kalerkantho


রহস্যময় ঝুলন্ত স্তম্ভ নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে এই মন্দির!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৭ ১৭:২৩



রহস্যময় ঝুলন্ত স্তম্ভ নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে এই মন্দির!

একটা থাম বা স্তম্ভ। শুরু হয়েছে মন্দিরের ছাদ থেকে।

তারপর নামছে‚ নামছে। কিন্তু পুরো ভূমি স্পর্শ করল না। তার লেশমাত্র আগে থেমে গেল। কয়েকশো বছর ধরে এভাবেই আছে সে। ঐতিহাসিক মন্দিরের ঝুলন্ত স্তম্ভ হয়ে। ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের মতো এ হল প্রাচীন ভারতের রহস্যময় ঝুলন্ত থাম। আছে অন্ধ্রপ্রদেশের লে পক্ষী মন্দিরে।

বহু প্রয়াসেও উদ্ধার করা যায়নি এর রহস্য। ষোড়শ শতকে বিজয়নগর সাম্রাজ্যে নির্মিত এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত স্তম্ভ বা হ্যাঙ্গিং পিলার।

দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরম জেলায় অতীত-মহিমার নিদর্শন হয়ে‚ কূর্মাশৈলম পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে লে পক্ষী মন্দির। কথিত‚ কাছিমের মতো দেখতে এই পাহাড়েই রাবণরাজের আক্রমণে পড়ে যান আহত জটায়ু। সীতাকে খুঁজতে বেরিয়ে জটায়ুর দেখা পান রামচন্দ্র। মৃতপ্রায় পাখিকে তিনি বলেন‚ ‘লে পক্ষী‘| তেলুগুতে যার অর্থ‚ পাখি‚ ওঠো। সেই থেকে‚ স্থানের নামও লে পক্ষী।

ষোড়শ শতকে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের শাসনে এই মন্দির নির্মাণ করেন বিরূপান্ন এবং বিরান্ন। মন্দিরে ৭০ টি স্তম্ভ আছে। তার মধ্যে একটি ঝুলছে। ছাদ থেকে নীচে নামতে নামতে ভূমির একটু উপরে হঠাৎই থেমে গেছে। ব্রিটিশ বাস্তুবিদরা চেষ্টা করেছিলেন এর রহস্য ভেদের। জানতে চেয়েছিলেন কী করে রক্ষিত হচ্ছে ভারসাম্য। কিন্তু পারেননি। তুঙ্গভদ্রা দিয়ে বহু জল বয়ে গেছে। কিন্তু প্রাচীন এবং মধ্য ভারতের বাস্তুবিদদের প্রযুক্তি এখনও অবধি অধরা। হার মেনেছেন ইওরোপের বিশেষজ্ঞরাও।

এই ঝুলন্ত-থাম ছাড়া লে পক্ষী মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ নন্দীর মূর্তি। ২৭ ফিট x ১৫ ফিটের এই মূর্তি হল ভারতের সবথেকে বড় মনোলিথিক নন্দী। অর্থাৎ একটি পাথর খোদাই করে তৈরি হয়েছে মূর্তিটি। মন্দিরে একাধিক রূপে শিব‚ সঙ্গে ভদ্রকালী এবং গণপতি‚ পূজিত হন। স্থাপত্যের সঙ্গে চোখ ধাঁধিয়ে দেয় মন্দিরের ম্যুরাল এবং ফ্রেস্কো।

- ইন্টারনেট


মন্তব্য