kalerkantho


ভারতের বিভিন্ন স্থানে এসিড বৃষ্টি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৬:৫৩



ভারতের বিভিন্ন স্থানে এসিড বৃষ্টি

ভারতের বিভিন্ন স্থানের বৃষ্টির পানি পরীক্ষায় দেখা গেছে তাতে মাত্রাতিরিক্ত এসিড রয়েছে। আর এর কারণ হিসেবে দেশটির ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণকে দায়ী করছেন গবেষকরা।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ভারতের ছোট বড় বিভিন্ন শহরেই পরিবেশ দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। আর এ পরিবেশ দূষণের ফলে (বিশেষত বায়ু দূষণে) পানিতে এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে বৃষ্টির পানির পিএইচ মাত্রা দেখা গেছে ৪.৭৭ থেকে ৫.৩২। আর এ বিষয়টিকে এসিড বৃষ্টি হিসেবেই বলছেন গবেষকরা।
বৃষ্টির পানির সঙ্গে যদি অতিরিক্ত এসিড আসে তাহলে তাতে মাটির পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। এছাড়া ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়ে থাকে। পাশাপাশি বহু প্রাণীদেরও এতে ক্ষতি হয়।
ভারতের নাগপুর, মহানবারি (আসাম), এলাহাবাদ ও বিশাখাপত্তমে ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বৃষ্টির পানির পিএইচ মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৪.৭৭ থেকে ৫.৩২ পিএইচ মাত্রা পাওয়া যায়। এতে সেসব অঞ্চলের বৃষ্টির পানিতে অতিরিক্ত এসিড রয়েছে বলে গবেষকরা জানান।
বৃষ্টির পানির এসিড বলতে মূলত নাইট্রিক এবং সালফিউরিক এসিডকেই বোঝানো হয়ে থাকে। বিভিন্ন কল-কারখানা ও গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর নানা রাসায়নিক পদার্থের ফলে বায়ু দূষণ হওয়ায় এসিড বৃষ্টির মূল কারণ বলে জানান গবেষকরা।
প্রাণিজগৎসহ পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব রয়েছে এসিড বৃষ্টির। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক কারণেও এসিড বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা একেবারে সীমিত পরিসরে। এসিড বৃষ্টির জন্য মূলত দায়ী মানুষই। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে। এ গ্যাস দুটি বায়ুমণ্ডলে মিশে সালফিউরিক এসিড, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, নাইট্রিক এসিড উৎপাদনে সক্ষম এমন বিভিন্ন গ্যাস-পানি এবং অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া শুরু করে। এরপর এসব এসিড বাতাসের কারণে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে বৃষ্টি, তুষারপাত বা কুয়াশার রূপ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
বায়ু দূষণ রোধ করা সম্ভব হলে এসিড বৃষ্টিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ কারণে বায়ু দূষণকে নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


মন্তব্য