kalerkantho


'সভ্য দেশের' অসভ্য নাগরিক!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৪:১৪



'সভ্য দেশের' অসভ্য নাগরিক!

‘কয়লা ধুয়ে ময়লা যায় না’- এমন প্রবচন হয়তো ডেরি ম্যাককান্ন-এর মতো ব্যক্তিদের জন্যই তৈরি হয়েছিল

কথায় বলে, কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না। অর্থাৎ 'হাজারবার ধুলেও কয়লার ময়লা সাফ হয় না'। এ ঘটনা তেমনি 'মানবরূপী এক কয়লা'কে নিয়ে।  

বিয়ের আসরে কনে অপেক্ষা করছেন কখন বিয়েটা হয়ে যায়। তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাই বিয়েটা জরুরি হয়ে পড়েছিল। বিয়ে পড়ানোর জন্য অপেক্ষমাণ আছেন গির্জার পাদ্রিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনরা। উপস্থিত কনের গর্ভস্থ সন্তানের পিতাও অর্থাৎ পাত্র মহাশয়ও। তবে ঘটনা এখানে কিছু ঘটেনি।

বিয়ের আসরে হাসিখুশিই লাগছে বরকে। তবে মাত্র ভোররাতেই তিনি ব্যস্ত ছিলেন জঘন্য ঘিনঘিনে এক অপকর্মে।

ডেরি ম্যাককান্ন নামের ২৮ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বর ঘর থেকে টেনে নিয়ে পূর্ব লন্ডন শহরের হ্যাকনি এলাকার এক পার্কে ধর্ষণ করেছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে। দুই ঘণ্টা ধরে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান ডেরি।

ডেরি তার ধর্ষণের শিকার ভীত-সন্ত্রস্ত মেয়েটিকে প্রচুর মারধরও করেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়- শেষদিকে তিনি ওই নারীর ছবিও তুলে নেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর 'জেন্টলম্যান' হয়ে গিয়ে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। রয়টার্স জানায়, সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল ডেরি। ২০০৬ সালে করা অপর এক ধর্ষণের ঘটনায় কারাদণ্ড হয়েছিল তার।

চেহারা দেখে অনেক সময়েই বোঝা যায় না ডেরির মতো ব্যক্তিরা কতটা ভয়াবহ

এদিকে, গত ১৩ জানুয়ারি ভোররাতের ওই ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে চারটি অপরাধের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ ও ধর্ষণের শিকার নারীর সেলফোন চুরি।

ব্রিটেনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হেল্ড বলেন, "এটা ছিল একজন পুরুষের দ্বারা চালানো ভয়াবহ, নির্মম আর দীর্ঘসময় ধরে চলা এক ধর্ষণের অপরাধ যার উদ্দেশ্য ছিল আতঙ্ক আর মনস্তাত্ত্বিক দুর্ভোগ ঘটানো। "

এই জঘন্য অপরাধের সাজা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মার্টিন জেইডম্যান জানিয়েছেন, ডেরিকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করাদাণ্ড দেওয়া হবে। আগামী ২৮ এপ্রিল মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।  

 


মন্তব্য