kalerkantho


দেখা দিল সাগরের রহস্যময় প্রাণী 'ওয়ারফিশ'!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৪:৪০



দেখা দিল সাগরের রহস্যময় প্রাণী 'ওয়ারফিশ'!

এই পৃথিবীর আজ অবধি অজানা-অচেনা প্রাণীদের দেখা মেলা বিশাল এক আবিষ্কার তো বটেই। কিন্তু এমন ঘটনা কদাচিৎ ঘটে। কিছু প্রাণীর কথা হয়ত জানা আছে, কিন্তু খুব বেশি দেখা মেলেনি। সমুদ্রের এমনই এক প্রাণীর দেখা মিলল সম্প্রতি। ফিলিপাইনের আগুসান দেল নর্টির কারমেনে পাওয়া গেল এক ওয়ারফিশ।

সেখানকার সৈকতে যারা মাঝে মধ্যেই যান, তারাই খুঁজে পেলেন এটি। মৃত অবস্থায় একে পাওয়া গেছে। তবে তার কিছু দিন আগে একই উপকূলীয় অঞ্চলে এক জেলে আরেকটি ওয়ারফিশ ধরতে সক্ষম হন।

জায়ান্ট ওয়ারফিশ যার নাম রেগালিকাস গ্লেসনে। একে প্রথম দেখা যায় ১৭৭২ সালে। বিশেষ তাপমাত্রায় এবং অগভীর ট্রপিক্যাল অঞ্চলে এদের দেখা মিলতে পারে।

তবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় খুব কম। তবে ওয়ারফিশকের এই দেখা মেলার ঘটনা সত্যিই বিরল। কেন এমনটা হয়েছে তার সম্পর্কেও খুব বেশি জানা নেই বিজ্ঞানীদের। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, গভীর সমুদ্রে যারা বাস করে তাদের মধ্যে ওয়ারফিশ একটি। শক্তিশালী স্রোত এবং এলোমেলো বাতাসের কারণে এরা ওপরে চলে আসে।

এদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও বোঝা যাচ্ছে না। আসলে স্বাভাবিক মৃত্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এরা পানির ওপরে আসতে চায়, নাকি বিদঘুটে কোনো অবস্থা এদের মৃত্যু ঘটাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।

৩০ ফুট লম্বা দেহ নিয়ে এরা পৃথিবীর দীর্ঘতম বনি ফিশ বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস। বিশাল দেহ, অদ্ভুত সুন্দর অবয়ব এবং মিথলিজির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নিয়ে বেশ নাটকীয় এক প্রাণী এটি।

এটা এমন এক জলজ প্রাণী যার সম্পর্কে কিছুই জানা এই বলেই মনে করা হয়। কাজেই এর বিভিন্ন নাম ও তথ্য প্রচলিত রয়েছে লোকমুখে। পালাও-এ একে রুস্টার ফিশ বলে ডাকা হয়। এর মাথায় লাল পাখনার কারণে এমন নাম দেওয়া হয়েছে। জাপানে একে ডাকা হয় 'মেসেঞ্জার ফ্রম দ্য সি গডস প্যালেস' নামে। এখানে মিথলজির প্রাণী হিসাবেই মনে করা হচ্ছে। বলা হয়, এই প্রাণীটি ভূমিকম্পের ঘোষণা দেয়। এটা সরীসৃপ নয়। দেখলে তেমটাই মনে হয়। কিন্তু সমুদ্রের সাপ জাতীয় প্রাণীদের কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে ওয়ারফিশ।

এই প্রাণী এমন এক গভীরতায় বাস করে যেখানে পৌঁছতে এখনো সংগ্রাম করে চলেছে বিজ্ঞান। তাদের ওপর খুব কম গবেষণা করা হয়েছে। সমুদ্রে জেলেরা কখনো একে ধরতে পারলেও অচেনা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রাণী হিসাবে আবারে ছেড়ে দেয়। তারা এর সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না এবং আগ্রহও নেই। তাই খুব কম তথ্য ছড়িয়েছে একে নিয়ে।

আসলে গভীর সমুদ্র অনেক অদ্ভুত ও অচেনা প্রাণীর অভয়ারণ্য বলেই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। কদাচিৎ আমরা দেখতে পাই। যত বেশি এদের খোঁজ করা হবে তত বেশি জানা যাবে, বলেন বিশেষজ্ঞ মার্ক বেনফিল্ড। আশা করা যায়, এর সম্পর্কে যেমন জানা যাবে, তেমনি ধারণা মিলে সমুদ্রের গভীরের পরিবেশ সম্পর্কে।
সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

 


মন্তব্য