kalerkantho


‘পাত্থরবাজদের’ ঠেকাতে ভারতে এবার ‘গুলতি ব্যাটালিয়ন’!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ১২:৪১



‘পাত্থরবাজদের’ ঠেকাতে ভারতে এবার ‘গুলতি ব্যাটালিয়ন’!

পিস্তল-রাইফেল নয়, হরিয়ানায় পুলিশের গুলতি প্রশিক্ষণ

বিষয়টি নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্কের লম্বা লাইন পড়েছে। বিশেষ করে কশ্মির ও অন্যান্য অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের পাথর ছোড়ার বিরুদ্ধে এবার নয়া কৌশল নিতে যাচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ‘ইটের জবাবে পাথর’- ফর্মুলায় পাথরওয়ালাদের বিরুদ্ধে লড়তে সরকার এবার হয়তো গঠন করতে যাচ্ছে ‘গুলেল ব্যাটালিয়ান’ যাকে বাংলায় বলা যায় ‘গুলতি বাহিনী’।

পাড়া-গাঁয়ের ঝোপজঙ্গলে দামাল কিশোর-তরুণদের শখের গুলতিবাজী যার প্রধান লক্ষ্য থাকে পাখি শিকার

শুক্রবার এনবিটি জানায়, মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীবহুল জেলা ঝাবুয়া থেকে এই আইডিয়া পেয়েছে সরকার। ‘গোফন’ অর্থাৎ গুলতি (Slingshot, catapult) ওই এলাকার আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র। শত শত বছরের ধারাবাহিকতায় তারা লড়াই-যুদ্ধে এই অস্ত্রের ইস্তেমাল করে এসেছে। এরই সূত্রে ওই আদিবাসীরা সরকারের কাছে ‘গুলেল ব্যাটালিয়ান’ গড়ার প্রস্তাব করেছে। আর আদিবাসীদের এই প্রস্তাবে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বিরোধী দল- উভয় পক্ষই সমর্থন করেছে।  

রাজ্যসভার বিজেপি দলীয় সদস্য শান্তিলাল বিলবাল এ প্রসঙ্গে বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা আত্মরক্ষার খাতিরেও জনগণের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিৎ এই (আদিবাসী) যুবকদের ব্যবহার করা।

গুলতি নিয়ে দখলদার ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ছে প্যালেস্টাইনি তরুণীরা

অর্থাৎ ঝাবুয়া জেলার আদিবাসীদের দিয়ে গুলতি ব্যাটালিয়ন গড়ে রাজনৈতিক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দমনে নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে তাদের কাজে লাগানোর কথা বলছেন এই বিধায়ক।  

কাশ্মিরে বিক্ষোভে গুলতির ব্যবহার

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশীয় অঞ্চলে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের গ্রামাঞ্চলে পাখির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষক এখনও গুলতি দিয়ে ইট-পাথর বা মাটি দিয়ে তৈরি গুলি ছুঁড়ে থাকে। আর প্রাচীনকালে এই গুলতি অনেক অঞ্চলেই শত্রু ঘায়েলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতো। এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে কোনো কোনো অঞ্চলের আদিবাসীরা তীর-ধনুকের সঙ্গে গুলতি দিয়েও লড়েছেন বলে জানা যায়।     

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে আগেও গুলতির ব্যবহার
গত ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গুলতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।  

তবে গুলতি ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়।

এ সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে হরিয়ানার জিন্দ জেলা পুলিশ প্রধান অভিষেক জরওয়াল জানিয়েছিলেন, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই গুলতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন তারা। তিনি আরও জানান, তারা যেসব গুলতি ব্যবহার করবেন সেগুলো বিশেষভাবে তৈরি এবং যথেষ্ট নিরাপদ।
পুলিশকে এখন থেকে তাদের লাঠি, টিয়ার গ্যাস এবং অন্যান্য অস্ত্রের পাশাপাশি গুলতি ব্যবহার করতে হবে বিক্ষোভ দমনে।

দুনিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের মতো হরিয়ানায়ও বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের ইট-পাটকেল বৃষ্টির মুখে অসহায় অবস্থায় পুলিশ 

গুলতির পক্ষে ওকালতিতে জরওয়াল আরও বলেছিলেন, আমাদের উদ্দেশ্য বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করা... আমাদের অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেবলমাত্র শেষ অস্ত্র হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে। এর আগে পর্যন্ত তারা টিয়ারগ্যাস এবং গুলতি ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমানোর চেষ্টা করবেন।

বিক্ষোভকারীদের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে, গুলতি দিয়ে ছোঁড়া হবে মরিচের গুড়ো এবং মার্বেল।

অপরদিকে জরওয়ালের মতে, মার্বেল বা মরিচের গুঁড়ো বড় কোনো ক্ষতি করবে না বলেই ধারণা। তবে বিক্ষোভকারীদের হটাতে এসব বেশ কার্যকর হবে।

  


মন্তব্য