kalerkantho


ভগবান আর ভক্তের মাঝে দাঁড়াবেন না : পূজারিকে হাইকোর্ট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:৪০



ভগবান আর ভক্তের মাঝে দাঁড়াবেন না : পূজারিকে হাইকোর্ট

প্রতীকি ছবি

আপনি ভগবান আর ভক্তের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না- এক মন্দিরে পূজারিদের যাতায়াতের পথের ভিড় সামলানো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় দায়ের করা হয় মামলা। সেই মামলার ধারাবাহিকতা গড়ায় হাইকোর্টে।

শুনানিতে দিল্লির কালকাজি মন্দিরের সংশ্লিষ্ট পূজারিকে এই নসিহত দেন উচ্চ আদালত।

বিচারপতি জে আর মিধার আদালত বলেন, মন্দিরে যেসব কর্মকাণ্ড চলছে সেসব শুধরাতে হবে। দুশ্চিন্তা হয়- এভাবে কীভাবে মন্দির চালানো হচ্ছে?

বিচারপতি মিধা আরও বলেন, এক সেকেন্ডের মধ্যে একজন লোককে সবকিছু করত হয়। আমিও তো মন্দিরে যাই। ওই অল্প সময়ে কোথাও কোনো বাধার মুখে পড়তে হয় না।

তিনি বলেন, মন্দিরের লোকগুলো (পূজারিরা) এতটা আলোকিত অন্তরের নয় যে তারা একজনে ভক্তের চেয়ে বেশি গভীরভাবে ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।    

আদালত বলেন, এ ক্ষেত্রে কেবল পূজারিই বাধা হয়ে দাঁড়ান। ভক্তকে সরাসরি ভগবানের মূর্তি দেখতে দিতে হবে। কমসে কম দু-এক সেকেন্ড সময় তো দেওয়া উচিত যাতে ভক্ত স্বস্তিতে প্রার্থণা করতে পারে।

পূজারির পক্ষে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট এসব মন্তব্য করেন।  

দিল্লির ঐতিহ্যবাহী কালকাজি মন্দিরের ওই পূজারি তার দুই বোনকে মন্দিরে পূজা ও সেবা করা থেকে নিবৃত্ত করতে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। জানা গেছে, ভক্তদের দেওয়া ভোগসামগ্রী ও দানের অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।

দিল্লি হাইকোর্ট তার রায়ে পূজারিকে নির্দেশ দেন, মন্দিরে ভক্তদের দান-দক্ষিণা সূত্রে পাওয়া অর্থ থেকে তার দুই বোনের প্রত্যেককে ৬ লাখ রুপি করে পরিশোধ করতে। ওই মন্দিরে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ টানা একমাস ধরে চলমান বিশেষ পূজা সূত্রে অর্জিত দান থেকে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, নিজের করা রিটে পূজারি দাবি করেছিলেন, স্মরণাতীতকাল থেকে বংশপরম্পরায় কালকাজি মন্দিরে শুধু পুরুষরাই পূজা পরিচালনা করে আসছে। তাই কোনো নারী সেখানে পূজা করতে পারে না। কিন্তু দুই বোন আদালতে বলেন, পিতার বৈধ উত্তরাধিকার হিসেবে তাদের অধিকার আছে ওই মন্দিরে পূজা-সেবা করার। এনবিটি, ডেকান হেরাল্ড


মন্তব্য