঋণের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে তারা। এই আফগানিদের কাছে শুধু ভিজিটর্স ভিসা রয়েছে আর এরা অবৈধ কাজ-কারবার করছে। কখনো কখনো তাদের সুদের হার ১০% থেকে ১২% হয়ে যায়।   

গুল শেখ নামে এক কাবুলিওয়ালা বলেন, বেআইনি হচ্ছেটা কী? আমরা ৫% সুদে টাকা নিয়ে তা ৮% সুদে খাটাচ্ছি। আমাদের কাছে প্যান কার্ড, ভোটার আইডি কার্ডও আছে।  

বর্তমানে কলকাতার এলিয়ট রোডে জায়েদ রহমান, গুল শেখ ও মজিদ খানসহ অনেক কাবুলিওয়ালার বসবাস।  

অপর ‘কাবুলিওয়ালা’ মজিদ খান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন হওয়ায় আমাদের ব্যবসায় খারাপ প্রভাব পড়েছে। অল্প লোক এখন আমাদের কাছে টাকা ধার নিতে আসে আবার তাদের অনেকেই টাকা ফেরত দেয় না।    

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় প্রায় শ খানেক কাবুলিওয়ালা এখনও আছেন। উপমহাদেশীয় দেশগুলোতে সুদে টাকা ধার দেওয়ার ব্যবসা তাদের অনেক পুরনো। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টি ‘কাবুলিওয়ালা’য় অসাধারণ চিত্র ফুটে উঠেছে কাবুলিওয়ালা, তাদের নির্দয় সুদি ব্যবসা আবার একই সঙ্গে দেশে ফেলা আসা স্বজন-সন্তানদের প্রতি স্নেহ ভালবাসার রূপ। বাঙালি শিশু মিনির জন্য নির্দয় কাবুলিওয়ালার অন্তরে উথলে ওঠা পিতৃস্নেহ আবেগাচ্ছন্ন করে তোলে সবাইকে।
 
আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে আসতো বিধায় সাধারণ লোকজনের কাছে এই শ্রেণির লোকগুলো ‘কাবুলিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।


মন্তব্য