kalerkantho


বাংলা উচ্চারণের সংক্ষিপ্ত সূত্রাবলি (২৭)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:১২



বাংলা উচ্চারণের সংক্ষিপ্ত সূত্রাবলি (২৭)

বাংলা উচ্চারণের বিশেষ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। রেডিও-টিভিতে প্রচারিত খবর, আবৃত্তি বা শিল্পীর কণ্ঠে গান শুনতে গিয়ে আমরা বিষয়টি টের পাই। বুঝতে পারি, আর দশজন থেকে তাদের উচ্চারণে ভিন্নতা রয়েছে। কিন্তু কিসে তাদের উচ্চারণে ভিন্নতা এনে দেয়, তা বুঝতে পারি না। 'বাংলা উচ্চারণের সংক্ষিপ্ত সূত্রাবলি' আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে আপনিও শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বলা শিখে নিতে পারেন।

২৮ পর্বে সাজানো এ ধারাবাহিকের আজ থাকছে পর্ব ২৭।

ড় ঢ় : এ দুটি ধ্বনি উচ্চারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় গোলমালের সৃষ্টি হয়। সংস্কৃতে ড় ঢ় বাংলা শব্দের মধ্যে ও শেষে ব্যবহৃত হলে উচ্চারণ হয় ড়ঢ় (সংস্কৃতের পীডা, বাংলা ভাষায় পীড়া, তামিল নাডু তামিল-নাডু, মুঢ মুঢ় এবং গাঢ গাঢ়তে রূপান্তরিত)। বাংলায় ড় হচ্ছে তাড়নাজাত অল্পপ্রাণ ধ্বনি, আর ঢ় হচ্ছে ড়-এর মহাপ্রাণ রূপ। কিন্তু বাংলাদেশের উচ্চারণে মহাপ্রাণ ধ্বনির প্রকাশ সচ্ছন্দ নয় বলে গাঢ় (গাড়হ) হয়ে যায়। গাড় এবং ‘প্রগাঢ় পিতামহী’ হয় প্রগাড় পিতামহী।

এ কারণে শিক্ষার্থীদের র, ড় এবং ঢ় ধ্বনির উচ্চারণ পার্থক্য সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন হওয়া দরকার। র কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি এবং ড় হচ্ছে তাড়নাজাত অল্পপ্রাণ ধ্বনি। এ দুই ধ্বনির স্বতন্ত্র উচ্চারণ সঠিক না হলে কেবল শ্রুতিগত দিক থেকে নয়, অর্থগত দিক থেকেও নানা বিপর্যয় ঘটে। যেমন-আমড়া-আমরা, নাড়ী-নারী, বাড়ি-বারি, শাড়ি-ষারি, মাড়ি-মারি, চুড়ি-চুরি, ছুড়ি-ছুরি, ধড়-ধর, বড়-বর, খোড়া-খোরা এবং ‘তারি লাগি কাঁদি নিশিদিন’-এর পরিবর্তে যদি বলা হয় ‘তাড়ি লাগি কাঁদি নিশিদিন’ তাহলে কী অবস্থা দাঁড়ায়!

২৮
চন্দ্রবিন্দু ( ঁ) অনুনাসিক স্বর বোঝাতে বাংলা লেখায় স্বরধ্বনির উপরে দেওয়া হয়ে থাকে। চন্দ্রবিন্দুকে অনুনাসিক উচ্চারণের প্রতীক বলা যায় (উচ্চারণের সময় নাক দিয়ে বাতাস বের করলেই অনুনাসিক ধ্বনির সৃষ্টি হয়। একে ‘নাকী সুর’ উচ্চারণও বলা যায়)। তবে এ কথা মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলায় স্বরধ্বনি অনুনাসিক হলে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। সুতরাং শিক্ষক, অভিনেতা, পাঠক, ঘোষক, আবৃত্তিকারদের যেমন এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার, তেমনি শব্দের অর্থগত দিকের জন্য শিক্ষার্থীদেরও এ সম্পর্কে উদাসীন থাকা অনুচিত। কতিপয় উদাহরণের সাহায্যে চন্দ্রবিন্দুর গুরুত্ব উপলব্ধি করা যেতে পারে। কাদা (কর্দম) কাঁদা (রোদন করা), শাখা (ডাল), শাঁখা (শঙ্খের চুড়ি), রাধা (কৃষ্ণের প্রিয়া), রাঁধা (রন্ধন করা), পাক (পবিত্র), পাঁক (পাঁক কাদা), বেটে (পাটের দড়ি), বেঁটে (খর্ব), চাই (আকাঙ্ক্ষা করি), চাঁই (প্রধান সর্দার), ছাদ (ঘরের আচ্ছাদনী), ছাঁদ (গঠন আকৃতি), বাধা (প্রতিবন্ধক), বাঁধা (বন্ধন), কুড়া (বিঘা), কুঁড়া (তুষের কণা), কুড়ি (বিশ), কুঁড়ি (মুকুল), চাচা (কাকা, খুড়া), চাঁচা (ছোলা, মার্জিত), তাত (আঁচ, উষ্ণতা), তাঁত (কাপড় বোনার যন্ত্র), দাড়ি (শ্মশ্রু), দাঁড়ি (তুলাদণ্ড), ফোড়া (স্ফোটক, ব্রন), ফোঁড়া (ছিদ্র করা) ইত্যাদি।

- সৌজন্যে : ভাষা শহিদ কলেজ


মন্তব্য