kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অস্থির কৈশোরই পুঁতে দিচ্ছে বিপথগামীতার বীজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২৫



অস্থির কৈশোরই পুঁতে দিচ্ছে বিপথগামীতার বীজ

মোবাইলফোনের লেটেস্ট মডেল এখন স্কুল শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে। সঙ্গে ট্যাবলেট এবং আরও নানান অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস।

এসব নিজেদের কব্জায় না থাকলে মান যায় যায় অবস্থা।  

এমনই সব বিলাস দ্রব্যের ছোঁয়ায় আরও উদ্দাম, বেপরোয়া হয়ে উঠছে নব্য প্রজন্ম। শিখছে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে। শিক্ষা বা সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেবলই দামী মোবাইল, লাখটাকার মোটর সাইকেল আর বিলাসবহুল গাড়ির প্রতি দুর্ণিবার আকর্ষন যেন উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে যুবসমাজের।  

পরিত্রানের উপায় কী?‌ উত্তর  হয়তো কারোর কাছেই নেই.‌.‌.‌

মনোবিদদের একাংশের অভিমত, এও এক ভয়ঙ্কর রকমের মানসিক অস্থিরতা। যা একদণ্ডও রেহাই দেয় না। একবার দামী গাড়ি বা দামী মোবাইলের ভূত মাথার মধ্যে ঢুকে গেলে সেই ভাবনাই যেন তারিয়ে নিয়ে বেড়ায় নিয়ত। যতক্ষণ না সেটি হাতের মুঠোয় আসছে মন বসে না অন্য কিছুতেই। আর শেষমেশ তা না পেলে?‌ হালের বেশ কয়েকটি ঘটনায় বোঝা গিয়েছে অপরিণত কিশোর মন আত্মহননের পথ বেছে নিতেও পিছপা হয়নি।

এমনই এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সাম্প্রতিককালের ঘটনাগুলোকে বিচার করলে বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে বেড়ে ওঠার সময়টায় অস্থিরমনা এবং অদ্ভুত এক আত্ম অহমিকার বলি হওয়ার জন্যই একালের ‘‌জেনারেশন ওয়াই’‌ ইদানীং এত অসহিষ্ণু এমন নিরাপত্তাহীন।  

আসলে ইদানীংকালে সমাজের বদলে যাওয়া সিস্টেমেরই নির্বোধ এবং অসহায় শিকার!‌ সাধারনের চোখে ‘‌বিপথগামী’‌ এইসব অস্থিরমতি কিশোর-‌ কিশোরীদের বেড়ে ওঠার সময়টায় যে উথাল-‌ পাতাল ঢেউ, যে তীব্র মানসিক সঙ্কট সে কারনেই হয়ত ওরা নিজেদের আবিস্কার করছে ভিন্ন এক সরণীতে। যেখানে সফর শুরু করাটা খুব সহজ কিন্তু গহন অন্ধকারময় যাত্রার মাঝপর্বে যাত্রাভঙ্গ করে শেষে আলোর রাজ্যে ফেরত আসাটা প্রায় অসম্ভব একটা কাজ।   

অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্ব সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মনোরোগ চিকিৎসকরা। এখন মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারেও সন্তান বলতে ওই একটি বা দুটি। তাদের প্রতিপালনে সামান্যতমও ত্রুটি থাকুক এমনটা আর কোন বাবা-‌মাই বা চাইবেন?‌ স্নেহের বশে কৈশোরেই ছেলে-‌ মেয়েদের শখ মেটানোর জন্য দামী মোবাইল বা বিলাস দ্রব্য তুলে দেওয়াটা যে আখেরে বাচ্চাদের ক্ষতিই করছে অনেকেই বোঝেন না। বা বুঝেও বুঝতে চান না। আর সেই প্রবণতাই পরবর্তীতে দানবসম হয়ে গিলতে আসে তার নিরীহ শিকারকে। বলাই বাহুল্য, এক্ষেত্রে ‘‌শিকার’‌ বলতে প্রবল উচ্চাকাঙ্খায় জারিত কিশোর বয়সের ছেলে-‌মেয়েরাই।

কী কী করবেন?

১.‌ ছোট থেকেই সন্তানদের চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করুন। যতটা সম্ভব।
২.‌ অত্যাধিক শাসন নৈব নৈব চ। তা বলে গা আলগাও দেবেন না।
৩.‌ বেশিক্ষণ টি ভি দেখতে দেবেন না। বই পড়ার সুঅভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪.‌ ওদের আরও বেশি সময় দিন। ইদানীংকালে সন্তানরা তাদের চাকুরিরত অভিভাবকদের সঙ্গলাভে মাঝেমধ্যে এতটাই বঞ্চিত যে খুব ছোট বয়সেই বড্ড একাকী, আনমনা হয়ে পড়ে।
৫.‌ আপনি যদি চাকুরিজীবি হন কিছু করার তো নেই। তবে, কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরে আসার পর ছেলে-‌মেয়েদের একটু বেশি সময় দিন। ওদের কথা শুনুন। নিশ্চিত করুন যে ওদের মনে এই ভাবনার জন্ম হচ্ছে না যে ওরা বড্ড গুরুত্বহীন আপনার কাছে।
৬.‌ শাসন করবেন। সে অধিকারও বাবা-‌ মা হিসেবে আপনার রয়েছে। তবে, ওদের সঙ্গে যতটা সম্ভব খোলা মনে মিশুন। নানা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা করুন। ওদের মত জানতে চান।
৭.‌ যতই সমস্যা থাকুক অফিস বা বাড়ির টেনশন থাকুক প্লিজ, মুখের হাসিটা হারিয়ে ফেরবেন না। বাবা-‌মায়ের মুখে হাসি দেখলে ওদের মনেও তার ইতিবাচক একটা প্রভাব পড়ে।
৮.‌ বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশায় ‘‌রেশনিং’‌ জারি করুন। শুনতে খারাপ লাগলেও ঠিক এটাই করুন। সতর্ক থাকুন খোঁজ নিন, কার কার সঙ্গে ওরা মিশছে। সৎসঙ্গ ভবিষ্যতে আলোর পথের দিশারী হয়ে উঠতেই পারে।
৯.‌ ছেলে-‌ মেয়েদের কোনও বিশেষ বন্ধু থাকলে তাকে প্রয়োজনে বাড়িতে ডেকে আলাপ করুন। ছেলে বা মেয়ের হঠাৎ করে পাতিয়ে ফেলা সম্পর্ককে অভিভাবকসুলভ অধিকারে ধুলিসাৎ করতে চাইলে বিপরীত ফলের আশঙ্কা থেকেই যায়।
১০.‌ দামী মোবাইল বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস সম্পর্কে সন্তানদের বাড়তি মোহ জন্মালে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ওদের বোঝান, এই ধরনের বিলাস দ্রব্য সাময়িক পরিতৃপ্তি দিলেও নিজের পায়ের তলায় জমিটা খুঁজে নেওয়াই জীবনের কাঙ্খিত লক্ষ্য হওয়া উচিত।  

- আজকাল


মন্তব্য