kalerkantho


নিজের পরিবারের জন্য কিছুই করছেন না তিনি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৩০



নিজের পরিবারের জন্য কিছুই করছেন না তিনি!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার ভাইদের মাঝে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বড়ভাই, ৭৫ বছর বয়স্ক সোমভাই মোদি। তিনি মোদির পৈতৃক নিবাস ভাদনাগড়েই রয়েছেন।
একবার তিনি বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আমার মাঝে একটি পর্দা আছে। আমি সেই পর্দা দেখতে পারি। তবে আপনারা তা দেখতে পারবেন না। ’
‘আমি নরেন্দ্র মোদির ভাই, প্রধানমন্ত্রী নই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি ভারতের ১২৫ কোটি মানুষের একজন, যারা তার ভাই কিংবা বোন। ’
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অন্য একজন ভাইয়ের নাম অম্রুতভাই। ৭২ বছর বয়সী এ ব্যক্তি একটি প্রাইভেট কম্পানিতে তার কর্মজীবন শেষে অবসর নিয়েছেন। তার পদবী ছিল ফিটার, যার বেতন ছিল ১০ হাজার রুপির কম।

বর্তমানে তিনি আহমেদাবাদের ঘাটলোডিয়ায় চার কক্ষের বাসায় বাস করেন। তার সঙ্গে রয়েচেন ৪৭ বছর বয়সী সন্তান সঞ্জয়। তিনি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, যার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
মোদীর সবচেয়ে ছোট ভাইয়ের নাম প্রহ্লাদ মদি। তিনি একজন ন্যায্যমূল্যের দোকানের মালিক। তার কাছাকাছি বড়ভাই ভারতভাই। ৫৫ বছর বয়সী এ ব্যক্তি জীবনসংগ্রামে সবচেয়ে পরিশ্রম করেন। তিনি একটি পেট্রল পাম্পের অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তার প্রতি মাসের বেতন ছয় হাজার রুপি। পালনপুরের নিকটবর্তী লালাওয়াডা নামে একটি গ্রামে তিনি বাস করেন। এছাড়া মোদির অন্য এক ভাই হলেন ৪৮ বছর বয়সী চন্দ্রকান্ত। তিনি আহমেদাবাদে দাতব্য গোসালায় সহকারীর কাজ করেন। তার চতুর্থ ভাই ৬১ বছর বয়সী অরবিন্দভাই একজন পুরনো মালপত্রের ব্যবসায়ী।
মোদির মা হিরা বা এখন ৯৭ বছর বয়সী। তবে বয়স হলেও তিনি নিজেই নিজের সব কাজ করেন। কিছুদিন আগেই ভারতে কিছু নোট বাতিল করায় তাকেও ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সে নোটগুলো বদলে নিতে হয়। ব্যাংকে যাওয়ার জন্যও তিনি কোনো ভিআইপি গাড়ি নয়, অটোরিক্সা ব্যবহার করেন।
মোদির মা কিছুদিন আগেই বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সে সময় তিনি একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। এক্ষেত্রে ব্যয়বহুল কিংবা সর্বাধুনিক কোনো হাসপাতালেও তাকে নিতে দেখা যায়নি।
মোদির ভাগ্নী নিকুঞ্জ বেন মাত্র ৪১ বছর বয়সেই হৃদরোগে মারা যান। তিনি তার ছোট ভাই প্রহ্লাদের সন্তান। জীবনধারণের জন্য তিনি সেলাইয়ের কাজ করতেন।
মোদির পারিবারিক ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে তিনি পারিবারিকভাবে কখনোই ভালো অবস্থায় ছিলেন না। আর এ পারিবারিক জীবনে তিনি কোনো উন্নতিরও চেষ্টা করেননি। এক্ষেত্রে ভাইদের কিংবা পরিবারের সদস্যদের উন্নতির জন্য কোনো চেষ্টা না করার বিষয়টিকে বহু মানুষই বিভিন্নভাবে দেখেন।
অনেকেই তাকে বলেন, ভারতের অপর রাজনীতিবিদ মুলায়ম সিং যাদবকে অনুসরণ করতে। যিনি কিনা এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন যেখানে দুই বেলা খাবার খাওয়াও কষ্টকর ছিল। তারা বর্তমানে বিলিয়নেয়ার। আর তার ছোট ছেলেও পাঁচ কোটি টাকা দামের গাড়ি চালায়।
ভারতের রাজনীতিবিদদের মধ্যে একেবারে শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার কাহিনী অহরহই দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় মায়াবতীর কথা। ৩০ বছর আগে তার পুরো পরিবার দিল্লিতের একটি কক্ষে থাকত। আর বর্তমানে মায়াবতীর ভাইয়ের বাংলোই তাজ মহলের সৌন্দর্যকে যেন ছাড়িয়ে যায়।

তবে ভারতের রাজনীতিবিদ হিসেবে মোদি যে একেবারে পরিষ্কার ইমেজের তা নয়। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বহু সমালোচনা। এমনকি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গুজরাটে ২০০২ সালের সে দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সে দাঙ্গা প্রতিরোধে সেনাবাহিনীকেও ডাকতে হয়। বহু শহরে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের। তবে ভারতের সে দাঙ্গার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে মোদির বিরুদ্ধে কোনোরকম অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এর আগে ২০০১ সালের ৭ই অক্টোবর মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি হিন্দুত্ববাদকে তুলে ধরেন এবং মুসলিমবিরোধী অবস্থান নেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় তিনি সে পুরনো অবস্থান বদলে ফেলেন এবং গুজরাটের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেন।

নরেন্দ মোদী সে তুলনায় একেবারেই আলাদা। তিনি ১৯৫০ সালে এক নিম্নবর্গের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতামাতার চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় বড়নগর রেলস্টেশনে তিনি তাঁর পিতাকে চা বিক্রি করতে সহায়তা করতেন এবং কৈশোরে বাস স্ট্যান্ডের কাছে ভাইয়ের সাথে চা বিক্রি করুতেন। ছোটবেলায় পুরো পরিবার নিয়ে একটি ছোট একতলা বাড়িতে বসবাস করতেন মোদি।
রীতি অনুসারে মোদীর পিতা মাতা কৈশোরেই তাঁর বিয়ে ঠিক করেন। তবে বিয়ের পর খুব কম সময় তাঁরা একসঙ্গে সময় অতিবাহিত করেন কারণ এরপর মোদী পরিব্রাজকের জীবন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হন। এরপর নানা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সেই মোদিই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন। যদিও তার পরিবারকে তিনি এ পথে রাখেননি। নিজেই নিজের পথ করে নিয়েছেন। এখনও তার পরিবার রয়েছে সাধারণ একটি ভারতীয় পরিবার হিসেবে। ভারতের জন্য অনেক কিছু তিনি করলেও নিজের পরিবারের জন্য কিছুই করছেন না তিনি!
লিংকডইনে প্রকাশিত ক্লাউডগ্রাফট সিইও শিলেন্দ্র শর্মার নিবন্ধ ও অন্যান্য অনলাইন সূত্র অবলম্বনে


মন্তব্য