kalerkantho


নাবালিকা প্রেমিকাকে বারে নাচাতে বাধ্য করত প্রেমিক!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:২৭



নাবালিকা প্রেমিকাকে বারে নাচাতে বাধ্য করত প্রেমিক!

২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। কলকাতার ইংরেজবাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। এক নাবালিকার মা এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন যে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁর নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে রাজু সিং নামে এক যুবক। পরে জানা যায়, স্বামী, স্ত্রী পরিচয় দিয়ে থাকতে শুরু করে ওই দু’জন। মেয়েকে দিয়ে জোর করে বিভিন্ন হোটেল, বারে নাচ-গান করাতে থাকে ছেলেটি। এরপর ডিসেম্বর মাসে কোনওরকমে তার কাছ থেকে পালিয়ে আসে তাঁর মেয়ে। তখন সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেয়ের কাছে সব কথা শুনে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মা। অভিযোগ, এরপর একমাসের বেশি সময় কেটে গেলেও পুলিশ এখনও গ্রেপ্তার করেনি রাজুকে।

বছর দুয়েক আগে মানিকচক থানার মথুরাপুর এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকার সঙ্গে পারিবারিক সূত্রে আলাপ হয় মালদা শহরের কোঠাবাড়ি এলকার রাজু সিংয়ের। আলাপ খুব তাড়াতাড়ি প্রেমে পরিণত হয়।

অভিযোগ, বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একদিন মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যায় রাজু। নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কলকাতা এবং বিহারের বিভিন্ন জায়গায় তারা থাকতে শুরু করে। মেয়েটি ভালো গান গাইত। মাঝে মাঝে এলাকার কিছু আনুষ্ঠানে গানও গাইত। কিন্তু একসময় রাজু তাকে বারে গান গাওয়ানোর জন্য জোর করতে থাকে। রীতিমতো খুনের হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে দিয়ে জোর করে বার এবং হোটেলে নাচ গান করানো হত। প্রাণের ভয়ে রাজুর কথা মেনে নিতে বাধ্য হত মেয়েটি। আরও অভিযোগ, বারবার বিয়ে করতে বললেও কখনই বিয়েতে রাজি হত না রাজু। উলটে মেয়েটি বার, হোটেলে নাচ করতে না চাইলে মারধর করত। একসময় রাজু অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কোনওরকমে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে মেয়েটি। তখন সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এরপর ২৮ ডিসেম্বর ইংরেজবাজার থানায় সব কথা জানিয়ে রাজুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকা মেয়েটির মা। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩৭৬, ৪৯৩, ৪১৭, ৩২৩ ও ১০৯ ধারায় রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। কিন্তু এখনও পুলিশে রাজুকে প্রেপ্তার করেনি।

এরপর আজ ওই নাবালিকার মা অইনজীবীকে নিয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন। পুলিশ সুপার না থাকায় ডিএসপি (সদর) দিলীপকুমার হাজরার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বলেন, “ইংরেজবাজার মহিলা থানার পুলিশ রাজুর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করলেও POCSO (প্রিভেনশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট) প্রয়োগ করেনি। আমি চাই পুলিশ রাজুকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক। তা না হলে সে ফের অন্য কোনও মেয়ের সর্বনাশ করতে পারে। ” তাঁর মেয়েকে ছাড়া আরও কয়েকজন মেয়েকে নাচ ও গান করাতে রাজু বাইরে নিয়ে যেত বলে অভিযোগ করেন।


মন্তব্য