kalerkantho


জাপানের প্রথম স্ব-নির্মিত শতকোটিপতি নারীর পাঁচ অজানা বিষয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:৫১



জাপানের প্রথম স্ব-নির্মিত শতকোটিপতি নারীর পাঁচ অজানা বিষয়

নিজের ব্যবসা শুরু করার চার দশক পর জাপানের ৮২ বছর বয়সী নারী ব্যবসায়ী ইয়োশিকো শিনোহারা জাপানের প্রথম স্বনির্মিত নারী শতকোটিপতি হিসেবে আবির্ভুত হন।
১০৭৩ সালে টেম্প হোল্ডিং নামের একটি কর্মী সংস্থা স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন শিনোহারা। টোকিওতে নিজের এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে তার ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সুচনা হয়। সেখান থেকে তিনি আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরচুন ম্যাগাজিনের বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ৫০ নারীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
১. তিনি তার সবকিছু নিয়েই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিলেন
জাপানে তার জন্য যেসব চাকরি পাওয়া সম্ভব ছিল সেসবের প্রতি আগ্রহ না জন্মানোয় তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান। আর সেখানেই তিনি অস্থায়ী চাকরির ধারণার সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর ১৯৭০ সালে জাপানে ফিরে আসার পর তিনি নিজেই একটি অস্থায়ী কর্মী সরবরাহ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সেসময় এশিয়ার দেশগুলোতে এভাবে চাকরি করাটা বেআইনী ছিল। কিন্তু তবুও তিনি ঝুঁকি নিয়ে তার ব্যবসা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
২০০৯ সালে তিনি হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউকে বলেন, “সে সময় আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম; জেলখানা দেখতে কেমন? এর কক্ষগুলো কতটা বড়? সেখানে কি কোনো টয়লেট বা জানালা আছে?
২. তিনি কখনোই শতকোটিপতি হতে চাননি
অনেক স্ব-নির্মিত কোটিপতি এবং শতকোটিপতির যেমনভাবে কোটিপতি হতে চান তিনি তেমনভাবে কোটিপতি হতে চাননি। শিনোহারা কখনোই জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশের অন্তর্ভুক্ত হতে চাননি।

তারচেয়ে বরং তিনি চেয়েছিলেন ব্যবসার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে। সোজা কথায় শিনোহারা ছেয়েছিলেন পৃথিবীতে তার চিহ্ন রেখে যেতে।
৩. বিয়ের মধ্যেই জীবনের সুখ খোঁজেননি
বিয়ে করার পরপরই শিরোহারা তালাক নেন। তিনি বলেন, “আমি উপলব্ধি করি যে বিয়ে না করলেই বরং আমার ভালো হবে। আর ওই লোকটি আমার জন্য সঠিক লোক নন। এতে তার ভাই এবং মা খুব রাগ করেন। কিন্তু শিনোহারা সেসময়ের বেশিরভাগ নারীদের মতো গৃহবধু হওয়ার চেয়ে বরং তার জীবন নিয়ে আরো বেশি কিছু করতে চান।
৪. তিনি জাপানি নারীদের জন্য সুযোগ সরবরাহ করেন
বিয়ে করা এবং সন্তান জন্মদানের পর জাপানি নারীদেরকে শুধু গৃহবধু হয়েই থাকতে হত। এরপর আর তারা ঘরের বাইরের কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারত না। আর ঘরের বাইরের কর্মক্ষেত্রেও তাদের জন্র খুব বেশি সুযোগ ছিল না।
শিনোহারার কম্পানি জাপানের নারীদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। কম্পানিটির এক মুখপাত্র বলেন, আমাদের কম্পানি জাপানের নারীদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করে সমৃদ্ধি লাভ করতে সক্ষম হয়। ”
৫. পুরুষ কর্মীরা তার ব্যবসাকে আরো সমৃদ্ধ করে
শুরুতে তার কম্পানি শুধু নারী কর্মীদের নিয়ে কাজ করত। আর এটা তার কম্পানির মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও ছিল। কিন্তু একবার যখন তার কম্পানির বিক্রয়ে মন্দা দেখা দেয় তখন তিনি পুরুষ কর্মী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেন।
১৯৮৮ সালে তিনি তার ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করেন, “আমরা যদি এখানে কিছু পুরুষ কর্মী নিয়োগ দিই তাহলে কেমন হয়? উত্তরে তার ম্যানেজার বলেছিলেন, আমাদের এখানে ওই প্রাণিদের নিয়ে আসার কোনো দরকার নেই। ”
কিন্তু শিনোহারা নিজের মনে কথা শুনেছিলেন। এবং শিগগিরই পুরষ কর্মী নিয়োগ দেন। এতে তার ব্যবসায় পুণরায় সমৃদ্ধি আসতে থাকে। এরপর তিনি দেখতে পান যে নারী ও পুরুষ কর্মীদের মধ্যে ভারসাম্যই তার কম্পানির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য