kalerkantho


তিনি পাবনা শহরে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ২২:১১



তিনি পাবনা শহরে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন

গোরী রানী মজুমদার। ছিলেন জমিদার পরিবারের একমাত্র কন্যা।

বিলাসী জীবন-যাপনে না গিয়ে তিনি জনসেবায় মন দেন। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পাবনা জেলা শহরে সেই সময়ে বিভিন্ন মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বই পড়তে তিনি খুবই ভালোবাসতেন। এ কারণেই তিনি বাড়িতেই একটা পাঠাগার গড়ে তুলেছিলেন। ছিলেন প্রয়াত চলচিত্র অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের ঘনিষ্ঠ সহপাঠী।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার বিশিষ্ট সাহিত্য অনুরাগী ও সমাজসেবী এই মহীয়সী নারী গৌরী রানী মজুমদার মঙ্গলবার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বার্ধক্যজনিত কারণে রাত ১২.২০ মিনিটে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।  

তিনি দুপচাঁচিয়া বোরাইপাড়া মহল্লার স্বর্গীয় সন্তোষ মজুমদারের স্ত্রী ও পাবনা জেলার শালগাড়িয়া গ্রামের বিশিষ্ট জমিদার স্বর্গীয় প্রবোধ চক্রবর্তীর একমাত্র কন্যা। মৃত্যুকালে তিনি ৬ ছেলে, ১ মেয়ে, জামাতা নাতী-নাতনীসহ আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

বুধবার দুপুরে দুপচাঁচিয়া কালীবাড়ি মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।  

এই মহীয়সী নারী পৌরী মজুমদার ১৩৪৫ বাংলা সনে পাবনা জেলা শহরের শালগাড়িয়া এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম স্বর্গীয় পোবদ কুমার চক্রবর্তী আর মার নাম স্বর্গীয় সুনিকা চক্রবর্তী। ১৩৬১ বাংলা সনে মাত্র ১৬ বছর বয়সে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের বোরাই এলাকার স্বর্গীয় সন্তোষ মজুমদারের সাথে তার বিয়ে হয়। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পাবনা জেলা শহরে সেই সময়ে বিভিন্ন মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন।  

মহিয়সী এই নারী দুপচাঁচিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় ও দুপচাঁচিয়া পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর সদস্য ছিলেন। তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দুপচাঁচিয়া মহিলা সমিতির সভানেত্রী হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। বই পড়তে তিনি খুবই ভালোবাসতেন। এ কারণেই তিনি বাড়িতেই ছোট খাটো একটা পাঠাগার গড়ে তুলেছিলেন। তিনি তার গড়া পাঠাগারে বাংলাদেশে ও ভারতের অনেক নামী দামী লেখকের প্রচুর বই সংগ্রহ করেছিলেন।

তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় একমাত্র জামাতা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব অসিত কুমার মুকুটমুনি, দুপচাঁচিয়া শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি ইউএনও শাহেদ পারভেজ, পৌর মেয়র বেলাল হোসেন, প্রয়াতের নাতনী জামাই বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর এবিএম জহুরুল ইসলাম খান মিলন, রায়হান সরদার রতন, দিলবর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহম্মেদুর রহমান বিপ্লব, পৌর সচিব কার্তিক চন্দ্র দাস, দৈনিক চাঁদনী বাজারের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এম, সরওয়ার খান, দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ফারুক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আব্দুল্লাহ প্রিন্স সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত এই সমাজসেবীর আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে পৌর মেয়র বেলাল হোসেন ও সকল সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলরবৃন্দ, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফজলুল হক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহম্মেদুর রহমান বিপ্লব, দুপচাঁচিয়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এএইচএম নুরুল ইসলাম খান হিরু, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক সুদেব কুণ্ডু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুমার দাস, মহাশ্মশান কালীবাড়ী পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি দ্বিজেন্দ্রনাথ বসাক মন্টু, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের পরিমল চৌধুরী, আলাউদ্দিন ফকির, আব্দুস সালাম, চাঁদনী বাজার পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি সাগর কুমার রায়, সম্পাদক সুমনা রায়, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এম, সরওয়ার খান, দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি খাইরুল ইসলাম দেওয়ান, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রথিন্দ্রনাথ বসাক কালা, সাধারণ সম্পাদক পূলক কুমার কর্মকার, দুপচাঁচিয়া চাউলকল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোবারক আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক, কোধাষ্যক্ষ নাজমুল বারী স্বপন, বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব শামছুদ্দিন আহমেদ, নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুল বাছেদ বিবৃতি প্রদান করেছেন।


মন্তব্য