kalerkantho


হাসপাতালের বেডে শুয়েই পরীক্ষা দেবে কিশোর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:৫১



হাসপাতালের বেডে শুয়েই পরীক্ষা দেবে কিশোর

দুরারোগ্য ব্যাধি। কড়া ডোজের ওষুধে আচ্ছন্ন শরীর। ছেলেটি এত দুর্বল যে হাসপাতালের বেডে বসতে গেলে মাথা ঘোরে। দিবারাত্র অক্সিজেন চলছে তার। কিন্তু তাতে কী। মন তো অসীম শক্তিশালী। সে জানে বুধবার তার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। কলকাতার এক নামি হাসপাতালে ভর্তি। ভেন্টিলেশনে শুয়েই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে শহরের এই কিশোর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছাত্রটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চলাকালীন সে পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন করেছে।

ছাত্রটির ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়েছে রাজ্য সরকার। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কর্মকর্তারা হাসপাতালেই প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পৌঁছে দেবেন। আর পাঁচটা শিশুর মতো বড় হচ্ছিল সে। স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলো, খুনসুটি, হইহল্লা সবই ছিল। বাবা-মা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তার শরীরে বাসা বাঁধছে এক কঠিন রোগ। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর শারীরিক অসুবিধা শুরু হয়। কিছুদিন আগে যা বাড়াবাড়িতে পৌঁছায়।

শহরের ওই হাসপাতালের আউটডোরে দেখানো হয়। বিভিন্ন পরীক্ষার পর জানা যায় দুরারোগ্য ব্যাধির কথা। এখন বিশিষ্ট এক চিকিৎসকের অধীনে সে ভর্তি। সে জানেই না তার কী হয়েছে। নির্দিষ্ট দিনেই রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। ঠিক সময়ই স্কুলের তরফে সবার নাম পাঠানো হয়েছিল পর্ষদে। কিন্তু বিপত্তি হয় হাসপাতালে আসায়।

চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন ২৪ ঘণ্টাই পর্যবেক্ষণে থাকবে সে। বেশি সময় অক্সিজেন মাস্ক খুলে রাখা যাবে না। কিন্তু অন্য বন্ধুরা সবাই এবার মাধ্যমিক দেবে যে! ছেলেটি প্রথমে তার মাকে জানায় যেকোনো মূল্যে সে পরীক্ষা দেবে। দুষ্টুমি করে বলে, আটকে রাখলে সে পালিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যাবে। পরিবারের চিন্তা আরও বাড়ে।   সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। পর্ষদের প্রশাসক কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসক তাকে জানিয়ে দেন, হাসপাতালে প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র পাঠিয়ে দিলে তাদের আপত্তি নেই।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে এই মেগা পরীক্ষায় ৪৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ হয়। কলকাতার এই অসুস্থ ছেলেটিও কিছুটা অতিরিক্ত সময় পাবে। পর্ষদ সচিব নবনীতা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আমরা আগেও হাসপাতালে ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নিয়েছি। কিন্তু এই ছাত্রটি অন্যরকম। এর ইচ্ছাশক্তি সবার কাছে নজির হয়ে থাকবে। স্টিফেন্স হকিং অকেজো শরীর নিয়েও বই লেখেন। ওই ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর গোটা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত। শহরের এই মাধ্যমিক ছাত্রটি হকিংয়ের কথা জানে। তবে তাকে বেশি অনুপ্রেরণা দেন হেলেন কেলার। দৃষ্টিশক্তি শ্রবণ এবং কথা বলার ক্ষমতা ছিল না হেলেনের। ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়েছিলেন। এই কিশোর মনে করে, হেলেনের তুলনায় সে বেশি সক্ষম। আর তাই রাইটার নিতেও অস্বীকার করেছে সে।

 


মন্তব্য