kalerkantho


জীবন্ত কবর দিলেন নিজেকেই, কথা বললেন মানুষের সঙ্গে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৩:৩৫



জীবন্ত কবর দিলেন নিজেকেই, কথা বললেন মানুষের সঙ্গে!

অনেকেই তাকে পাগল বলেই ভাবছেন। লোকটি নিজেই নিজেকে জীবন্ত কবর দিয়েছে! তাকে পাগল না ভেবে উপায় আছে? কিন্তু মরার জন্য এ কাজটি করেননি তিনি। বিষণ্নতা ও মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এ কাজ করেছেন তিনি।

তিনি নিজেই একসময় মাদকাসক্ত ছিলেন। নিজের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে। তিন দিন ধরে কবরে শুয়েছিলেন তিনি। সেখানে শুয়েই তিনি নিজের চিন্তাধারা আর অনুভূতি মানুষের সঙ্গে শেয়ার করেছেন লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে।

নাম তার জন এডওয়ার্ডস। এমন সিদ্ধান্ত তাকে অন্যদের কাছে সাহসী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিন দিনের জন্য কবরে শোয়ার প্রস্তুতি নিলেন। প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কফিনে শুয়ে পড়লেন।

লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য কফিনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়। তিন দিন থাকতে হবে, তাই আরামের জন্য ভেতরে নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

এক চ্যারিটির জন্য এই কঠিন কাজটি তিনি করে দিচ্ছেন বিনামূল্যে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের পুবের উইলোফিল্ড পেরিশ চার্চে মাটির নিচে একটি কফিনে অনায়াসে শুয়ে পড়লেন। 'আমি একসময় মাদকাসক্ত ছিলাম এবং গত ২৫ বছর ধরে সবকিছু থেকে মুক্ত আছি', বেলফাস্ট লাইভকে জানান জন।

বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন এডওয়ার্ডস। অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে বললেন, খুব বড় একটি কফিন বানিয়েছি। পূর্ব বেলফাস্টে এটাকে মাটির নিয়ে রেখে তার মধ্যে শুয়েছি। সেখানেই তিন দিন ছিলাম। এ সময় আমার সঙ্গে অনেক মানুষ যোগাযোগ করেছেন। এদের সবার মানসিক অবস্থা বিপর্যস্ত। কেউ আত্মহত্যা-প্রবণতায় ভুগছেন। আমার পরিকল্পনা ছিল, কোনো দুর্ঘটনা ঘটানোর আগেই তাদের কাছে পৌঁছানো এবং এ ধরনের চিন্তা থেকে তাদের বের করে আনা। তাদের আশা দেওয়াই ছিল আমার লক্ষ্য।

এই মানুষটি এর আগেও এ ধরনের সাহসী কাজ করেছেন। দেশজুড়ে সচেতনতা ছড়াতে বেশ কাজের এই পদ্ধতিগুলো। বিষণ্নতায় ভুগছেন বা মাদকাসক্ত এমন গোটা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা নিয়ে শুয়েছিলেন কবরে। তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা, ই-মেইল চালাচালি, স্কাইপ বা টেক্সট সব ব্যবস্থাই ছিল।

ওই চার্চের প্রধান যাজক ডেভিড ম্যাকক্লে বলেন, কবর থেকে জন সবার জন্য আশাজাগানিয়া মেসেজ দিয়েছেন। যারা বিষণ্নতা এবং মাদকাসক্তি নিয়ে যুদ্ধ করছেন তাদের জন্য আশাবাদ। যারা জীবনটাকে নৈরাশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন তাদের জন্যেই এ কাজ করেছেন জন।
সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য