kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেড ইভান্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ও পরবর্তী ঘটনা...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:২৭



শেড ইভান্সের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ও পরবর্তী ঘটনা...

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের একজন পরিচিত ফুটবল খেলোয়াড় শেড ইভান্স। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয় ২০১১ সালে।

এক নারী তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের প্রিমিয়ার ইন হোটেলে অবস্থানকালে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তার প্রথমে পাঁচ বছর জেল হয়। তবে ঘটনাটি সেখানেই থেমে থাকেনি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টেলিগ্রাফ। \"\"
ম্যানচেস্টার সিটি, নরউইচ সিটি, শেফিল্ড ইউনাইটেড ও ওয়েলস ন্যাশনাল টিমের কোনো না কোনো পর্যায়ে খেলেছেন ইভান্স। এ কারণে তার ভক্তের সংখ্যাও কম নয়। তবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জনমতও কম নয়। ফলে তার ধর্ষণকাণ্ড যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত আলোচিত ধর্ষণ ঘটনা হয়ে ওঠে।
২০ এপ্রিল ২০১২ সালে ইভান্স ১৯ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী প্রমাণিত হন। এরপর তার পাঁচ বছরের জেল হয়। তবে ৬ নভেম্বর ২০১২ সালে ইভান্স এ শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন। তবে পরবর্তীতে তার শাস্তি কমিয়ে আড়াই বছর করা হয়।
জেল থেকে বের হওয়ার পর আবার ফুটবল খেলবেন, এমনটাই আশা করছেন অনেকে। অনেকে আবার তার খেলার বিরুদ্ধেও মত প্রকাশ করেন। এমনকি দেড় লাখ মানুষ তার খেলার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর দেন। \"\"
বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। কারণ নানা লঘু অপরাধেও বহু খেলোয়াড়কে অতীতে ফুটবল মাঠ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধীকে কি ফুটবল মাঠে খেলতে দেওয়া যায়? ইভান্স সর্বশেষ শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছেন। এবার তার সঙ্গে পরবর্তী বছরের জন্য চুক্তি করা হবে কি না, এ বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও প্রেসে তারা মতামত জানতে চায় তার ক্লাব।
ফুটবল জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত বহু মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করেন। অনেকে বলছেন শাস্তি ভোগের পর ফিরে আসায় তিনি নতুন জীবন শুরু করার অধিকার রাখেন। অনেকে আবার তাকে ফুটবল মাঠে কোনোভাবেই দেখতে রাজি নন। এভাবে শেষ পর্যন্ত তার বিরোধী পক্ষই জয়ী হয়। শেষ পর্যন্ত তার কোনো ক্লাবে খেলার বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়।
অবশ্য ফুটবলার শেড ইভান্স বললেন, ‘আমি আমার প্রেমিকার সঙ্গে প্রতারণা করলেও তাকে ধর্ষণ করিনি। তার সঙ্গে যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা আমার প্রেমিকার ইচ্ছাতেই হয়েছে। ’
পরে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে শেড ইভান্স দৈনিক সানডে মিররকে বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান,প্রেমিকা নাতাশা ম্যাসি আমার পাশে রয়েছে এখনও। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি। ঘটনাটা ছিল স্বেচ্ছাকৃত। তবে এ ঘটনার জন্য আমি লজ্জিত। ’
২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের ক্রিমিনাল কেস রিভিউ কমিশনে (সিসিআরসি) ইভান্স অভিযোগ করেন যে তিনি ন্যায়বিচার পাননি। আর এ বিষয়টি নতুন করে ১০ মাসের তদন্তের ভিত্তিতে রিভিউ করা হয়।
২০১৬ সালের ২২ মার্চ ক্রিমিনাল কমিশনের তদন্তের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ আদালতে বিষয়টির আপিল করা হয়। সবশেষ ১৪ অক্টোবর দুই সপ্তাহের বিচারকাজ শেষে শেড ইভান্সকে নির্দোষ ঘোষণা দেওয়া হয়।
নির্দোষ ঘোষণার পর তিনি আবার তার ক্লাব চেস্টারফিল্ডের সঙ্গে ১২ মাসের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
শেড ইভান্সের এ নির্দোষ ঘোষণার পরও বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি। বিষয়টি নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে যে, তাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া উচিত কি না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে নির্দোষ হিসেবেই মানতে হচ্ছে। তবে অনেকেই বলছেন, ধর্ষণের মতো অভিযোগ যার বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নারী গুরুতর ঘটনা না ঘটলে ধর্ষণের অভিযোগ করেন না। আর এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।


মন্তব্য