kalerkantho


এয়ার ফোর্স ওয়ানের অবাক করা ২০ বৈশিষ্ট্য

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ১৬:০৫



এয়ার ফোর্স ওয়ানের অবাক করা ২০ বৈশিষ্ট্য

এয়ার ফোর্স ওয়ান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে বহন করে এমন কোনো এয়ারক্রাফটকে বোঝায়। ১৯৯০ সাল থেকে রাষ্ট্রপতির ফ্লাইটগুলো দুটো বিশেষভাবে নির্মিত বোয়িং ৭৪৭-২০০বি সিরিজের এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এয়ারফোর্স ওয়ান মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার একটি প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। একই সাথে এই বিমানটি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত এয়ারক্রাফট। এ এয়ারক্রাফট কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য রয়েছে, যেগুলো তুলে ধরা হলো এ লেখায়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড লাইফস্টাইল।
১. তিনতলা
এ এয়ারক্রাফটের ফ্লোর প্ল্যান বেশ অভিনব। মূল ডেক থেকে একে একতলা মনে হলেও বাস্তবে আরও দুটি তলা আছে। এর নিচের তলাটিতে যন্ত্রপাতি ও মালপত্র বহন করা হয়। সামনের অংশের একেবারে ওপরে আরেকটি তলা রয়েছে।
২. মিনি হাসপাতাল
এ এয়ারক্রাফটের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় কিংবা জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন হয় তাহলে কী করতে হবে? এসব বিষয় বিবেচনা করে এয়ারক্রাফটটিতে একটি মিনি হাসপাতালও রাখা হয়েছে।

