kalerkantho


আল জাজিরার নিবন্ধ

রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান হবে কি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:১৪



রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান হবে কি?

রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাংশে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী। ধর্মের বিশ্বাসে তারা অধিকাংশই মুসলমান।

যদিও মিয়ানমারের অধিবাসীরা কখনোই তাদের ভালো চোখে দেখেনি। এমনকি মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, রোহিঙ্গাদের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান কী হবে?
গত বছরের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমার সফর করেন। এ সময় তিনি অং সান সু কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রোহিঙ্গাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখাইন রাজ্যে যান।
মিয়ানমার সরকারের মতে, রোহিঙ্গারা হলো বাংলাদেশি, যারা বর্তমানে অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে; যদিও ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। বাস্তবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসছে।
মিয়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা হলো ভারতীয়, বাঙালি ও চাঁটগাইয়া বসতি স্থাপনকারী, যাদের ব্রিটিশ শাসকরা আরাকানে এনেছে। তবে ঐতিহাসিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত যে ব্রিটিশরা বার্মায় শাসক হিসেবে আসার কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই রোহিঙ্গারা আরাকানে পরিষ্কার জাতি হিসেবে বিকশিত হয়েছিল।
সম্প্রতি ভয়াবহ নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ নানা দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। বিশেষ করে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জনসংখ্যার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে। ইয়াবা, অস্ত্র ও মানবপাচারের মতো সংঘবদ্ধ অপরাধের পাশাপাশি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জাতি হিসেবে বলা হচ্ছে। কারণ তাদের কোনো নির্দিষ্ট দেশই নাগরিক বলে স্বীকার করছে না। ফলে তাদের ওপর নেমে এসেছে নির্যাতনের খড়গ। ২০১২ সালেও মিয়ানমারে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মিয়ানমারের পুলিশ ও সামরিক বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। বহু রোহিঙ্গা পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুবিধা, কর্মসংস্থান ও খাবারের অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে বৌদ্ধদের সংঘাতের খবরও পাওয়া গেছে। অনেক বৌদ্ধই রোহিঙ্গাদের সেখানকার অধিবাসী বলে মনে করে না। ফলে তাদের মিয়ানমার থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে জনমত প্রবল।
তবে মিয়ানমারে বৌদ্ধরা যেমন অধিকার ভোগ করে তেমন রোহিঙ্গাদেরও অধিকার থাকা উচিত বলে মনে করেন রোহিঙ্গা নেতারা। রোহিঙ্গা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী নয় কারণ তারা এ দেশটি স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই আছে। আমরা এ দেশটির সহজাত নাগরিক। ’
তবে রোহিঙ্গাদের এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেন রাখাইন রাজ্যের একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু, যার নাম ইউ ওয়ারা থারা। তিনি বলেন, ‘এ ভূমির মালিক আমরা বৌদ্ধরা, যারা রাখাইনের অধিবাসী। আমরা এখানকার জনসংখ্যার মাত্র সাত শতাংশ। তাদের জনসংখ্যা বাড়ছে, তাই তাদের এখানে থাকা উচিত নয়। তারা যদি এখানে সৎভাবে থাকত, তাহলে এটি কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু এখন তারা আমাদের ভূমির দিকে হাত বাড়াচ্ছে। ’
রাখাইন রাজ্যের এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধদের মাঝে সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর উভয়ের বক্তব্যে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে গড়ায় তা সময়ই বলে দেবে।


মন্তব্য