kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাসপাতালের বিছানা থেকে মারাত্মক সংক্রামক ডায়রিয়া ছড়ানোর ঝুঁকি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৫২



হাসপাতালের বিছানা থেকে মারাত্মক সংক্রামক ডায়রিয়া ছড়ানোর ঝুঁকি

হাসপাতালের কোনো বিছানায় আগের রোগীকে যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় তাহলে পরের রোগীর মারাত্মক সংক্রামক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। নতুন এক গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে।


এভাবে ডায়রিয়ার সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে প্রতি বছর ২৭ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদেরকে এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় বেশি। অ্যান্টিবায়োটিক অন্ত্রের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। ফলে ডায়রিয়ার সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার (ক্লোসট্রিডিয়াম ডিফিসিল, সি. ডিফ) বিস্তার ঘটে।
নতুন ওই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, “কোনো রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র পরিবেশ পরিবর্তিত হয়। ফলে ডায়রিয়ার সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে এমনটাই লিখেছেন গবেষকেরা।
নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের নেতৃস্থানীয় গবেষক ড. ড্যানিয়েল ফ্রিডবার্গ বলেন, “অন্যান্য গবেষণায়ও দেখা গেছে, অ্যান্টিবায়োটিকের দলগত প্রভাব পড়তে পারে। অন্য কথায়, যারা নিজেরা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেননি তাদের ওপরও অ্যান্টিবায়োটিকের কুপ্রভাব পড়তে পারে। ”
২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ফ্রিডবার্গ এবং তার সহকর্মীরা ১ লাখেরও বেশি রোগীর ওপর গবেষণা চালান। গবেষণায় দেখা গেছে, আগের রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া না হলে বা আগের রোগী ২৪ ঘন্টারও কম সময় ধরে বিছানায় থাকলে সে বিছানার পরের রোগীদের সংক্রামক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে মাত্র ১ শতাংশ।
তবে আগের রোগীকে যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় তাহলে পরের রোগীর সংক্রামক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২২ শতাংশ। অবশ্য, আগের রোগীর অন্য কোনো বিষয়ই এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ভুমিকা পালন করে না।
রয়টার্স হেলথকে ইমেইলে ফ্রিডবার্গ জানান, দৃশ্যমাণ কোনো লক্ষণ ছাড়াই লোকে সি ডিফ. ভাইরাস বহন করতে পারে। এরপর ওই রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে সি ডিফ. ভাইরাস তাদের অন্ত্রের নালিপথে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেখান থেকে এই ভাইরাস বিছানা, পাশের টেবিল, মেঝে এবং অন্যান্য জায়াগাও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এর ফলে ওই কক্ষে প্রবেশকারী পরের রোগী সি ডিফ. ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। আর দুজন রোগীর মধ্যবর্তী সময়ে কক্ষটি জীবাণুমুক্ত করাও সম্ভব নয়। কারণ সি ডিফ. জীবাণু খুবই বলিষ্ঠ। সি ডিফ. জীবাণুকে মারতে হলে ব্লিচিংযুক্ত পরিষ্কারক পদার্থ দিয়ে কক্ষটি দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হয়ে।
আগের রোগী অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করে থাকলে পরের রোগীর সি ডিফ. ভাইরাসে আক্রান্ত্র হওয়ার ঝুঁকি থাকে ২২ শতাংশ। কিন্তু ওই রোগী যদি নিজে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন তাহলে তার সি ডিফ. ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি আরো চারগুন বেড়ে যায়।
অন্য রোগীরা, যেমন, একই ওয়ার্ডের অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারকারী রোগীরাও সি ডিফ. ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারেন।
ফ্রিডবার্গ বলেন, যেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই সেসব ক্ষেত্রে ডাক্তার ও রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক এড়িয়ে চলাই উত্তম। আর প্রায়ই স্পষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইলিনয়ের আরগোনে অবস্থিত আরগোনে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির জ্যাক অ্যা. গিলবার্ট বলেন, “আমার ধারণা এই সাক্ষ্য-প্রমাণকে শুধু এমন একটি অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ যা আরো অনুসন্ধানের দাবি রাখে। এই গবেষণা ফলাফলকে নীতির পরিবর্তনে ব্যবহারের বিষয়টি লোভনীয় তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ পরমর্শযোগ্য হবে কিনা তা নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
সূত্র: দ্য হাফিংটন পোস্ট


মন্তব্য