kalerkantho


১৬ বছর পর নারী হত্যা রহস্য উন্মোচিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:০১



১৬ বছর পর নারী হত্যা রহস্য উন্মোচিত

গত ২০০১ সালের ২৯ জুন কলকাতার লালবাজারের অদূরে গুলি করে খুন করা হয়েছিল প্রৌঢ়া পার্সি নারী নওয়াজ এরুচশা ওয়াদিয়াকে। তখন ওই ঘটনার কোনো কিনারা করতে পারেনি লালবাজার থানা। তবে সম্প্রতি একটি গুলি চালানোর ঘটনায় সরফুদ্দিন ওরফে সরফু নামে এক দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করে বেনিয়াপুকুর থানা। পুলিশ বলছে, তার পর থেকেই পরতে পরতে খুলছে ওই প্রৌঢ়া খুনের রহস্য।

সরফুকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, মুহাম্মদ মোহিত ওরফে মইস ওরফে মোটর নামে এক ব্যক্তি তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল নওয়াজকে খুন করার জন্য। বুধবার পার্ক স্ট্রিট এলাকা থেকে ধরা পড়ে মইস। তবে নওয়াজ খুনে নয়, অন্য একটি অস্ত্র মামলায়। গতকাল বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে হাজির করা হলে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠান বিচারক। নওয়াজের খুনের তদন্তভার এখন গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার হাতে। পরবর্তী কালে সেই মামলায় মইসকে নিজেদের হেফাজতে নেবে তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওয়াজ খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই মইসকে জেরা করা হয়েছে।

সে স্বীকার করেছে, তার স্ত্রী ক্যাথরিনা কিংডো নওয়াজের পরিচারিকা ছিল। বছর পঞ্চাশের নওয়াজ ক্যাথরিনাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন। সে কারণেই তাকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আমানতের নমিনিও করেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই যে কাল হবে, তা বুঝতে পারেননি ওই প্রৌঢ়া।

মইস বুঝেছিল, নওয়াজ মারা গেলে পুরো টাকা আসবে তার হাতে। তাই রীতিমতো ছক কষে খুন করা হয় তাকে। ওই খুনে ক্যাথরিনার হাত রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি তদন্তকারীদের কাছে। তবে ক্যাথরিনা কিছুই জানত না, এ কথাও চট করে মেনে নেওয়া যাবে না- বলছেন লালবাজারের এক অফিসার।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নওয়াজের মৃত্যুর পরে উইল মেনে প্রায় ১৫ লাখ টাকার সম্পত্তি পেয়েছিল ক্যাথরিনা। তার পরে মইসের সঙ্গে কলকাতা ছাড়ে সে। দুজন থাকতে শুরু করে বেগুসরাইয়ে। নাম পাল্টে মইস সেখানে মুদির দোকান খুলেছিল। নওয়াজের টাকাতেই চলতি বছরের এপ্রিলে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিল সে।

পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, কলকাতায় থাকতে চামড়ার কারবার করত মইস। সেই সূত্রেই তার সঙ্গে সরফুদ্দিনের পরিচয় হয়। পুলিশের কাছে মইসের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিয়েছে সরফু। এক অফিসারের বলেন, ৫০ হাজার টাকায় মইস সরফুদ্দিনকে ভাড়া করে ওই নারীকে খুন করার জন্য। খুনের আগে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিল মইস। খুনের পরে সরফু কাঁকিনাড়ায় পালায়। কয়েক মাস পরে ফিরে দেখে, ক্যাথরিনাকে নিয়ে চম্পট দিয়েছে মইস। বাকি টাকা আজও পায়নি সরফু।

সরফুর থেকে মইসের খোঁজ মিলতেই জাল পাততে শুরু করেন বেনিয়াপুকুর থানার অফিসারেরা। পুলিশের দাবি, মইস অস্ত্রের কারবারও করে। অস্ত্র কেনার টোপ দিয়েই তাকে পার্ক স্ট্রিটে ডেকে আনা হয়েছিল। এক পুলিশকর্তা বলেন, "সরফু গ্রেপ্তার না হলে মইস-ক্যাথরিনের এই ছকের কথা কোনোদিন সামনেই আসত না। " 


মন্তব্য