kalerkantho


৪৭ তলা থেকে পড়েও তিনি বেঁচে আছেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৭ ১২:৪৭



৪৭ তলা থেকে পড়েও তিনি বেঁচে আছেন

নিউ ইয়র্কের সুউচ্চ ভবনগুলোতে জানালা পরিষ্কারের কাজ করেন অ্যালসাইডস মরেনো। আর এ কাজ করতে গিয়ে তিনি পেশাগত কারণেই ঝুঁকির মধ্যে সময় কাটাতেন।

এত উঁচু ভবনের ওপর থেকে পড়ে বাঁচার রেকর্ড নেই বললেই চলে। কিন্তু অ্যালসাইডস ৪৭ তলার ওপর থেকে পড়েও সবার আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে বেঁচে রয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিবিসি।
সাধারণত ১০ তলা ভবনের ওপর থেকে পড়লে বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়। আর বহু সতর্কতার পরেও ৪৭ তলা ভবনের ওপর থেকে পড়ে তাই তিনি যে বেঁচে থাকবেন, এমন কথা কেউ ভাবতেই পারেনি।
অ্যালসাইডস বলেন, ‘আমি জানালাগুলোকে সত্যিই পরিষ্কার দেখতে ভালোবাসি। আমি সেগুলোকে পানি ও সাবান দিয়ে ধুই। আমরা সাধারণত সবচেয়ে ওপরের তলায় কাজ শুরু করি এবং একেবারে নিচে এসে কাজ শেষ করি। ’
যেদিন দুর্ঘটনাটি ঘটে সেদিন তারা ম্যানহ্যাটনের বিলাসবহুল সলয় টাওয়ারে কাজ করছিলেন। অ্যালসাইডস ও তার ছোট ভাই ৪৭ তলার ওপর ভবনের বাইরে ঝুলে জানালা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় তাপমাত্রা খুবই কম ছিল। প্রায় বরফ হওয়ার মতো তাপমাত্রা। আর এ সময় তার দিয়ে তিনি আটকানো ছিলেন। তবে হঠাৎ করেই একটি তার খুলে যায় এবং তিনি সোজা নিচে পড়ে যান।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, তিনি নিচে পড়ার সময় তার এ গতি গিয়ে পৌঁছায় ঘণ্টায় ১২০ মাইলেরও বেশি। আর এ অবস্থায় আঘাত খুবই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তিনি একটি সংকীর্ণ স্থানে গিয়ে পড়েন। সেখানে একটি কাঠের বেড়া ছিল।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেখানে উদ্ধারকারীরা গিয়ে হাজির হয়। তারা জানত এ অবস্থায় তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন। তবে তখনও তার শ্বাসপ্রশ্বাস চালু ছিল। সামান্যতম অসাবধানতাই তার মৃত্যু ঘটাতে পারে। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি কোমায় ছিলেন। তার মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছিল। এছাড়া স্পাইনাল কলাম, বুক ও উদরে আঘাত লেগেছিল। পাশাপাশি ফ্র্যাকচার হয়েছিল দুই পা, পাজর ও ডান বাহুতে। এছাড়া রক্তপাত হওয়ায় তাকে ২৪ পাইন্ট রক্ত দিতে হয়।
চিকিৎসকরা অসংখ্য অস্ত্রোপচার ও নিবিড় চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তাকে ভালো করে তোলেন। তার সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ সালের ৭ ডিসেম্বর। তবে সুস্থ হওয়ার পর এখনও তিনি সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করলে আৎকে ওঠেন। তবে উচ্চতাকে এখনও ভয় পান না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাকে উঁচু ভবনের ছাদ থেকে ছবি তুলতে দেখা যায়। তার সাফল্যের এ ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি নজির হিসেবেই থেকে যায়।


মন্তব্য