kalerkantho


'ট্রি-ম্যান সিনড্রোম' আক্রান্ত প্রথম নারী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১২:০৭



'ট্রি-ম্যান সিনড্রোম' আক্রান্ত প্রথম নারী!

মানুষের শরীরে গাছের মতো দেখতে অদ্ভুত জিনিস গজানো এক ধরনের বিরল মারাত্মক রোগ। এ রোগকে বলে ‘ট্রি ম্যান সিনড্রোম’।

এ রোগে আক্রান্ত কয়েকজন পুরুষের সন্ধান পাওয়া গেলেও আগে কখনো এ রোগে আক্রান্ত নারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশে ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরকে তাই সারা বিশ্বের চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন। এ রোগটিতে আক্রান্ত প্রথম নারী হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
বাংলাদেশের  ১০ বছরের সাহানা খাতুন এই রোগের শিকার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। প্রথমে অনেকটা আচিলের মতোই প্রকাশিত হয়েছে তার এ রোগটি। পরে ছোট থেকে অনেক বড় আকার নিতে পারে এই আঁচিল।
সাহানাই প্রথম মহিলা যিনি এই রোগের শিকার। চার মাস আগে সাহানার মুখে গাছের মতো দেখতে আঁচিল তৈরি হয়েছিল। তখন সাহানার বাবা সামান্য আঁচিল ভেবে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু এরপরই আকারে বড় হতে থাকে এগুলো। তখন চিন্তিত হয়ে পড়েন সাহানার বাবা। এরপরই চিকিৎসার জন্য সাহানাকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা মনে করছেন সাহানাই প্রথম মহিলা যিনি ট্রিম্যান সিনড্রোমের শিকার।
ডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস বা এ ধরনের কোনো রোগে আক্রান্ত। রোগটি ট্রি-ম্যান (বৃক্ষমানব) সিনড্রোম নামেও পরিচিত।
শাহানার আগে ভর্তি হওয়া বৃক্ষমানব আবুল বাজনাদার ও শিশু রিপন দাসও ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। রিপনের পাশের বিছানাতেই ভর্তি শাহানা। শাহানার শরীরে কালো কালো গোটা হয়েছে। সে জানায়, শুরুতে গোটাগুলো এমনই থাকে, পরে বড় হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়কারী চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন বলেন, শাহানা যে লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাকে ঠিক ট্রি-ম্যান বলে মনে হচ্ছে না। তবে ওই জাতীয় কিছু একটা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এখন যে অবস্থায় আছে, তা অস্ত্রোপচার করে ভালো করা সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এটি একটি জিনঘটিত রোগ। সাধারণত হাতে এবং পায়ের পাতাতে এই রোগ বাসা বাঁধে। এর আগে হাতে গোনা কয়েকজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে সবাই পুরুষ।
আবুল বাজনাদারের দুই হাত জুড়ে বেড়ে উঠেছিল এই রোগ। গাছের মতো দেখতে এই আঁচিলের ওজন ছিল প্রায় ৫ কিলোগ্রাম। সঙ্গে তাঁর পায়ের পাতাও এই রোগের শিকার হয়েছিল।
এই ব্যক্তিকে রোগটি থেকে মুক্তি পেতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ১৬টি অস্ত্রোপ্রচার করতে হয়েছিল। এখন ২৭ বছরের এই ব্যক্তি এই রোগ থেকে মুক্ত। কিছুদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাবেন আবুল। এছাড়া চিকিৎসকরা মনে করছেন সাহানাকে তারা খুব শীঘ্রই সুস্থ করে তুলতে পারবেন।


মন্তব্য