kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘুমের ওষুধের সঙ্গে আত্মহত্যা প্রবণতার সম্পর্ক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:১০



ঘুমের ওষুধের সঙ্গে আত্মহত্যা প্রবণতার সম্পর্ক

প্রেসক্রিপশনে ঘুমের ওষুধ বিভিন্ন কারণে দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তবে এসব ওষুধের প্রভাবশালী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আগ্রাসী আচরণ, দ্বিধা, বিষণ্নতা, হ্যালুসিনেশন এবং আত্মহত্যাপ্রবণ চিন্তা-ভাবনা মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে দেখা দিতে পারে। এসব ওষুধ এক ধরনের প্রশান্তি দেয়। অনেকটা সম্মোহনের মতো কাজ করে। তাহলে এমন 'সিডেটিভ-হিপ্নোটিক' ওষুধ কেন মানুষের খেত হয়? তা ছাড়া ওষুধগুলো এ ধরনের সমস্যা কি পর্যায়ে নিয়ে যায়?

নতুন এক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে আমেরিকান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রিতে। সেখানে বলা হয়, ঘুমের ওষুধ মানুষের মাঝে আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধি করে। এ সংক্রান্ত চিন্তা-ভাবনার সৃষ্টি হয়। কাজেই ঘুমের জন্য যে ওষুধ দেওয়া হয় তা মানুষের মাঝে আত্মহত্যা প্রবণতা বৃদ্ধি করতে থাকে। এ গবেষণায় মূলত অতীতে বেশ কিছু মেডিক্যাল গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। তবে এখানে ঘুমের ওষুধের অপব্যবহার বা নেশার জন্য ব্যবহার ও আত্মহত্যা প্রবণতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। এ ধরনের ব্যবহারে মানসিক অবস্থা গবেষণায় আনা হয়নি।

ঘুমের ওষুধ ও আত্মহত্যা : নতুন গবেষণায় অতীতের বিভিন্ন গবেষণার সমন্বয় করা হয়েছে। আত্মহত্যা ও আত্মহত্যা প্রবণতার সঙ্গে ১১টি বিভিন্ন ওষুধের সম্পর্কে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। দেখা গেছে, যারা ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অন্যদের চেয়ে ২-২৪ গুন বেশি থাকে। ও ধরনের ওষুধ খাওয়া শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। স্লিপ ওয়াকিংয়ের মতো অস্বাভাবিক আচরণ অনেক সময় এমন প্রবণতাকে সঙ্গ দেয়।

যারা ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন তাদের জন্য... : গবেষণার ফল হুমকিমূলক বলেই মনে হচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, যারা বিভিন্ন কারণে ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন তারা উপকৃত হচ্ছেন না। সঠিক কারণে ঘুমের ওষুধ মানুষের দারুণ উপকার করে। তাই চিকিৎসকরা ঘুমের ওষুধ দিলেও আপনার কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।

১. যদি আপনি বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন, তবে ঘুমের ওষুধ আরো মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। ইনসনমিয়া এবং ডিপ্রেশনের সম্পর্ক মোটেও ভালো নয়। গবেষণায় বলা হয়, বিষণ্নতা এমনিতেই আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি করে। সেখানে ওষুধের যোগ সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। এসব তথ্য জানান এক গবেষক এবং অগাস্টা ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল কলেজ অব জর্জিয়ার সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড হেলথ বিহেভিয়ার বিভাগের চেয়ার ডাব্লিউ ভাগন ম্যাককল। বিষণ্ন মানসিকতায় ঘুমের ওষুধ খেলে মনটা আরো বিষণ্ন হয়ে যায়। আত্মহত্যা প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। অতিমাত্রায় গ্রহণ করা হলে তো বিপদের ঝুঁকি চূড়ান্তে থাকে।

২. ঘুমের ওষুধ গ্রহণ শুরু করার প্রথম কয়েকটি দিন সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে। এ সময় যদি অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় তো সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। গবেষণায় প্রথম কয়েক দিনকেই বিপজ্জনক বলে তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় স্লিপ ওয়াকিং বা মেজাজ বিগড়ে যাওয়া নেতিবাচক লক্ষণ হিসাবে প্রকাশ পেতে পারে।

৩. অন্যান্য ওষুধ বা অ্যালকোহলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়া হলে ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকলেও অ্যালকোহল বা অন্যান্য বিশেষ ওষুধ খাওয়া অবস্থায় ঘুমের ওষুধ এমনি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। তাই চিকিৎসককে জানাতে হবে আপনি আর কোনো ওষুধ খাচ্ছেন কি না।

৪. ওষুধের সঙ্গে কাগজে যে সাবধানতা লেখা রয়েছে তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কিন্তু একে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নিজে বুঝে বেশি ডোজ খাবেন না। অ্যালকোহল পানের পর খাওয়া যাবে না। বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে না জেনে অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে খাবেন না। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ১৫ মিনিট পর ঘুমাতে যান। যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমিয়ে নিন। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য