kalerkantho


আসছে ডেঙ্গু, জিকা ও ক্যানসারের নতুন ওষুধ! (ভিডিও)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০৩



আসছে ডেঙ্গু, জিকা ও ক্যানসারের নতুন ওষুধ! (ভিডিও)

ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিভিয়ার ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইডসের মতো রোগের ভাইরাসগুলিকে সাত চড়ে কাবু করার সাতকাহন হয়ত রাষ্ট্র হয়ে যেতে আর তেমন সময় লাগবে না। ওই তিনটি ভাইরাসের হানাদারি রুখতে আরও শক্তিশালী ও আরও দ্রুত কার্যকরী ওষুধ বাজারে আসার পথ খুলে দিল ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ বা ক্রায়ো-ইএম।

বলা যেতে পারে, আমাদের শরীরে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিভিয়ার ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগের ভাইরাসগুলির দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি এই বিশেষ ধরনের মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র। যা খুলে দিল ক্যানসারের মতো অন্যতম একটি জটিল রোগের অনেক বেশি শক্তিশালী ওষুধ আবিষ্কারের দরজাটাও।

মহাকাশে পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য ভিন গ্রহ খুঁজতে হাবল ও কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের নিরিখে অনেক বেশি শক্তিশালী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি) পাঠানো হচ্ছে, ২০১৮-য়। ঠিক তেমনই জটিল রোগের নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য যেটা সবচেয়ে জরুরি, সেই আমাদের শরীরের সরল ও জটিল প্রোটিন অণুর গঠন-কাঠামো বা তাদের গঠন-সজ্জা (স্ট্রাকচার) আর দেহে তাদের চলাচলকে (ডায়নামিক্স) আরও ঝকঝকে ও নিখুঁত ভাবে দেখার জন্য বাজারে চালু দুটি পদ্ধতি- এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্র্যাফি (এক্সআরসি) আর নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স (এনএমআর) এর চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী এই ক্রায়ো-ইএম।

যা জটিল থেকে জটিলতর প্রোটিনগুলির (কমপ্লেক্স প্রোটিন) পরমাণু স্তরের খবরাখবরও এখন দিতে পারছে। তার ফলে, জটিল প্রোটিনগুলির গঠন-কাঠামো আর আমাদের শরীরে তাদের চলাচলকে ওই অসম্ভব শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ ক্রায়ো-ইএম-এর মাধ্যমে চাক্ষুষ করাটা সম্ভব হচ্ছে। আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি সহজ হচ্ছে। স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর (হাই রেজোলিউশন) হচ্ছে। এত দিন এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্র্যাফি আর নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স পদ্ধতিতে যা করা যেত না।

খুব কষ্টেসৃষ্টে তা যদি করা যেতও, তার ফলাফল নির্ভুল হত না।

খুব ছোট ছোট দুটি প্রোটিন রয়েছে। একটার নাম- আইসোসাইট্রেট ডিহাইড্রোজেনেজ (আইডিএইচ-ওয়ান)। অন্যটির নাম- ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজেনেজ (এলডিএইচ)। ক্যানসারের নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য এখন এই দুটি প্রোটিন নিয়ে প্রায় বিশ্ব জুড়েই গবেষণা চলছে। ক্যানসার সারাতে বা কমাতে বাজারে চালু ওষুধগুলি বেশি দিন কার্যকরী হয় না এই দুটি প্রোটিনের দুষ্টুমির জন্য। বেশির ভাগ ক্যানসারের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, এই দুটি প্রোটিন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর জিনের মিউটেশনে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। মানে, জিনের গঠন বা সজ্জায় কিছু রদবদল ঘটিয়ে দিচ্ছে। তার ফলে, তা ক্যানসার রোখার ওষুধগুলিকে শরীরে অকেজো করে দিচ্ছে। এই প্রোটিনগুলিকে এ বার ক্রায়ো-ইএম পদ্ধতিতে দেখা অনেক অনেক বেশি সহজ হয়ে গিয়েছে। ফলে, সেই প্রোটিনগুলিকে কাবু করার ওষুধ আবিষ্কারের কাজটাও সহজ হয়ে গিয়েছে।

এই পদ্ধতিতে যেহেতু ভাইরাসদের জীবন-চক্র (লাইফ সাইকেল) পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে দেখা ও জানা যায়, তাই ভাইরাসরা কী ভাবে আমাদের শরীরে হানা দেয়, আর তার জন্য কী ভাবে, কী কী ফন্দি-ফিকির করে, দেহের প্রতিরোধী ব্যবস্থার চোখে ঠুলি পরাতে কী কী ছদ্মবেশ ধারণ করে বা করতে পারে, ক্রায়ো-ইএম পদ্ধতির মাধ্যমে এখন আমরা সেটা অনেক স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছি। দেখতে পারছি। এর ফলে, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, জিকা, ইবোলা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এইডসের মতো ভাইরাসগুলিকে আরও সহজে নির্বংশ করার কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে আমাদের কাছে।


মন্তব্য