এখানে সর্বদা চিকিৎসকও থাকে।
৩. চার হাজার বর্গফুট
এয়ারক্রাফটটিতে সর্বমোট প্রায় চার হাজার বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য স্থান রয়েছে। আর এর পুরোটাই নানা কাজের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
৪. আত্মরক্ষার উপকরণ
এ এয়ারক্রাফটে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় আত্মরক্ষার উপকরণ। এমনকি পারমাণবিক বোমা হামলা, পৃথিবীতে মহাজাগতিক বস্তুখণ্ডের আঘাত ও অন্যান্য বিপদের সময় এ বিমানটিতে চড়ে জীবন রক্ষা করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
৫. ঘণ্টায় ৭০০ মাইল
স্বাভাবিক অবস্থায় এ এয়ারক্রাফটের গতি প্রতি ঘণ্টায় ৫৮০ মাইল। তবে লিখিতভাবে সর্বোচ্চ গতি ৬৫০ মাইল। তবে বহু বিশেষজ্ঞই জানান, এটি বাস্তবে ৬৩০ থেকে ৭০০ মাইল গতিতেও চলতে পারে।
৬. আকাশেই জ্বালানি নিতে পারে
সামারিক বিভিন্ন বিমানের ক্ষেত্রে আকাশে জ্বালানি নেওয়ার ব্যবস্থা দেখা যায়। তবে এ বিমানটিতেও রয়েছে সেই ব্যবস্থা। ৩৫ হাজার ফুট ওপরে ওড়ার সময়েও এটি অন্য জ্বালানিবাহী এয়ারক্রাফট থেকে জ্বালানি নিতে পারে।
৭. দুই রান্নাঘর
এ এয়ারক্রাফটটিতে রয়েছে দুটি রান্নাঘর। এখান থেকে শতাধিক মানুষের পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা সম্ভব।
৮. ৮৫ টেলিফোন
এ এয়ারক্রাফটটিতে রয়েছে ৮৫টি টেলিফোন। আর এ ফোনগুলো এমনভাবে স্থাপিত যেন বাইরের কেউ আড়ি পাততে না পারে। স্বাভাবিক এয়ারক্রাফটে ওঠানামার সময় ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এ বিমানে তা নেই।
৯. অবৈধ পণ্য পরিবহনে এয়ার ফোর্স ওয়ান
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি রাজ্যে কুরস বিয়ার পাওয়া যেত। অন্যান্য রাজ্যে এটি নিষিদ্ধ থাকলেও এয়ার ফোর্স ওয়ানের কর্মচারিরা এটি কিনে নিয়ে পরিহন করত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের শাসনামলে একবার এ ধরনের ঘটনায় এয়ারক্রাফটটিতে বিপুল সংখ্যক কুরস বিমান বোঝাই করার রেকর্ড রয়েছে।
১০. গোয়েন্দা এয়ারক্রাফটে রূপান্তর
১৯৫৯ সালে এ এয়ারক্রাফটে প্রচুর পরিমাণে গোয়েন্দা উপকরণ সংযুক্ত হয়। এসব উপকরণের মধ্যে রয়েছে উচ্চমানের ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা এতই শক্তিশালী ছিল যে, ২৯ হাজার ফুট ওপর থেকেও একটি গাড়ির নাম্বারপ্লেট দেখা যেত।
১১. চলমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
এ এয়ারক্রাফটে বিভিন্ন যোগাযোগ সামগ্রী বসানো রয়েছে। এগুলোর সহায়তায় যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন কমান্ড পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা যদি বিঘ্নিত হয় তাহলে এ বিমানটিতে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১২. এয়ার ট্রাফিক সমস্যা নয়
বিভিন্ন বাণিজ্যিক এয়ারক্রাফটের জন্য এয়ার ট্রাফিক একটি সমস্যা হয়ে উঠেছে। এয়ারপোর্টে ওড়ার ও অবতরণের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এ এয়ারক্রাফট এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত। কারণ এটি যখন ওঠানামা করে তখন অন্য সব এয়ারক্রাফট দূরত্ব বজায় রাখে। অধিকাংশ সময় অবশ্য এটি সামরিক বাহিনীর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে। ফলে অন্যদের অসুবিধা হয় না।
১৩. ধারণক্ষমতা ৯৬
এ এয়ারক্রাফটের ধারণক্ষমতা ৯৬ জন যাত্রী। তাদের মধ্যে থাকবে ২৬ জন ক্রু ও ৭০ জন যাত্রী। সব যাত্রীর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যই যাত্রী ধারণক্ষমতা কম এতে।
১৪. নির্দিষ্ট আসন ব্যবস্থা
এ এয়ারক্রাফটে কে কোথায় বসবে, তা সর্বদা নির্ধারিত থাকে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে। সাধারণত কোনো সফরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভ্রমণ করে আসন সংখ্যার অর্ধেক সাংবাদিক ও সিক্রেট সার্ভিসের লোকজন।
১৫. ব্যয়বহুল এয়ারক্রাফট
এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্মাণব্যয় অত্যন্ত বেশি। আগের মডেলগুলো তৈরিতে ৬৬০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। নতুন প্রজন্মের দুটি এয়ার ফোর্স ওয়ান নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। যদিও এ নির্মাণচুক্তির বিরোধীতা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
১৬. হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অনুমোদন দেওয়া হয়
এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি ফ্লাইটেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এ অনুমোদন দেন ২০০২ সালে বার্লিন যাওয়ার পথে। এ ধরনের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজই এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে করা হয়।
১৭. লাইভ কনসার্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন জ্যাজ সঙ্গীতের ভক্ত। এ বিমানে চড়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সময় তিনি সঙ্গে নিয়ে নিতেন জ্যাজ শিল্পীদের। আর উচ্চ ভলিউমে সেই সঙ্গীত যেন লাইভ কনসার্টে রূপ নিত।
১৮. প্রতিঘণ্টায় ব্যয় ৫৬ হাজার ডলার
এ প্লেনটি পরিচালনা মোটেই সহজ নয়। কারণ সবকিছু মিলিয়ে এর ব্যয় অত্যন্ত বেশি। পরিসংখ্যানে প্রকাশ এটি প্রতি ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ডলার ব্যয় করে।
১৯. অসীম রেঞ্জ
বিশ্বের যে কোনো স্থানে এ প্লেন উড়ে যেতে সক্ষম। এতে আকাশ থেকেই জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে।
২০. ২৪০ মাইল তার
এ প্লেনটির ভেতরে যত তার আছে সেগুলো একত্রে জোড়া দিলে ২৪০ মাইল লম্বা হবে। বিভিন্ন যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়েছে এসব তার।


মন্তব্য