kalerkantho


প.বঙ্গে গবেষকদের দাবি: ঘুড়ির সুতার মাঞ্জায় গাছের অস্তিত্ব বিপন্ন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০২



প.বঙ্গে গবেষকদের দাবি: ঘুড়ির সুতার মাঞ্জায় গাছের অস্তিত্ব বিপন্ন!

ছোটবেলায় ঘুড়ি ওড়াতে অনেকেই পছন্দ করতেন। বহু স্থানে এজন্য উৎসবও পালিত হয়।

আর ঘুড়ির জন্য ব্যবহৃত হয় যে সুতা, তাতে মাঞ্জা দিয়ে শক্তিশালী ও ধারালো করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিষয়টি গাছপালার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে এটি আকাশের পাখির জন্য আঘাতের কারণ হতে পারে। কিন্তু কিভাবে ঘুড়ির মাঞ্জা গাছের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠল?
ঘুড়ি ওড়ানোর নেশায় অনেকেই বেশ মজবুত সুতায় কড়া করে মাঞ্জা দেন। এ সুতার মাঞ্জা তারা যতই কড়া করেন, প্রতিপক্ষের ঘুড়ি কাছে এলেই তা ততই কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে। এরপর সেই কড়কড়ে মাঞ্জা দেওয়া সুতা নিয়ে ঘুড়ির লড়াইয়ে নেমে পড়েন তারা। কিন্তু ঘুড়িটা যদি বহুদূরে উড়ে চলে যায় তাহলে কী হয় সে বিষয়ে অনেকেরই কোনো ধারণা থাকে না।
সম্প্রতি ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় ঘুড়ির মাঞ্জা দেওয়া শক্তিশালী সুতার বিরুদ্ধে মারাত্মক এক অভিযোগ তুললেন। তারা বলছেন, মাঞ্জা দেওয়া সুতা গাছপালায় পরিত্যক্ত হয়ে ঝুলে থাকে। এরপর এসব সুতার ওপর ভর করে বিভিন্ন লতাপাতা পৌঁছে যায় গাছের ওপর অবধি। আর এতে অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে কিছু গাছের।
কিন্তু কিভাবে ঘটছে এ মারাত্মক ক্ষতি? এ বিষয়ে গবেষণাটি করেছেন আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতীয় বোটানিক গার্ডেনের তিনজন গবেষক। এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়ায় অবস্থিত। গবেষকরা বলছেন, ‘পরিত্যক্ত ছেড়া ঘুড়ির সুতাগুলো বড় গাছ বেয়ে ওঠা লতাপাতার জন্য সহায়ক। আর এগুলোর ওপর ভর করে তারা গাছের একেবারে মগডালে উঠতে পারে। এরপর আশপাশের ডালপালাতেও শাখা ছড়ায় তারা। এতে এক পর্যায়ে গাছের ওপরের ডালপালা এসব লতাপাতায় একেবারেই ঢেকে যায়। ফলে সূর্যের আলো ঘাটতির মধ্যে পড়ে বড় গাছগুলো। ’
এ বিষয়ে গবেষণাটি করেছেন সিএম সাবাপ্যাথি, বসন্ত কুমার সিং ও আরবিন্দা প্রামাণিক। তারা বর্ণনা করেছেন কিভাবে এ ঘুড়ির সুতার ওপর ভর করে গাছের মগডালে লতাপাতা বিস্তার লাভ করে এবং গাছের মৃত্যুর কারণ ঘটায়। গবেষকরা ১৫ প্রজাতির লতাপাতার নামও উল্লেখ করেছেন, যেগুলো সুতার ওপর ভর করে গাছের মগডালে উঠে পড়ে এবং এক পর্যায়ে বড় গাছের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে তাদের গবেষণার ফলাফলটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এ।
ঘুড়ির এ সুতার কারণে ভারতের সবচেয়ে পুরনো ও বড় বোটানিক গার্ডেনটিও হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সূত্র : দ্য হিন্দু।


মন্তব্য