kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পতঙ্গ কোনটি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:১৫



পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পতঙ্গ কোনটি?

এমন একটি ড্রাগন ফ্লাই এর কথা ভাবুন যার ডানাগুলো এতটাই বড় যে তা আপনার টেলিভিশনের ২৭ ইঞ্চি স্ক্রিনটি পুরোপুরি ঢেকে রাখবে! ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান্তাক্রুজ এর জীবাশ্মবিদ ম্যাথিউ ক্যালফাম বলেছেন, এ পর্যন্ত যত পোকার জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় জীবাশ্মগুলো ছিল গ্রিফিন ফ্লাই এবং ড্রাগন ফ্লাইয়ের। সূক্ষ্মদর্শী কিছু শারীরিক পার্থক্য এই দুটি প্রজাতিকে আলাদা করেছে।

ক্যালফাম বলেন, মহাজাতি মেগানিউরোপসিস (genus Meganeuropsis) এর সদস্য গ্রিফিন ফ্লাই এখন পর্যন্ত সর্বকালের সবচেয়ে বড় পতঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ডানাগুলো সর্বোচ্চ ২৭ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হতো। এ পোকার সবচেয়ে বড় জীবাশ্মটি পাওয়া যায় ফ্রান্সের কানসাসে। যার বয়স ৩০০ (৩০ কোটি) থেকে ২৮০ (২৮ কোটি) মিলিয়ন বছর।

আধুনিককালের একটি ড্রাগন ফ্লাইয়ের ডানা সর্বোচ্চ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

কিন্তু এই পতঙ্গগুলো ছোট হয়ে এসেছে কেন?

পুর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গবিজ্ঞানী টম টার্পিন বলেছেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। আর সে কারণেই হয়ত তখনকার কীট-পতঙ্গগুলো এত বড় ছিল। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ ক্রমাগত কমে আসার ফলে ওই দানবীয় কীট-পতঙ্গগুলো আর বেঁচে থাকতে পারেনি। আর এ কারণেই হয়ত বেঁচে থাকার তাগিদে বিবর্তনের ধারাবহিকতায় তাদের শরীর সংকুচিত হয়ে আসে।

এ ছাড়া প্রাণিজগতে পাখিদের উত্থানও কীট-পতঙ্গদের দেহ সংকুচিত হয়ে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে বলে ধারণা করা হয়। এই ধারণার সপক্ষে এই বিষয়টিকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়: জুরাসিক যুগের শেষদিকে যখন প্রাণিজগতে পাখিদের উত্থান ঘটে তখন কীট-পতঙ্গদের আকার ছোট হয়ে আসতে থাকে। অথচ তখন বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণও বাড়ছিল। ২০১২ সালে এক গবেষণার পর ক্যালফাম এই মত দেন।

বড় আকারের কীট-পতঙ্গরা এ সময় গাছের ডাল বা মাটি থেকে আকাশে ওড়ার ক্ষেত্রে পাখিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারেনি। এবং পাখিদের সঙ্গে খাদ্য সংগ্রহে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নিজেরাই পাখিদেরই খাবারে পরিণত হয়।

আধুনিক দানবরা
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতঙ্গবিজ্ঞানী ক্যাটি প্রুডিক বলেছেন, এখন সবচেয়ে বড় ডানার অধিকারী পতঙ্গটি হলো মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা 'সুন্দরী সাদা জাদুকরী'। প্রজাপতি জাতীয় এই পতঙ্গগুলোর ডানা সর্বোচ্চ ১০ ইঞ্চি থেকে ১ ফুট পর্যন্ত প্রসারিত হয়।

অন্যদিকে, এশিয়ান অ্যাটলাস পতঙ্গটি আয়তনের দিকে থেকে সবচেয়ে বড় ডানার অধিকারী। এর ডানার আয়তন ৬২ বর্গ ইঞ্চি। যা একটি ডিভিডি বক্সের চেয়েও বড়। ডিভিডি বক্সের আয়তন ৪৪ বর্গ ইঞ্চি।

সবচেয়ে বড় ডানার প্রজাপতির মুকুটটির অধিকারী নিউ গিনির রানি আলেক্সান্দ্রিয়ার পাখির ডানা। এর একটি ডানা ৭ দশমিক ৫ ইঞ্চি থেকে ১১ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়। প্রজাপতিদের মধ্যে পুরুষরা বেশি জাঁকালো, অনেক পাখির মতোই।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুক অফ ইনসেক্ট রেকর্ডস এর বর্ণনা মতে, পৃথিবীর সবেচেয়ে ভারী পতঙ্গটির নাম জায়ান্ট ওয়েটা। রজার প্রিডির বই 'ফ্যাক্ট বাইটস : বাগ বাইটস' এর বর্ণনা মতে, নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী জনগোষ্ঠী মাউরিরা একে 'দ্য গড অফ আগলি থিংস' বা 'কুৎসিতদের ঈশ্বর' বলে ডাকত। বিলুপ্তপ্রায় এই প্রজাতির পতঙ্গ শুধু নিউজিল্যান্ডেই পাওয়া যায়। এটির সর্বোচ্চ ওজন হয় ২ দশমিক ৫ আউন্স। তবে এর চেয়েও বেশি ওজন হয় একটি লার্ভার। ওই দানবীয় গুবরে পোকাটির ওজন হয় সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ১ আউন্স।

বর্তমানে পৃথিবীর সবেচেয়ে লম্বা পোকাটি হলো চ্যানস মেগাস্টিক। মালয়েশিয়ার বোর্নিও প্রদেশের বাসিন্দা এই পোকাদের নারী সদস্যরা লম্বায় সর্বোচ্চ দুই ফুট পর্যন্ত হয়।
সূত্র : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক


মন্তব্য