kalerkantho


বাউল সম্রাট লালনের ৩ দিনব্যাপী স্মরণোৎসব চলছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৫৮



বাউল সম্রাট লালনের ৩ দিনব্যাপী স্মরণোৎসব চলছে

পহেলা কার্তিক রবিবার থেকে কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়ায় শুরু হয়েছে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর ১২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। সন্ধ্যায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৩ দিনের এ স্মরণোৎসব উদ্বোধন করেছেন। এবার লালন স্মরণোৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের পাশাপাশি তার সঙ্গে আসা বাংলাদেশে নিযুক্ত ইটালিয়ান রাষ্টদূত মারিও পালমা। তারা খুশি এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে।

বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর ১২৫ বছর আগে এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। লালন মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং লালন একাডেমির তত্ত্বাবধানে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ার লালন আখড়া অসংখ্য লালন ভক্ত-অনুসারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর গান, বাউল মেলা, অলোচনা সভা ও সাধু সংঘের মধ্যে দিয়ে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী চলছে এই উৎসব।

এবারের মেলায় ভিন্নতা উপলব্ধিও করেছেন এ অনুষ্ঠানে আগত ভক্ত-অনুসারীরা। পূর্ণিমাকে ঘিরে দৌল পূর্ণিমার অনুষ্ঠান হলেও এবারের প্রয়ান দিবসে পূর্ণিমার আবির্ভাব ঘটে এই মরমী সাধকের প্রয়ান দিবসের স্মরণোৎসবে। তাই তার ভক্ত-অনুসারীদের হৃদয়ে এ যেন এক নতুন মাত্রা। এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন লালন গবেষক ফকির হৃদয় শাহ ও লালন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির মোহম্মদ আলী শাহ। আত্মিক প্রশান্তি নিয়ে তারা লালন আখড়া বাড়িতে এসে বেশ খুশি। আর এবারের সমাগমকে অন্য বারের চেয়ে বেশি মূল্যায়িত করেছে মাজারে থাকা ভক্ত-অনুসারীরা। কুষ্টিয়ার কোলঘেঁসা কুমারখালী ছেউড়িয়ার কালী নদীর তীরেই লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে বসেছে লালন মেলা। রাতে লালন মঞ্চে চলছে সাঁইজির জীবন-কর্ম নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মরমী সাধক লালনের জীবন কর্ম, জাতহীন মানবদর্শন, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার আদর্শিক বিষয় নিয়েই চলে আসছে প্রতিবছর এ স্মরণোৎসব। বাংলা ১২৯৭ এর পহেলা কার্তিক ইংরেজি ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ সালে কুষ্টিয়া শহরতলীর ছেউড়িয়ার লালন সমাধি প্রাঙ্গণে মরমী সাধক ফকির লালন শাহর শেষ শয্যা রচিত হয়। এর পর থেকেই প্রতিবছর তার তিরোধান দিবস পালিত হয়ে আসছে। আবার সার্বিক স্মরণোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। এমন দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. জহির রায়হান এবং পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম।

 


মন্তব্য