kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুবাই এর বিমানবন্দরগুলো এত সুন্দর কেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৪৯



দুবাই এর বিমানবন্দরগুলো এত সুন্দর কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, "আমাদের বিমানবন্দরগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মতো হয়ে গেছে। অন্তত দুবাই, কাতার বা চীন থেকে আসার পর আমাদের বিমানবন্দরগুলোকে এমনই মনে হবে।

আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ হয়ে গেছি। "

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সত্যিই দেখতে খুব সন্দর। চলতি বছরের শুরুর দিকে এতে চতুর্থ একটি প্ল্যাটফর্ম খোলা হয়েছে। ফলে এটি এখন কলেবরের দিক থেকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরকেও ছাড়িয়ে গেছে। দুবাইয়ের প্রতি ২০টি ঘরের একটি ঘর মিলিয়ন ডলারের মালিক।

দুবাই বা উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দরের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোর মান কম হওয়ার স্পষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোর পরিচালনায় রয়েছে, জট পাকানো কিছু স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং আধা ব্যক্তিমালিকানাধীন পরিচালনা বোর্ড। এই বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন বা বিস্তারের কোনো প্রচেষ্টাও যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ প্রধান অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মতোই নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়। রাজনৈতিক স্বার্থ, করসংক্রান্ত জটিলতা এবং তহবিল সংকটসহ প্রভৃতির মুখোমুখি হতে হয়।

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার পেট্রো রাজতন্ত্র শাসিত। চীনের ক্ষমতায় আছে কতৃত্ববাদী পুঁজিবাদি শাসকগোষ্ঠী। মার্কিন ধনতান্ত্রিক শাসকশ্রেণির চেয়ে এরা অনেক বেশি কেন্দ্রীভূতভাবে অর্থ ব্যয় করতে পারেন। ফলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে জটিলতাও হয় কম।

এ ছাড়া এসব দেশে শ্রমিকদের অমানবিকভাবে পরিশ্রম করিয়ে নেওয়া যায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আরব আমিরাতের ৯০% শ্রমিক বিদেশ থেকে আসা। তারা শুধু তাদের আমদানিকারকদের জন্যই কাজ করতে পারেন।

তাদের সর্বনিম্ন মজুরির কোনো নিরাপত্তাও নেই। গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকবার সময়মতো মজুরি না দেওয়ার কারণে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল দুবাইয়ে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে দুর্ঘটনা এবং অন্যান্য কারণে শ্রমিকদের মৃত্যুর সঠিক হার নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তবে কাতারের বিশ্বকাপ ফুটবল আসর আয়োজনে বছরে ৬০০ শ্রমিক মারা যান। দুবাইয়ে ভারতীয় শ্রমিকদের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে দুজনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। চীন সরকারও শ্রমিক আইনগুলো ঠিকমতো মেনে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ট্রাম্প হয়ত কর্তৃত্ববাদী প্রশাসনের অধীনেই বৈষয়িক উন্নতি এবং অগ্রগতি দ্রুত হয় বলে ইঙ্গিত করতে চাইছেন। কিন্তু ট্রাম্প যদি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী শাসক হন তাহলে গণতন্ত্রের মৌলিক প্রতিশ্রুতিগুলোর লঙ্ঘন করেই শুধু অগ্রগতি সাধন সম্ভব।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য