kalerkantho


বাংলা উচ্চারণের সংক্ষিপ্ত সূত্রাবলি (১)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৩৬



বাংলা উচ্চারণের সংক্ষিপ্ত সূত্রাবলি (১)

বাংলা্ উচ্চারণের বিশেষ কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। রেডিও-টিভিতে প্রচারিত খবর, আবৃত্তি বা শিল্পীর কণ্ঠে গান শুনতে গিয়ে আমরা বিষয়টি টের পাই। তারা আর দশজন থেকে ভিন্নভাবে উচ্চারণ করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে কিসে তাদের উচ্চারণে ভিন্নতা এনে দেয়, বিষয়টি আমাদের অজানা। 'বাংলা উচ্চারণের সংক্ষিপ্ত সূত্রাবলি' আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে আপনিও শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বলা শিখে নিতে পারেন। আজকে থাকছে প্রথম পর্ব -

বাংলা ভাষার প্রথম স্বরধ্বনি অ-এর উচ্চারণ নিয়েই আমাদের উচ্চারণ-বিধির সূত্রপাত। কারণ শব্দের আদি, মধ্য এবং অন্তে ব্যবহৃত ‘অ’ কখনো অবিকৃতভাবে আবার কখনো ও-কারের মতো উচ্চারিত হয়ে থাকে। ‘অ’ যেসব শব্দে আদিতে অবিকৃত বা নিজস্ব উচ্চারণে বিশিষ্ট, তার মধ্যে রয়েছে—তল, ঢল, জল, ফল, বলা, চলা, সহজ, সরল, গরল, তরল, মরদ, পরশ, সরস ইত্যাদি।
‘অ’-এর বিকৃত বা ও-কারের মতো উচ্চারণ—অতি (ওতি), বউ (বোউ), ভালো (ভালো), মতন (মতোন) প্রভৃতি। এখানে অ-এর ‘ও’ উচ্চারণ অবশ্য অনেকটা হ্রস্ব, সহজ কথায় বলা যায় অ-এর উচ্চারণ কিছুটা ও-ঘেঁষা হয়। এটা সর্বত্র হয় না, হয় বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ ধ্বনির প্রভাবে। অতএব অ-এর ও-কারে রূপান্তরিত হওয়ার কিছু নিয়ম উল্লেখ করা যেতে পারে :
শব্দের আদিতে যদি অ-কার (সেটা আদি ব্যঞ্জনে যুক্তও হতে পারে) থাকে এবং তার পরের অক্ষরে ই (হ্রস্ব কিংবা দীর্ঘ) কিংবা ই-কারান্ত, উ-কারান্ত ব্যঞ্জনবর্ণ থাকলেও অ-কারের উচ্চারণ ও-কারের মতো হয়ে যায়। যেমন—অসি (ওসি), গতি (গোতি), মতি (মোতি), পতি (পোতি), যতি (জোতি), সতী (শোতি), ভগ্নি (ভোগনি), লগ্নি (লোগনি), মধু (মোধু), বসু (বোসু), কদু (কোদু), যদু (জোদু), অঙ্গুলি (ওঙ্গুলি), বধূ (বোধু), সমূহ (শোমুহ) ইত্যাদি।

সৌজন্যে : ভাষা শহিদ কলেজ, গাজীপুর


মন্তব্য