kalerkantho


এই রাজার ছিল ২৯৩০টি হিরার কণ্ঠহার‚ ৩৩২ জন দাসী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৬:৫২



এই রাজার ছিল ২৯৩০টি হিরার কণ্ঠহার‚ ৩৩২ জন দাসী!

খাজুরাহো বা কোনার্কের মন্দিরে কামরতিরত নারী-পুরুষ দেখে আন্দাজ করা যায় প্রাচীন ভারতে যৌনতা কতটা গুরুত্ব পেত। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই প্রাচীনত্ব লোপ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কামবাসনাও সমাজ থেকে দূর হয়েছিল। বেশি অতীতে যেতে হবে না। ব্রিটিশ ভারতবর্ষেও বিভিন্ন নেটিভ স্টেটের রাজা রাজড়াদের কীর্তিকলাপ জানলে চমকে উঠতে হয়।

এরকমই একজন ছিলেন পাতিয়ালার মহারাজা ভূপিন্দর সিং। জন্ম ১৮৯১ সালে। সিংহাসনে আরোহণ করেন মাত্র ৯ বছর বয়সে।  সাবালক হওয়ার পরে তাঁকে দেওয়া হয় ব্রিটিশ শাসনের অধীনে পাতিয়ালা স্টেটের পূর্ণ শাসনভার।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে Imperial War Council-এ তিনি ছিলেন ভারতীয় প্রতিনিধি। শিখদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন গোল টেবিল বৈঠকে। রনজি ট্রোফির জন্যেও বহু কিছু করেছেন।

নিজে তৎকালীন ভারতীয় ক্রিকেট দলে খেলেওছেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাতিয়ালার। তাঁর আমলে পাতিয়ালায় চলত মোনোরেলও।

এবার অন্য প্রসঙ্গে চোখ রাখুন। দেখুন কতটা বিলাসব্যসনে ডুবে থাকতেন এই মহারাজা।

তিনি প্রথম ভারতবাসী যিনি কিনেছিলেন আস্ত এয়ারলাইন্স। মালিক হয়েছিলেন ব্রিটিশ ওই উড়ান সংস্থার। ১৯২৬ সালে এক ট্রাঙ্ক ভর্তি মণি মাণিক্য তিনি পঠিয়েছিলেন ফরাসি অলঙ্কার নির্মাতা কার্তিয়ের-কে। পেটিকায় অন্য দামী পাথরের সঙ্গে ছিল বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম হিরে। সেসব দিয়ে তৈরি হয়েছিল বিখ্যাত পাতিয়ালা নেকলেস। তখনই এর দাম ছিল ২৫ মিলিয়ন ডলার।

নেকলেসে ওই বড় হিরে সহ ছিল মোট ২৯৩০টি হিরে এবং অন্যান্য দুর্মূল্য পাথর। এই কণ্ঠহার রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যায় তাঁর মৃত্যুর পরে। ব্রিটিশ সরকার দাবি করেছিল‚ প্রয়াত মহারাজ ভূপিন্দর সিং-এর প্রথমা স্ত্রী সেটা উপহার দিয়েছিলেন রানি মেরিকে। দিল্লি দরবারে‚ রানির প্রথমবার ভারত সফর উপলক্ষে। এই ঐতিহাসিক নেকলেস পরে নানা হাত ঘুরে আংশিক পাওয়া যায়। সেসব অন্য অধ্যায়। এখানে বলি‚ অগাধ সম্পত্তির মধ্যে ভূপিন্দর সিং-এর গাড়িশালে ছিল ২০টিরও বেশি রোলস রয়েস। ছিল মার্সিডিজ মেব্যাক। সেটা নাকি তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন স্বয়ং হিটলার! ইংল্যান্ডের রাজাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন বলে এই মহারাজা বানিয়েছিলেন ১৪০০ বাসনের ডিনার সেট। সম্পূর্ণ রুপোর। কয়েক বছর আগে তা আকাশছোঁয়া দামে তা নীলাম হয়েছে।

শুধু জড় পদার্থ নয়। তীব্র আসক্তি ছিল নারীসঙ্গে। তাঁর ৫ জন ( বা কোথাও দাবি‚ ১০ জন ) স্ত্রীর সন্তান ছিল ৮৮ জন। আর ছিল বিশাল হারেম। সেই অন্তঃপুরে তাঁর যৌনদাসী থাকতেন অন্তত ৩৩২ জন। দিনের যে কোনও সময়ে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে যত জনের সঙ্গে যেভাবে খুশি যৌনতায় মেতে উঠতেন মহারাজ ভূপিন্দর সিং। সেই বর্ণনা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে দেওয়ান জারমানি দাসের বই ‘ দ্য মহারাজা ‘-এ। যেখানে ভূপিন্দর সিং ছড়াও আছে অন্য ভারতীয় স্টেটের কামাসক্ত রাজা মহারাজাদের যৌন জীবন।

সেই বইয়ে দাবি করা হয়েছে ভূপিন্দর সিং-এর এমন এক মহল ছিল যেখানে প্রবেশ করতে পারতেন শুধু নগ্ন পুরুষ ও নারী। গ্রীষ্মকালীন বিনোদনের সেই প্রাসাদে ছিল সুইমিং পুল। তার চারপাশে বসে থাকতেন নগ্নিকারা। সাঁতারের মাঝে যৌনতায় মেতে উঠতেন কামুক মহারাজা। কখনও চলত জলকেলি। ফূর্তি করতে আসতেন সাহেবরাও।

সব থেকে ভয়ঙ্কর অধ্যায় হল তান্ত্রিক যৌনতার। সেটা উপভোগ করবার জন্য মহারাজাকে সাহায্য করতেন এক তান্ত্রিক। নাম তাঁর প্রকাশনন্দ ঝা।

জারমানি দাসের বইয়ের বিবরণ থেকে জানা যায়‚ দেবীমূর্তির সামনে ডাকা হতো ১৫০ থেকে ৪০০ জন মেয়েকে। বেশিরভাগই কুমারী। মহিষবলির পরে গভীর রাত অবধি পুজো করতেন বাঘ্ছাল পরিহিত প্রকাশ তান্ত্রিক। সেখানে মহারাজার ঘনিষ্ঠ জন ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার ছিল না।

পুজোর পরে দেবীমূর্তির সামনে বিবস্ত্র হতে বলা হতো ওই মেয়েদের। তারপর তান্ত্রিকের নির্দেশে কয়েকজন মদমত্ত যুবক এসে মেয়েদের দেহে সুরা ঢালত। এরপর রাতভর কী চলত সহজেই অনুমেয়। বলি দেওয়া পশুরক্তের সঙ্গে মিশে যেত হতভাগ্য তরুণীদের রক্ত। তীক্ষ্ণ শীৎকারে চাপা পড়ে যেত তাদের কান্না।

জীবনভর এই উচ্ছৃঙ্খলতার মাশুল দিতে হয়েছিল মহারাজা ভূপিন্দর সিংকে। ১৯৩৮ সালের ২৩ মার্চ তিনি প্রয়াত হন মাত্র ৪৭ বছর বয়সে। পাতিয়ালার সিংহাসনে বসেন তাঁর বড় ছেলে যাদবেন্দ্র সিং। তাঁর আমলেই স্বাধীন ভারতবর্ষের অংশ হয় পাতিয়ালা স্টেট।

- ইন্টারনেট


মন্তব্য