kalerkantho


সুস্থ আছে হাজার কয়েন খাওয়া কচ্ছপটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৭ ১৫:১২



সুস্থ আছে হাজার কয়েন খাওয়া কচ্ছপটি

ওমসিন নামের কচ্ছপটির বাস গালফ অব থাইল্যান্ডে। স্থানীয়দের ধারণা কচ্ছপটির উপস্থিতি তাদের জন্য সৌভাগ্যর প্রতীক।

স্থানীয় ও পর্যটকরা তাই নিজের ভাগ্য যাচাইয়ের জন্য কয়েন টস করেন। আর সেই কয়েন নিক্ষেপ করেন সেই সৈকতে। যেন কচ্ছপকে সেটি উপহার দিলেন। তবে কয়েন উপহার দিলেও তো সেটা খাবার জিনিস নয়। কিন্তু অবুঝ কচ্ছপকে বোঝাবে কে? উপহার বলতে সে তো খাদ্যদ্রব্যকেই চেনে। তাই দীর্ঘদিন ধরে সে কয়েনগুলো গিলে খাচ্ছিল। এভাবে সে একটি দুটি নয়, প্রায় ১ হাজার কয়েন পেটে চালান দেয়। কিন্তু ধাতুর তৈরি কয়েন তো আর গলে যাওয়ার জিনিস নয়। ফলে সেগুলো কচ্ছপটির পাকস্থলির ওজনই শুধু বাড়ায়নি, খাওয়া-দাওয়ার পথও বন্ধ করে দেয়। এমন অবস্থায় দিন ভালো যাচ্ছিল না ওমসিনের। বেশ কিছুদিন ধরেই খাওয়া বন্ধ করেছিল, আচরণেও বোঝা যাচ্ছিল সে ভালো বোধ করছে না।

ওমসিন নামের কচ্ছপটি এতটাই বিরল প্রজাতির যে পৃথিবীতে এই ধরনের কচ্ছপ এখন দেখা যায় না। সবুজ রংয়ের হওয়ায় ওমসিন নামও দেওয়া হয়েছে সে কারণেই। গত মাসের শেষ দিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কচ্ছপটির আচরণ দেখে তাকে চিকিৎসার জন্য বিশেষ তত্ত্বাবধানে নেয়। কনবুরিতে নৌবাহিনীর Sea Turtle Conservation Centre এ তাকে নেওয়া হয়। এরপর তাকে পরীক্ষা করে আশ্চর্য হয়ে যান তারা। এক্স-রে রিপোর্টে ধরা পড়ে কচ্ছপটির পেটভর্তি মুদ্রা বা কয়েন রয়েছে। ওমসিন যেন জীবন্ত মাটির ব্যাংক। চিকিৎসকরা বিরল প্রজাতির এই কচ্ছপটিকে বাঁচাতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। কচ্ছপটিকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চললেও তারা আশা খুব কমই দেখছিলেন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানান, এই কয়েনগুলো ওমসিন কমপক্ষে একবছর ধরে খেয়েছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে কচ্ছপটির শরীরে অস্ত্রোপচার চালান চিকিৎসকরা।

পরে তারা জানান, কচ্ছপটির পেট থেকে ৯১৫টি কয়েন পাওয়া গেছে। যার বেশির ভাগই অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কচ্ছপটির বয়স কত সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাদের ধারণা, ওমসিনের বয়স ২৫ বছর হতে পারে। যদিও থাইল্যান্ডের প্রকাণ্ড আকারের কচ্ছপগুলো হাজার বছর বাঁচতে পারে বলে শোনা যায়। বর্তমানে কচ্ছপটি অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে আরও মাসখানেক লাগতে পারে। প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেখাই যাচ্ছে, মানুষের দেওয়া সৌভাগ্যের প্রতীকগুলো ওমসিনের জন্য পরিণত হয়েছিল দুর্ভাগ্যে।

 


মন্তব্য