kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতি ৫৩৩ জনের ১ জন মা যে মরণঘাতী রোগে আক্রান্ত হন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৪০



প্রতি ৫৩৩ জনের ১ জন মা যে মরণঘাতী রোগে আক্রান্ত হন

২০০৯ সালে ড. মায়া অ্যাডাম (৩৬) অপ্রত্যাশিতভাবেই তৃতীয় সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। এতে তিনি ও তাঁর স্বামী বিস্মিত হন। আগের দুটি সন্তান হওয়ার সময় কোনো ঝামেলা না হলেও এবার বেশ জটিলতায় আক্রান্ত হন মায়া। তার অপর দুটি সন্তান কিরন (১১) ও মিশা (৮)।

গর্ভসঞ্চারের ২০তম সপ্তাহে আলট্রাসাউন্ড করার পর দেখা যায় তিনি প্ল্যাসেন্টা প্রেভিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ তার গর্ভের ফুল তার জরায়ুর প্রবেশ পথটি ঢেকে আছে। যার ফলে রক্তপাত এবং অন্যান্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

অবস্থা দেখে তার ডাক্তার তাকে ভারী ব্যায়াম করতে নিষেধ করেন। আর রক্তপাত হলেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া পুরোপুরি বিশ্রামের জন্য দীর্ঘদিন বিছানায় কাটাতে হতে পারে বলেও জানান তার ডাক্তার।

৩০তম সপ্তাহে তাকে বিছানায় শুয়ে থেকে বিশ্রাম করার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। এ সময় পুনরায় তার আলট্রাসাউন্ড করা হলে দেখা যায় যে, তার গর্ভের ফুলটি এবার তার জরায়ুর মুখকেও ঘিরে ফেলেছে। এই অবস্থাকে বলা হয় প্ল্যাসেন্টা অ্যাক্রেটা। এতে তার মৃত্যু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

প্ল্যাসেন্টা অ্যাক্রেটা কী?
এটি এমন একটি অবস্থার নাম যখন গর্ভফুলের একটি অংশ বা পুরোটাই জরায়ুর দেয়ালে লেপ্টে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রতি ৫৩৩ জন গর্ভবতী মায়ের ১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আমেরিকান জার্নাল অফ অবসটেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজিতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়।

গর্ভের ফুল এমনকি জরায়ুর মাংসপেশিকেও আক্রান্ত করতে পারে। এটি জরায়ুর দেয়াল ছেদ করে ব্লাডার বা অন্ত্রেও আঘাত হানতে পারে (প্ল্যাসেন্টা পারক্রেটা)। যার ফলে ব্লাডার বা অন্ত্রের একটা অংশ কেটে ফেলারও দরকার পড়তে পারে। এতে এমনকি রক্তস্রাবে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এই সমস্যায় আক্রান্ত ৯০% নারীরই ব্লাড ট্রান্সফিউশন করাতে হয়। এতে আক্রান্তদের একটু আগেভাগেই সন্তান প্রসবের পরামর্শ দেওয়া হয়। প্ল্যাসেন্টা প্রেভিয়াতে আক্রান্ত নারীদের প্ল্যাসেন্টা অ্যাক্রেটাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ৫%।

১৯৯৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে এ রোগে আক্রান্ত নারীদের ৭ শতাংশেরই মৃত্যু হয়। কিন্তু এখন উন্নত প্রযুক্তির বদৌলতে এ রোগে খুব বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনা।

সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা বেড়ে চলায় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩% শিশুই জন্ম নেয় সিজারের মাধ্যমে।

জরায়ুর সার্জারি করা হয়েছে এমন নারীদের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫%। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে, পুর্বে সন্তান জন্মদান, জরায়ুর টিউমার, অ্যান্ডোমেট্রিয়াল অ্যাবলেশন সার্জারি, অগ্রগামী মাতৃ বয়স, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এবং ধূমপান।

৩৭তম সপ্তাহে অ্যাডামকে সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্তান প্রসবের পর ডাক্তাররা তার জরায়ু অপসারণের জন্য তিন ঘণ্টা ধরে অপারেশন করেন। ওই তিন ঘণ্টাই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করেন ডাক্তাররা।

অ্যাডামের দেহে ২২ ইউনিট রক্ত ট্রান্সফিউশন করে সঞ্চালিত করা হয়। অ্যাডাম নিজে এবং তার স্বামীও ভেবেছিলেন তিনি হয়ত আর বাঁচবেন না। কিন্তু ভাগ্যজোরে তিনি এ যাত্রায় বেঁচে যান।

অ্যাডামের তৃতীয় সন্তান মিলানের বয়স এখন ৬। মিলানও বেঁচে থাকার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ধরনের শিশু হিসেবে গড়ে উঠেছে।
সূত্র : ফক্স নিউজ


মন্তব্য