kalerkantho


৬৩ বছর বয়সে মা : বয়স্ক দম্পতিদের কি সন্তান নেওয়া উচিত?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০৫



৬৩ বছর বয়সে মা : বয়স্ক দম্পতিদের কি সন্তান নেওয়া উচিত?

সম্প্রতি দুবাইতে ৬৩ বছর বয়সী এক নারী মা হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মা ও শিশু সুস্থ আছে। তারা দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে খালিজ টাইমস।

এ বয়সে কিভাবে সন্তান নিতে সক্ষম হলেন সেই নারী? এ প্রশ্নে জানা গেছে, এখন টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি আগের তুলনায় অনেক কার্যকর। ফলে বয়স কোনো বাধা হিসেবে থাকছে না। তবে বয়স বেড়ে যাওয়ার পরেও সন্তান নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

দুবাইয়ে ৬৩ বছর বয়সী এ নারী মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ায় অনেকে যেমন চমৎকৃত হয়েছেন তেমন অনেকে উদ্বিগ্নও হয়ে পড়েছেন। এর কারণ কয়েকটি প্রশ্ন, যা দুবাইয়ের অধিবাসীরা উত্থাপন করেছেন।

এ খবরটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি বহু মানুষকেই নাড়া দিয়েছে। অনেকেই এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

'তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এটি একটি দারুণ সংবাদ। তিনি নিশ্চয়ই তার সারাজীবন এটি প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু তারা কী শিশুটির বেড়ে ওঠার সময় দেখাশোনা করতে পারবেন?' নুরী নামে এক নারী অনলাইনে এ মন্তব্য করেছেন।

ফারুক মুস্তাফা নামে একজন অনুরূপ মন্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, 'এ বয়সে সেই নারী সম্ভবত অবসর নিয়েছেন। আর সন্তানের বাবারও তাই হওয়ার কথা। আর এ অবস্থায় অবসর জীবনের সীমিত আয়ে কিভাবে তারা সন্তানের যত্ন নেবেন? প্রতিদিন খরচ বাড়ছে। '

অনলাইনে বিভিন্ন মন্তব্যে তারা যে প্রশ্ন করছেন তার মধ্যে রয়েছে 'পিতামাতার কী পর্যাপ্ত আয় রয়েছে, এ অবস্থায় শিশুটিকে মানুষ করে তোলার জন্য? এ ছাড়া তাদের মৃত্যুর পর শিশুটির কী হবে?'

ফলে নানা মন্তব্যেই বিষয়টি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে মূল উদ্বেগ হলো একজন মানুষের গড় আয়ুর হিসাব। অর্থাৎ সন্তান জন্মের পর তার পিতা-মাতা কতদিন স্বাভাবিকভোবে বেঁচে থাকবেন। এ ক্ষেত্রে শিশুটির দেখাশোনা কিংবা খরচ যোগানোর বিষয়টিও জড়িত থাকে। এ ছাড়া রয়েছে স্বাস্থ্যগত বিষয়ও। এ বিষয়ে বয়সের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবিও করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে দুবাইয়ের আইভিএফ অ্যান্ড ওম্যান ক্লিনিকের চিকিৎসক ড. গৌতম এন আলাহাবাদলা জানান, তৃতীয় পক্ষের সহায়তায় বয়স্ক নারীদের সন্তান নেওয়ার বিষয়টি তিনি সমর্থন করেন না। এটি আরব-আমিরাতসহ আরও কয়েকটি আরব দেশে নিষিদ্ধ।

তিনি বলেন, 'বহু পিতামাতাই আমাদের কাছে আসেন টেস্টটিউব শিশু নেওয়ার জন্য। আমরা এটি করি তাদের বয়স ৪৫ বছরের কম হলে এবং জেনেটিক্যালি তাদের নিজস্ব শিশু হলে। '


মন্তব্য